বাংলা ভাষার প্রতি – অতনু ভট্টাচার্য

শেয়ার করুন

ভালোবাসা নেই, যে কারণে নেই, খুঁজে

পাও যদি তুমি, থাকবে চোখটি বুজে?

মধুসূদনের, আর্তি মনে কি পড়ে?

বাঙালির মন যে ভাষার ঠোঁটে নড়ে

তাকে অবহেলা— রক্ত ঝরছে দেখো—

বাংলার মুখ! তুমি তো ভাবছ— তো!

অবক্ষয়িতের, ভেসে যাওয়া সেই গতি—

পরিচয়হীন, আত্মহত্যা, রতি

আর কী বলব— কী আর বলার আছে,

মায়ের ভাষার গভীরে আলোটি আছে…

সেই প্রদীপের আলো ধরে আছে মা—

পথ হারাবেই, তুমি তা দেখছ না!

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • জঙ্গলের মধ্যে আমার ঘর – রাজীব চক্রবর্ত্তী

    জঙ্গলের মধ্যে আমার ঘর। রাতে হানা দেয় শ্বাপদেরা, লুন্ঠিত ক্ষুধান্ন, লন্ডভন্ড গৃহস্থালী। প্রতিদিন, একটু আগুন, মুষ্টিবদ্ধ হাতের আস্ফালন আর প্রত্যয়ের আঁচে মুছে যায় অমানিশার অন্ধকার। প্রতিরোধের লড়াইয়ে ক্লান্ত আমি। তবু সারাদিন কাঠঠোকরার ঠুক ঠুক, ক্লান্ত দুপুরে কোকিলের গান, বসন্তে পলাশ শিমুলে রঙের আগুন নিয়ে আসে নতুন উদ্যম। জঙ্গলের মধ্যে আমার ঘর। পলাশ শিমুল কখন যেন…

  • রক্তিম সূর্য মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা

    ১. অভিমানী চূড়া থেকে পাদদেশে নেমে আসে সবজি-বাগান।তার পর পরই আলোর কৌটোয় গুঁড়ো দুধ রাখতে শেখা।নিয়মিত চা বানাইসময়ে, অসময়ে;খিদে মরে, ভাত ফেলা যায়।মা দেখলে হাতে মেখে জোর করে খাওয়াতেন,আমি গিলতে থাকতাম ভাত, থালা, হাঁড়ি, উনুন…মা বলতেন, “আর একটু আনি?”—আনবে? অল্প কিন্তু, এক্কেবারে একমুঠো,তোমার তালুতে যা ধরে। ২. আমরা শ্রাবণ মাসে ফুল তুলিনি একটাওলুকিয়ে আছি,আশ্বিন আসুক।এই…

  • |

    গৌরব চক্রবর্তীর কবিতা

    গৌরব চক্রবর্তী ১৭-০২-২০১৯ আমার নিজস্ব ভাষা আসলে বেদনা এ ভাষায় আমি বেশ কেঁদে নিতে পারি এই ভাষাতেই রোজ গুলি খাই, মরি মৃত্যুর পবিত্র ভাগ কাউকে দেব না প্রকাশ্য শব্দে তো নয় পরোক্ষ অক্ষরে নিতান্ত অপ্রেমে নয় নিয়তি তাড়িত তবুও কাঙাল– এই ভাষাতেই প্রীত ভাষাকে চুম্বন করি ওষ্ঠে ও অধরে রাজপথ দিয়ে হেঁটে যেই ভাষা যায়…

  • অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

    বিধিনিষেধ ১৪৪ দৃশ্য শেষ। এইবার কান্না শুরু হবেকে কেমন করে কাঁদবে—তারই নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক। আমপাতা এসে গেছে, জামপাতা এসে গেছে, এমনকি বটপাতা–অশ্বত্থপাতাও এসে গেছে, যার ওপর যেমন নির্দেশ সে সেই পাতায় মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকুক। জীবনের সব কান্নাই শিল্প। মনে রাখবেন, সিগারেট খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর আগুন জ্বালানোও তেমন দেশের পক্ষে ক্ষতিকর— অনুগ্রহ করে—কেউ আগুন জ্বালাবেন না। কপাল ১৬ ঘণ্টা…

  • |

    দেশ ভোলে না – পিউ দাশ

    মুখ ফিরিয়ে নিও না– একবার মুখ ফিরিয়েছিলাম আমি–আর দেশ হারিয়েছি– আর ভাষা হারিয়েছি যা হারিয়েছি তাদের নামও হারিয়েছি, আকার হারিয়েছি রয়ে গেছে কেবল কাগুজে মানচিত্রের উপর ফাঁকা কিছু স্থান– নিঃশব্দ, শুনশান; এখন রুখু হাওয়ায় কেবল ধুলো ওড়ে সেখানে রয়ে গেছে অর্থহীন কয়েকটা শব্দ; গোঙানির মত, সেই ভৌতিকতা–শিহরণ আনে মুখ ফিরিয়েছিলাম, তাই অপেক্ষায় আছি একদিন কেউ…

  • শক্তিরূপেণ – শুভঙ্কর দেব

    ডিপ্রেশনের দিনগুলো সব হাওয়ায় ওড়াও, পেরেক খুলে যীশুর দেহ নামাও নীচে, হাসতে হাসতে এ জন্মটা মনকে বোঝাও, কাল থেকে আর ঘুরতে না-যাক আমার পিছে। বাহান্নটা মানুষ পেলে আমায় ছাড়াও, তাদের কেউই তোমার কোনো যজ্ঞে লাগে? নইলে আরও পাঁচশো কুড়ির ব্যবস্থা নাও, তোমায় আমি দেখতে চাইবো সবার আগে। যাজ্ঞসেনী, তোমার মতো আমার মা’ও সবার সাথে যুদ্ধে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *