আত্ম প্রত্যয় – সাদিয়া তাহমিন মিশু

শেয়ার করুন

আমি জন্মেছি এই ধরণীর কোলে
যেভাবে এসেছিল আমার বাবা-মা, ভাই- বোন,
যেভাবে এসেছ তোমরা– আমার স্বজন,
আমি বাঁচতে তাই আমার অধিকারের ছায়ায়
আমারই কর্মযজ্ঞে– শাণিত চেতনায়।

আমার আছে দুখানি হাত, দুটো চোখ,
আমার আছে উর্বর মস্তিষ্ক– কল্যাণী বোধ,
আমি বাঁচবো আমার হিম্মত বলেই-
আমিও জানি– পৃথিবীর আদিগন্ত ইতিহাস,
আমি ফেলবো না কোন ক্লেদার্ত দীর্ঘশ্বাস।

আমি তুলে নিতে জানি যুদ্ধের হাতিয়ার
আমি ধরতে জানি তীক্ষ্ণধার কলম
আমি এগিয়ে যাবোই বহুদূর- দূরন্ত, দূর্ণিবার,
আমি একান্ত মননের শৈল্পিক কল্পনায়
গড়ে নেব আমার জীবনের ছায়াময় অধ্যায়।

আমি জানি, নব সৃষ্টির যাবতীয় ব্যাকরণ,
আমি জানি, মঙ্গলের সুর- স্বরলিপি- গান,
আমি জানি, আকাশ ও মঙ্গলের অভিযান,
আমি থাকবো না বোসে মন খারাপের বারান্দায়
আমি উড়বোই- আমার স্বাধীন মুক্ত ডানায়।

করুণার চোখ, লোলুপ দৃষ্টি, সুনগ্ন জিহবা-
আমার সীমানা হতে সরাও কাপুরুষ
আমি জননী ও জায়া, আমি অভিমানী কন্যা,
আমার আমাতে পৃথিবীর অনন্ত উপাখ্যান
আমি মমতাময়ী, আমিই অগ্নিময়ী গান।

কেবল আগরবাতির সুরভী ছড়ায়ে যাব?
কেবল বাড়াবো হাত- অসহায় অবনত?
আমি হবো আমারই জন্মের কলঙ্কিত অপমান?
সে হবে না, সে তো কখনোই হবার নয়,
আমিও হবো নিশ্চয়- নক্ষত্র জ্যোতির্ময়।

আমি জন্মেছি এই ধরণীর কোলে
নারীর অবয়বে তোমাদের মতোই মানুষ,
আমিও অংশ এক এই সমাজ ও সভ্যতার।
আমি দিগন্ত ব্যাপ্ত অসীম শক্তির আধার
আমি ছিনিয়ে নেবোই- আমার অধিকার।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • রামকৃষ্ণ মহাপাত্রর পাঁচটি কবিতা 

    নিরুদ্দেশ দেখো এই পথের শেষ নেই কোনও,পায়ে পায়ে চঞ্চলতাফিরে যাবে গোধূলির দিকে,আমিও তোমার দিগন্ত-ছোঁয়াকান্নার ভেতর নিরুদ্দেশ হব একদিন… মাটিজন্ম বিকেলবেলায় বাড়ি ফিরছেনআমাদের বাবা,সাইকেলের চাকায় তখনওলাল ধুলোর ক্লান্তি। আমাদের বাবা সূর্য পেরিয়ে আসেন! তারপর মা আসন পেতেবাবাকে খেতে দেনফুটিয়ে রাখা দু’মুঠো আনন্দছায়া, আর আমরা ছয় ভাইবোনটানাটানির সংসারেবাবার ক্লান্তি, মায়ের আনন্দছায়ার মাঝেবেঁচে থাকিমাটিজন্ম নিয়ে। দিনশেষে দিনশেষে ফুরিয়ে…

  • দুটি কবিতা – মহাদেবাশা

    বাতাসে লতিয়ে ওঠা ঢেউ বাতাসে ঝড় উঠেছে, তুমি কুড়িয়ে রেখেছো নদী,তোমার & চাওয়া পাওয়ার সিঁড়িগুলো ছোটো হতে হতে দূরবীণ হয়ে উঠেছে, রাস্তার ঘরে ঘাসফুলের মলাট, ঘ্রাণে ঘ্রাণে ভরে যাচ্ছে আঁচল, আয়না হয়ে উঠেছে টিপ, একেই সংস্কার বলি, আর চোখকে নদী, বারান্দায় অনায়াসে পৌঁছে যায় রোদ, রোদের পেয়ালায় চুমুক উঠে ঘোড়ার, এসময় অন্ধকারে মেঘ উঠে, গম্বুজ…

  • বাংলা ভাষার প্রতি – অতনু ভট্টাচার্য

    ভালোবাসা নেই, যে কারণে নেই, খুঁজে পাও যদি তুমি, থাকবে চোখটি বুজে? মধুসূদনের, আর্তি মনে কি পড়ে? বাঙালির মন যে ভাষার ঠোঁটে নড়ে তাকে অবহেলা— রক্ত ঝরছে দেখো— বাংলার মুখ! তুমি তো ভাবছ— তো! অবক্ষয়িতের, ভেসে যাওয়া সেই গতি— পরিচয়হীন, আত্মহত্যা, রতি আর কী বলব— কী আর বলার আছে, মায়ের ভাষার গভীরে আলোটি আছে… সেই…

  • অপরিচিত – চন্দ্র

    চিনতে পারছ আমায়? রোমকূপ মোর উল্লাসিত, জয়ের রক্ত জামায় উদ্দ্যত ওই তলোয়ার আজ কার সাধ্যি থামায়, চিনতে পারছ আমায়? আমাকে তোমরা লেলিয়ে দিয়েছ অস্ত্রকে করে বন্ধু আমি বয়ে গেছি নিলনদ থেকে নেভা নদী হয়ে সিন্ধু। আমার মৃত্যুতে বলিয়ান হয়ে সভ্যতা কর চাষ, আমিই কেড়েছি আমার আপন সিজারের নিশ্বাস। আমিই যদিও স্বাধীনতা আনি ধ্বংসের ফেরি করে…

  • বিস্ময় – মৌমিতা পাল

     আজন্মকাল থেকে তুমিতো জানতে  -‘এ বাড়ি তোমার নয়!’ প্রকৃতির নিয়মে তারপর ক্রমাগত বেড়ে ওঠা, শখের বাগানের অযাচিত -অনাহুত  আগাছার মতো। পুতুল খেলার ছলে শেখোনি কি! এ ধরনীর সামান্য ধুলিকনাতেও তোমার নেই কোনো দাবী, নেই অধিকার। সমস্ত জীবনব্যপী তুমি শুধু বাঁধা ক্রীতদাসী। এ সমাজ,এ সভ্যতা,এ বিশ্বায়ন, এই বিশাল মহাবিশ্বের এক বিন্দুও  তোমার নয়! জেনেছো তো সব…

  • |

    ইতি তোমার নদী – অনিন্দিতা মিত্র

    একটানা প্রবল বর্ষণে ঘুমহীন শঙ্কিত রাত কাটাও নদীতীরে, বুকে তোমার কাঁপন জাগায় নদী, খোঁজ নাও বারেবারে- ‘কতটা জল বাড়লো?’ পূর্বদক্ষতায় কষে নাও হিসেব- আর ঠিক কতটা জল বাড়লে ছাড়াবে বিপদসীমা, ঠিক কোন মূহুর্তে পালাবে বসতি ছেড়ে, খুঁজে নেবে আবার কোন সাময়িক আশ্রয় বারংবার বিলাপে। এতই যখন ডুবতে ভয় তোমার তবে প্লাবিত হবে জেনেও কেন নদীপাড়েই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *