জাগরণ – দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেয়ার করুন

সৃষ্টি-সেরা নারী-রে তুই, তবুও অনাহূত,
বোঝা ভেবে আজন্ম অপমান, আজও অব্যাহত।
মাটির প্রতিমা পুজিতা হন, জ্যান্ত প্রতিমা লাশ,
বিকৃত পুরুষ, বিকৃত বাসনা, ঘটায় সর্বনাশ।
পুরুষ-জাতির ভোগ্যা হয়ে, হারাস নিজ শরীর,
মৌন পৃথিবী দেখে শুনে, স্বার্থ মগ্নেই বধির।
তিন কিংবা তিরাশি হোক, কেউই পেলনা ছাড়,
মানবরূপী দস্যু পশুর, অবাধ অত্যাচার।
‘ধর্ষিতা’ তকমা নিয়ে-রে তুই, সম্মান খুঁজিস বাঁচার,
ধর্ষক ঘোরে বুক উঁচিয়ে, আজব এ-কি বিচার!
লাঞ্ছনা-গঞ্জনার তকমা ঝেড়ে, জাগ-রে দুর্জয় নারী!
সগর্বে বল, ‘দেখরে পুরুষ! আমারাও সব পারি’।
পুরুষ নারী সবাই সমান,নেইকো ভেদা-ভেদ,
নারী হয়ে জন্ম নিলে, কেনরে বৃথা খেদ?
সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি, সহ্য করিস-নে আর,
দুর্বল হয়ে পদে-পদে, খাস-নে তোরা মার।
প্রতিভা-প্রভায় সর্বক্ষেত্রে,হোসরে অনন্যা-জয়ী,
আঁধার দেশেও দৃঢ় শপথে, স্বপ্ন বুনে রই।

 

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • জিয়া হকের পাঁচটি কবিতা

    ক. বোধগম্য নও, তবু হেসে ওঠা ধর্ম আমারমেরুদাঁড়া ভেঙে যায় রোজ রাত্রিবেলামানুষের ভাষা যেন বুঝতে পারি নাকাউকে পাই না বলে ঈশ্বরাদি ডাকিঈশ্বরকে ডাকি বলে কাউকে পাই নাক্ষমাশীল তিনি—এমনই শুনেছিমায়েদের চেয়ে মাতৃময়মাতৃময়ী না লিখে তাকে আমি পুরুষে রাখলাম‘করুণা করুণা’ বলে ডাকি সেই উঁচু নীরবতাআমার কথারা ঘোরে মনের জঙ্গলে আমারপশুমাংস চাই না আর চাই একটা গাভীর শাবকবিশ্বাস…

  • লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডলের দশটি কবিতা

    নিষ্ক্রমণ ইচ্ছের উপর রাখে ভোরের বাঁশি এই যে বাজনা বাজে আলো আঁধারের মিলিতরেখায় আর দূরে সরে যায় সমস্ত উপেক্ষা, আমার ভিতর ছড়িয়ে পড়ে নীল ধ্রুবতারা—ভাঙা ভাঙা বাদামি ত্বকের শ্যাওলা পরিত্রাণ চায়—সমস্ত নোটিফিকেশন ছাড়াই জ্যামিতিক বিন্দুরা নিষ্ক্রমণ ইচ্ছের উপর রাখে ভোরের বাঁশি  সে এক অনন্ত পথের গ্রিনলাইট, ফ্লাইওভার ছিঁড়ে সাগরকোনণ থেকে উঠে আসে গুচ্ছ গুচ্ছ ফার্ন—…

  • শতানীক রায়ের পাঁচটি কবিতা

    প্রবাহ ১সাধু-চলিত বর্জিত করুণা এখানে কবে কোন্ পাপ গাথা হয়ে আছে ঘূর্ণন তার গতির অঙ্গ হিসেবে আমার এই সবকিছু আগের মতো মুখটা মহার্ঘ্য কোনো মুখকে গোপন করে অক্ষরে অনেক বোধ রেশমের মতো কোমল নরম তারপর এইসব একই শব্দ একই করুণ হঠাৎ কোনো মানুষ তবে অহল্যা হয়ে গেছে ২যেখান থেকে উঠে আসে প্রাণগুলো উপড়ে বেরিয়ে আসে…

  • জামিলা – রুখসানা কাজল

      দুই দোকানের মাঝখানে একফালি খালি জায়গা। আশেপাশের দোকান মালিক-কর্মচারী, ক্রেতা পথচারীরা সকাল বিকাল খাল্লাস হয় সেখানে। একদিন ভোরে দেখা  গেল সেখানে একটি হোগলাঘর। রাতারাতি হোগলাঘর এলো কোত্থেকে? রেরে করে ছুটে আসে নুরুমিয়া আর ঠান্ডুকাজি, কে কে এই কে আছিসএখানে। দেখি তোর বদনখান বার কর তো একবার! হোগলা ঘরের কানি তুলে বেরিয়ে আসে জমিলা। পেছনে…

  • দুটি কবিতা – সৌগত দত্ত

    কর্দমাক্ত বর্ষাকে বৈশাখের চিঠি চিঠিগুলো ছড়িয়ে আছে দক্ষিণের চিলেকোঠায়, তাতে ঠিকানা লেখা হয়নি এখনও। কি নামে ইতিহাস উৎসর্গ হয়? বন্ধু, নাকি প্রিয়তম! তোমার প্রতিবেশী জানালাটায় আজও আমার কবিতা লেগে আছে; তুমি ছেড়ে গেছো না পাওয়ার অভিমান আর লাঞ্চনার বিজয়ে। তবু, কাঁটাতার আর কাটাকুটি খেলায় সিঁদুর মুছে যায়, প্রেম নেমে আসে, কোনো এক নাম না জানা…

  • এক পৃথিবী সুখ! – সুজাতা মিশ্র

    হ্যাঁ রে মরদ,  বাসবি ভালো চটকে খাবি সুখ? এক বর্ষা কদম গন্ধে ভরিয়ে দিবি বুক? রাতবিরিতে জানলা খুলে উড়িয়ে দিবি ডানা? কাকের বাসায় আসবি রেখে কোকিল সুরের ছানা? হ্যাঁ রে মরদ নিজেই আবার হবি আকাশ বুক? চাঁদের আলো হতে দিবি এক পৃথিবী সুখ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *