এক এবং অনেক – শৌর্য চৌধুরী

এক এবং অনেক – শৌর্য চৌধুরী

“পূর্ণিমার রাত। কী কাকতালীয়! পুরনো দিল্লীর সেই অদ্ভুত রাতটাতেও চাঁদ আকাশে স্বমহিমায় ছিল। তবে তাকে দেখার অবকাশ আমার ছিল না। ভিড়ের মধ্যে লোকটাকে তাড়া করতে সমস্যা হচ্ছিল খুবই। কিন্তু সব পরিস্থিতির জন্যেই আমরা ট্রেনিং পাই। আমরা কারা? সেটা এখানে লেখা যাবে না্। মানে এই ডাইরিতে।  কাজার একটা ভাঙ্গাচোরা রেস্টুরেন্টের কোণে বসে লিখছি এসব। ও, ওপরে…

তবু শোন এ মৃতের গল্প – মালবিকা মিত্র

তবু শোন এ মৃতের গল্প – মালবিকা মিত্র

(১) হাওড়া জেলা হাসপাতালের লাশকাটা ঘরের সামনে দিয়ে দ্রুত হাঁটছিলাম। জায়গাটা আমার এমনিতেই পছন্দের নয়। ফরম্যালিনের গন্ধ আর অদ্ভুত নাম না জানা ওষুধের গন্ধে ম ম করে জায়গাটা সর্বক্ষণ। গা গুলিয়ে ওঠে। অনেকদিন আগের প্রায় ফিকে হয়ে আসা স্মৃতিতে নতুন করে রঙের পোচ পড়ে। ভোটার লিস্টের সামারি রিভিশনের কাজ জোর কদমে চলছে। তাই আপাতত আন্দুল…

যদি নির্বাসন দাও – মালবিকা মিত্র

যদি নির্বাসন দাও – মালবিকা মিত্র

তিতি অরণ্যের বুক চিরে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে… পিঠের ঝুড়িতে উপচে পড়ছে মাইরা শাক, বিরসাই, চিরুসাই শাক, দাংনিং, বুরিং ইত্যাদি… আর আছে কমলালেবু… ভুটান পাহাড়ের থেকে আনা মিষ্টি রসালো কমলালেবু… নিজেদের খাবার জন্য আনা জিনিসগুলো নামিয়ে তারপর কমলালেবু নিয়ে বসবে মাদারীহাটের বাজারে… দেরি হলে খদ্দের পাবে না…ছুটতে শুরু করে ওরা… কবে থেকে ছুটছে? “এরা বড় অদ্ভুত…

মুখাবয়ব: একটা সময়ের বিবরণ – গৌতম চক্রবর্তী

মুখাবয়ব: একটা সময়ের বিবরণ – গৌতম চক্রবর্তী

একটা এ ফোর সাইজের সাদা কাগজ। কাগজের তিন ভাগের দু-ভাগ কী তারও বেশি জায়গা জুড়ে রয়েছে মাঝবয়সি এক মানুষের মুখ। মুখের পেছনে এক সীমাহীন দেয়ালের আভাস আর তার পাশে একটা বন্ধ করা জানলার অর্ধেক দৃশ্যমান। মাঝবয়সি মানুষটার মুখ একটা ফুলদানির ওপর বসানো আর তার বাদবাকি শরীর একগুচ্ছ নেতিয়ে পড়া ফুলের ডাঁটির মতন ফুলদানির মধ্যেকার অন্ধকার…

কাটমানি – একলব্য হেমব্রম

কাটমানি – একলব্য হেমব্রম

আষাঢ় মাস শেষ হলেও বর্ষা শুরু হল না, জ্যৈষ্ঠের তীব্র তপ্ততারও অবসান হওয়ার বিন্দুমাত্র লক্ষণ নেই। এখন বৃষ্টিই ভরসা, চাষিরা প্রায় সকলেই আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন। কালু মুরমু প্রান্তিক চাষি। তিন বিঘে জমি ভাগে চাষ করে। এই জমি বর্গা রেকর্ড করার ইচ্ছা না থাকলেও নেতাদের চাপে বর্গা করতে বাধ্য হয়েছে, কারণ তখন “লাঙ্গল যার জমি তার”…

মলাট – সঞ্জীব নিয়োগী

মলাট – সঞ্জীব নিয়োগী

মলাট(গ্রামের দিকে যেতে পারি, চোখ মারতে পারি) “সজ্ঞানে অনেক কিছু অস্বস্তিকর। ছলে-বলে শরীর, যথা-কৌশল। পারবেন, দেখুন। মনের কাহিনি অবিশ্বাস্য; সেখানে একজন রজ্জু বিষয়ক জ্ঞানী অন্য কোনও থাম-বিশেষজ্ঞ কে কুলো সম্পর্কে নিঃসন্দেহ আরেক পণ্ডিত বিষয়ে অবহিত করেন। সমস্ত অধিকার ছেড়ে দিলে যেভাবে আপনাকে ধন্যবাদ দিতে পারে লোলুপ মাথাগুলো, সেইভাবে কোনও দিন কথা বলে দেখবেন, আরাম পাবেন।…

মাছ ভর্তা – নীলকমল ব্রহ্ম অনুবাদ: তপন মহন্ত
|

মাছ ভর্তা – নীলকমল ব্রহ্ম অনুবাদ: তপন মহন্ত

[নীলকমল ব্রহ্ম (১৯৪৪-১৯৯৯): বোড়ো সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বাধিক ছোটোগল্প রচয়িতা নীল কমল ব্রহ্ম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একজন শক্তিমান কবিও। বোড়ো সমাজে তিনি সাহিত্য সম্রাট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর বাস্তবধর্মী ছোটোগল্পের চরিত্রগুলি চিন্তায় চেতনায় নতুন যুগের প্রতিনিধি। অসমিয়া অনুবাদ ‘মাছর পিটিকা’ (না বাথৌন) গল্পটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন তপন মহন্ত। বোড়ো সমাজের প্রথা অনুযায়ী মিলনরত মাছ খাওয়া…

ডাহুকের আড়ালে –  বনমালী মাল

ডাহুকের আড়ালে – বনমালী মাল

                              হরির হাঁপানি আছে। মারণ হাঁপানি। রাত্রির মাঝ প্রহর পেরিয়ে যাওয়ার পর পরই হরি ঘরের পেছন দিকে একটা ত্রিপল ঘেরা বাঁশের পাটাতনের উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পেচ্ছাব করে। প্রায় দিনই করে। পা গুণে গুণে বড়ো জোর দশ থেকে বারো পা। আবার বিছানায়…

ছাপ – ফুবোকু কোজাকাই  অনুবাদ: ড. পূরবী গঙ্গোপাধ্যায়
|

ছাপ – ফুবোকু কোজাকাই অনুবাদ: ড. পূরবী গঙ্গোপাধ্যায়

মূল জাপানি থেকে বাংলায় অনুবাদ: ড. পূরবী গঙ্গোপাধ্যায় [ফুবোকু কোজাকাই ১৯১৭ সালে তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯২০ সালে ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে দেশে ফিরলে তাকে অধ্যাপক করা হয় এবং পরের বছর ডক্টরেট প্রদান করা হয়। কিন্তু ১৯২২ সালে, তার স্বাস্থ্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। ফুবোকু বিভিন্ন রকমের উপন্যাস লিখলেও তিনি প্রধানত…

প্রজ্ঞাদ্রুমের কথা – জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

প্রজ্ঞাদ্রুমের কথা – জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

সেই অঞ্চলে তুষারপাত দেখতে কোনো পর্যটক আসত না। সেই প্রবল আর দীর্ঘমেয়াদী তুষারপাত শুরু হওয়ার আগেই অঞ্চল ত্যাগ করে পাহাড়ের উপত্যকায় নেমে আসতে চাইত অঞ্চলের মানুষ।  চায় অনেকেই, পারে আর কজন?  যে সব দোতলা কাঠের বাড়ি, সাজানো বাগিচা দিয়ে ঘেরা বিলাস-কুটির ছেড়ে চলে যেত অবস্থাপন্নরা… তাদের বাড়ির চিমনি দিয়ে আর ধোঁয়া বেরোতে দেখা যেত না।…