একটা সিগনাল – ঝর্ণা মুখোপাধ্যায়

শেয়ার করুন

প্রাচীন মানুষটার কাছে জেনেছিলাম
যুদ্ধ হাঁটছে
অনমনীয় পুঁজি অমঙ্গলের দিকে
সিলেবাসে ধোঁয়া-আগুন-পেশাদার রাজনীতি
নেশাতুর হাওয়ায় ব্রেকিং নিউজ, খুনীদের বিচরণ
অর্জুনের তীর লক্ষ্যভেদে।
হাভাতে বিশ্ব, জল জমা উঠোন
দুঃখের রাত পোহায় ভাঙা চোরামুখ, আপদ উদ্বাস্তু!
ছপছপ পায়ের শব্দ উড়ে আসে টান টান
বিবেক-বিশ্বাস-রাজপথ ভাসিয়ে অবিরাম-
শব্দ ফেটে ফেটে পৃথিবী জাগায়।
একটা সিগনাল – ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’
উত্তর পত্রে – নিথর চোখের মণি,
আর্তনাদ ছিঁড়ে বারুদ মলাট।
গভীরে গভীরে অদ্ভুত পিপাসা!
বোবা শব্দেরা তবু প্রাচীন নেশায়
যুদ্ধ বিরোধী গান গায়, গেয়ে চলে —

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • জয় – রেহান কৌশিক

    শান্ত সকাল। তার মন-ভালো-করা রোদের আঙুল ছুঁয়ে দিচ্ছে ‘ওটা’ নদীর জল। ‘ওটা’ কি হেসে উঠল মৃদু? রিনরিন শব্দে বেজে উঠল তার জল-নূপুর। ‘ওটা’র তীরে দাঁড়ানো সার-সার মেপল গাছেরা কিন্তু মাথা দোলাচ্ছিল তখন। সামুদ্রিক নীলচে হাওয়ার সমবেত ভাবে ছড় টানছিল তারা। রূপকথার গল্পে পক্ষীরাজের সন্ধান মেলে। যার মস্ত দু’টো ডানা মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে উড়ে চলে রাজপুত্রকে…

  • রাখী দে’র গুচ্ছ কবিতা : পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

    ১.প্রতিক্রিয়াহীন কথাগুলিকেসাজিয়ে রাখি পার্শ্বরেখা বরাবর,ঘোলা জল এসে ঝাপটা দেয়,দুলকি চালে পাশ কাটিয়ে যাই,জন্ম শেষে না-নেভা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। ২.বুকে খই উথলে উঠলেআঁচটুকু কমিয়ে দিই,ফেনার শরীর ঘেঁটে জড়ো করিপাখিটি নীরব জলে সাঁতার কাটে! ৩.ক্ষতটি জেগে আছে,পাড়ময় ফুটে আছে সন্ধির ফুল,একেকটি ফুল তুলে নৈবেদ্য সাজাইচিকণ রোমের মুখ তুলে ধরি,তুমি কথা বলে ওঠো। ৪.যেদিকে বিকেল হাঁটে,সেদিকে পড়ে আছে…

  • মুসাফির – স্বপ্ননীল রুদ্র

    গুলাম আলির গজলের মুসাফিরের মতন একটি আত্মহনন অভীষ্ট শুঁকে শুঁকে আমাদের শহরমুখী হয়েছিল। পকেটে আংশিক উঁকি দেওয়া রুমালের মতো এক বৃক্ষবয়ন-প্রাণিত গলি নিরবচ্ছিন্ন ছায়ানির্ভর অবিবাহিত বাড়ির নামফলক রেখেছিল তার উপোষ-ভারের ঠোঁটে…   নেমপ্লেট খেতে খেতে উপাদেয় ঢেকুর তুলেই তাক থেকে পেড়ে নিয়েছিল ঘুম-উপন্যাস সমগ্র —   বরফলজ্জিত বিছানায় পাঠ-প্রতিক্রিয়া শুয়ে…   কার্ণিশে ছাদে উত্থিত আনন্দঘন…

  • বিস্ময় – মৌমিতা পাল

     আজন্মকাল থেকে তুমিতো জানতে  -‘এ বাড়ি তোমার নয়!’ প্রকৃতির নিয়মে তারপর ক্রমাগত বেড়ে ওঠা, শখের বাগানের অযাচিত -অনাহুত  আগাছার মতো। পুতুল খেলার ছলে শেখোনি কি! এ ধরনীর সামান্য ধুলিকনাতেও তোমার নেই কোনো দাবী, নেই অধিকার। সমস্ত জীবনব্যপী তুমি শুধু বাঁধা ক্রীতদাসী। এ সমাজ,এ সভ্যতা,এ বিশ্বায়ন, এই বিশাল মহাবিশ্বের এক বিন্দুও  তোমার নয়! জেনেছো তো সব…

  • রামকৃষ্ণ মহাপাত্রর পাঁচটি কবিতা 

    নিরুদ্দেশ দেখো এই পথের শেষ নেই কোনও,পায়ে পায়ে চঞ্চলতাফিরে যাবে গোধূলির দিকে,আমিও তোমার দিগন্ত-ছোঁয়াকান্নার ভেতর নিরুদ্দেশ হব একদিন… মাটিজন্ম বিকেলবেলায় বাড়ি ফিরছেনআমাদের বাবা,সাইকেলের চাকায় তখনওলাল ধুলোর ক্লান্তি। আমাদের বাবা সূর্য পেরিয়ে আসেন! তারপর মা আসন পেতেবাবাকে খেতে দেনফুটিয়ে রাখা দু’মুঠো আনন্দছায়া, আর আমরা ছয় ভাইবোনটানাটানির সংসারেবাবার ক্লান্তি, মায়ের আনন্দছায়ার মাঝেবেঁচে থাকিমাটিজন্ম নিয়ে। দিনশেষে দিনশেষে ফুরিয়ে…

  • দুটি কবিতা – সৌগত দত্ত

    কর্দমাক্ত বর্ষাকে বৈশাখের চিঠি চিঠিগুলো ছড়িয়ে আছে দক্ষিণের চিলেকোঠায়, তাতে ঠিকানা লেখা হয়নি এখনও। কি নামে ইতিহাস উৎসর্গ হয়? বন্ধু, নাকি প্রিয়তম! তোমার প্রতিবেশী জানালাটায় আজও আমার কবিতা লেগে আছে; তুমি ছেড়ে গেছো না পাওয়ার অভিমান আর লাঞ্চনার বিজয়ে। তবু, কাঁটাতার আর কাটাকুটি খেলায় সিঁদুর মুছে যায়, প্রেম নেমে আসে, কোনো এক নাম না জানা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *