একুশ প্রাণহরা এক আকাশ – রিজোয়ান মাহমুদ

শেয়ার করুন

বায়ান্নর ঘুড়িটি আমার ছিল।
রক্তঝরা মাটির চিৎকারে জন্মের ফাগুন — সে-ও
আমাদেরই ছিল। ভাষা সে আমার মা বেঁধেছে বর্ণের অনুরাগ। ভাষাকে দেখেছি অর্থাৎ আমার মা’কে হেঁটে যেতে দেখেছি গহীন অরণ্যের দিকে। ভাষা আকাশের বুকে কবুতরের পালক হলে উড়িয়ে দিয়েছি মেঘ ও রৌদ্রে।
জব্বার ও বরকত সালাম রফিক-এর ক্ষত বুক লাল অক্ষরের রোদ নিয়ে বসে আছে সারাদিন — ওঁরা ভাষার সন্তান! আমি শুধু দেশই খুঁজেছি একুশের রক্তাভ ধ্বনিতে,,, 
তিলপর্ণিকা আহা! সে এবার ফুটবে একুশের জলে! আমার পরিচয়ের খাতা বাংলাফুল!!   

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • রাজেশ্বরী ষড়ংগী-র পাঁচটি কবিতা

    শব্দপ্রিয় পাখি পারানি এমন হোক, মধুকণ্ঠ গানশান্ত টেবিল জুড়ে পড়ে থাকে কিছু অভিমান তোমার নক্ষত্র খুলে পুড়ে যাচ্ছে আগুনের দেশবিষন্ন ছাই,প্রতি রাতে জেগে উঠি ম্লান-চক্ষু ভেঙে একা,শোকহীন বিদীর্ণ গভীরে ধীরে! তার অহংটুকু পোড়াতে দিও তুমি। তবু আলোর আত্মহত্যা কখনও লিখিনি।মুখের ভেতর জেগে ওঠেপাখিদের প্রিয় কোনো দ্বীপ।প্রতিটি শান্ত ভোর ঘুম ভাঙা মুগ্ধ সকাল। ভেসে থাকা জলভার,…

  • অয়ন ঘোষের পাঁচটি কবিতা

    যুদ্ধ পুকুরে ডুব দিয়ে তুলে আনেশামুক-গুগলি, চুনো-পুঁটিজলের সংসার টালমাটালমাছরাঙার শ্যেন দৃষ্টিতে আগামী যুদ্ধের নিশান উড়ছে। কিস্তিমাত দুঃখকে পোষ মানিয়েআড়াই চালে মাতচৌষট্টি খোপ সাজানো আছেঈশ্বর আমি মুখোমুখি। শীত দু’হাতে তাড়াচ্ছি শীতআগুন কৌশলেঅরণি শেখাল, ভিতরের কাঁপন থামলেশীত আপনা থেকেই বসন্তকে পথ করে দেয়। নিস্তার একটা কৌণিক বিন্দু থেকেমেপে নিয়ে যাত্রাপথতির্যক আলোর সাথে সুরবুকের বাঁ’দিকে এসে সংসার পাতলঘুম…

  • কালো দিনের সনেট – অয়ন চৌধুরী

    আমাদের ফ্রিজগুলো ভরে আছে বারুদে বাতাস ভরে আছে তীব্র ঝাঁঝালো সীসাগন্ধে আমাদের সমস্ত পকেট বুলেটে, পিস্তলে আর আমাদের মনের বাক্সগুলি দামি অন্ধকারে প্রতিটি রাতের চাদর ফুটো করে কে ওরা বাইকবাহিনী! ভাতের থালায় ছিটকে পড়ে জমাট জমাট রক্তকাহিনি প্রতিটি বাটিতে মাছের ঝোলের নীচে চাপ হয়ে আছে প্রতিশোধ আগুন প্রতিটি ক্ষতের মুখে কে ওরা ঠেসে দিল মুঠো…

  • |

    সীমান্ত – সৌরভ দাস

    শতক পেরিয়ে ধেয়ে আসছে উদ্বেলিত জনস্রোত সীমান্তের দিকে.. ইতিহাস! ধোঁয়ার আড়ালে কী খুঁজছো তার হাতে? ধ্বজা? পদাতিক নগ্নতা? শতক পেরিয়ে সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে উত্তাল জনস্রোত, মানুষ! কাঁটাতার, তোমার শরীরেই ওর পায়ের রক্ত লেগে থাকবে, শেষ অবধি.. অভিযাত্রির শবের অনামিকায় আটকানো প্রশ্নচীহ্ন তোমারই চোখে পড়বে প্রথম। তবু যদি এই আজ সীমান্ত পেরিয়ে তার নগ্নতার আভরণ…

  • |

    কাদম্বরী – আর্যতীর্থ

    সব আগুনের একটা চকমকি লাগে। সে তুষের ধিকিধিকিই হোক, বা দাবানলের দাউ দাউ। কে জ্বলে ছাই হবে, আর কে হবে চিরদীপ্যমান, সেই দহনের বিস্তারের বহু আগে, অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে চকমকিদের গল্প। ইতিহাস সাক্ষী, চিরভাস্বর রবিরও একজন কাদম্বরীর প্রয়োজন হয়েছিলো। সব সোনার একটা কষ্টিপাথর লাগে। যাতে ঘষে দেখতে হয়, আর কত পুড়ে গেলে নিখাদ সোনা পাওয়া…

  • |

    মৃত্যু-উপত্যকায় বসন্তের কবি – আশিস ভৌমিক

    সিন্ধু নদের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে হে বসন্তের কবি, তুমি কি শুনতে পাও ? কোনও মিলনোৎসবের সুর ! মরু-দেশ হতে ভেসে আসা বালুকণার শতাব্দী প্রাচীন পলির স্তরে কি খুঁজে পাবে ? কোনও মিষ্টি প্রেমের গীতি কাব্য! উর্বর মাটির গন্ধ নিয়ে তোমার কলম কি লিখবে ? কোনও চাষির ফসল তোলা নবান্নের গান । এখানে আঁধার কাটিয়ে লাল সূর্য…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *