সাঁকোর নীচে শান্তজল – হোসাইন কবির

শেয়ার করুন

পথে পথে এত কথার ট্রাফিক জ্যাম
ভদ্রলোকের প্রগলভতা স্তুতিবাক্য শোকসভা
আমার ফিরতে দেরি হচ্ছে।

মা, তোমার মনে আছে!
বাড়ি ফিরবার পথে দক্ষিণের সেই পুরাতন সাঁকো,
সাঁকোর নীচে শান্তজল – পূর্বপুরুষের
আজও রয়েছে কী অবিকল!

মা, আমার বড্ড ইচ্ছে
আজও একবার স্কুল ফাঁকি দেব
পথে প্রান্তরে মুক্ত মাঠে সময় বিলিয়ে উদার হস্তে বাড়ি ফিরব
আর বাবার কিনে দেয়া সেই প্রথম স্কুল ব্যাগটিতে
তোমার জন্য ভরে আনব
ঘোর জঙ্গলের ফলমূল, আরও কত কী!
তবে তোমার কাছে ফিরবার আগে
একটু সাঁতার কাটব
সাঁকোর নীচের সেই শান্তজলে
আমাদের সব পূর্বপুরুষের মতো
তরুণ দুরন্ত এক নাবিক

জানি,
আমার দেহের মাপের চেয়ে
জলের গভীরতা কমেছে অনেক,
কিন্তু মা
আজও তা মনের কাছে বিস্তীর্ণ প্রান্তর!

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • কৌরব বংশ – অভি গুপ্ত

    পৃথিবীর চারদিকে আজও তারা আছে যাদের আঙ্গুলী হেলনে বাকী সব বাঁচে। রাজনীতি নয় শুধু তাদের সৈকতাবাস ধর্ম ও দেয় তাদের কাঙ্খিত বিশ্বাস। রুক্ষতার ধ্বজা ওড়ে প্রান্তিক কামনায়। জীবনের মদিরা আকন্ঠ পান করে অসাম্যতার হার পরে উঠে আসে যারা। বৈধ অসুখী হয়ে যারা অাজন্মকাল ধংসের মাতোয়ারায় মগ্ন হয়ে রয়। সকলেই বাঁচতে চায় আপন মহিমায়। কিছু জন…

  • |

    ওমপ্রকাশ বাল্মীকির কবিতা – অনুবাদ: শিবু মণ্ডল

    ওমপ্রকাশ বাল্মীকি: কবি পরিচিতি হিন্দি ভাষার বিশিষ্ট কবি ওমপ্রকাশ বাল্মীকির জন্ম ৩০ জুন, ১৯৫০ সালে উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগর জেলার বারলা গ্রামে। প্রকাশিত কবিতার বই—‘সদিও কা সন্তাপ’, ‘বস্‌ বহুত হো চুকা’, ‘অব্‌ অউর নেহি’, ‘শব্দ্‌ ঝুট নেহি বোলতে’ ও ‘নির্বাচিত কবিতা-সংগ্রহ’। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ—‘সলাম’, ‘ঘুস্‌পেটিয়ে’, ‘আম্মা এন্ড আদার স্টোরিজ্‌’, ও ‘ছত্রি’। প্রবন্ধ সংকলন—‘দলিত সাহিত্য কা সৌন্দর্যশাস্ত্র’, ‘মুখ্যধারা অউর…

  • অবসাদ – তাপসকিরণ রায়

    হারাতে হারাতে আর অবসাদ নেই–চেনা জানারা ক্ৰমশ হারিয়ে যাচ্ছে অন্যপ্রান্তে…  এক মুখ দাড়িতে তোমায় অচিন লাগতেই পারে !কোথায় সরে যেতে চাও তুমি ?স্টেশনের সিগনালে তাকিয়ে আছে গাড়ি।একটা সকাল যেন কতকাল দেখিনি !হারিয়ে হারিয়ে ক্ৰমশ নিজের দিকে এগিয়ে আসছি।আগামী খরার ফাটলে বৃষ্টির অবসাদ দেখি।দুরন্ত ছেলেটা কেমন দম হারিয়ে থমকে যায় !কখনও চেনা পৃথিবী হারিয়ে যায়–কুয়াশা ও…

  • |

    সে এক একাগ্র শীতের কথা – অতনু বন্দোপাধ্যায়

    ‘ঠিক বেড়িয়ে যাবার মুখে জ্যামিতি ভাঙল বড় একটা বায়ুরেখা’ বারীনবাদের কোন শিষ্টাংশ নেই। কারণ এটা কোনো বাদই নয়৷ এটা একটা প্ৰকরণ৷ টুলস। যা কেউ ব্যবহার করতেই পারে নাও করতে পারে৷ এই প্রক্রিয়া কোনো ইজম এর ধার ধারেনি কোনোদিন তা বারীনের কবিতা পড়লেই স্পষ্ট বোঝা যায়৷ চেতনার ইঙ্গিত থাকে বলেই তার বহতা থাকে৷ বারীন সেটাই বলতে…

  • অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

    বিধিনিষেধ ১৪৪ দৃশ্য শেষ। এইবার কান্না শুরু হবেকে কেমন করে কাঁদবে—তারই নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক। আমপাতা এসে গেছে, জামপাতা এসে গেছে, এমনকি বটপাতা–অশ্বত্থপাতাও এসে গেছে, যার ওপর যেমন নির্দেশ সে সেই পাতায় মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকুক। জীবনের সব কান্নাই শিল্প। মনে রাখবেন, সিগারেট খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর আগুন জ্বালানোও তেমন দেশের পক্ষে ক্ষতিকর— অনুগ্রহ করে—কেউ আগুন জ্বালাবেন না। কপাল ১৬ ঘণ্টা…

  • জাগরণ – দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    সৃষ্টি-সেরা নারী-রে তুই, তবুও অনাহূত, বোঝা ভেবে আজন্ম অপমান, আজও অব্যাহত। মাটির প্রতিমা পুজিতা হন, জ্যান্ত প্রতিমা লাশ, বিকৃত পুরুষ, বিকৃত বাসনা, ঘটায় সর্বনাশ। পুরুষ-জাতির ভোগ্যা হয়ে, হারাস নিজ শরীর, মৌন পৃথিবী দেখে শুনে, স্বার্থ মগ্নেই বধির। তিন কিংবা তিরাশি হোক, কেউই পেলনা ছাড়, মানবরূপী দস্যু পশুর, অবাধ অত্যাচার। ‘ধর্ষিতা’ তকমা নিয়ে-রে তুই, সম্মান খুঁজিস…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *