বাড়ির বিড়ালদের কোনো বিশ্রাম নেই – আয়শা আল-কাবি

শেয়ার করুন

বাড়ির বিড়ালদের কোনো বিশ্রাম নেই

আয়শা আল-কাবির একটি অণুগল্প
অনুবাদ: হাসিনুল ইসলাম

তার ছোট্ট বাচ্চাকে বাইরে খেলতে পাঠিয়ে সে তার পুরুষের চারদিকে চক্কর দিচ্ছিল, তখন তার চোখেমুখে বেশ প্রেমভাব। ওর পিঠের কোমল চুলের জঙ্গলে হাত বোলাচ্ছিল। ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে মিউ মিউ করল, আর লেজটা নাচিয়ে চলল। ওর ফুলে থাকা পেটে মাথাটা গুঁজে খুব প্রেমাদরে ঘষতে থাকল। নিজেই নিজের গরগরানির আওয়াজ শুনল।
সে মধ্যস্থতা করল…
এরপর সে পরম আবেগে উষ্ণ জিহ্বা দিয়ে ওর লেজ চাটতে থাকল। ও ঘুম থেকে জেগে উঠল, বিরক্ত হল, পায়ের থাবা ছড়িয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল, আর বলল: “তাহলে রাস্তার বিড়ালদের জন্য তুমি কি রেখেছ?”
একথা বলে সে মুখের ওপর দড়াম করে দরজা বন্ধ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। রাস্তার দিকে এগোল।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • |

    ড্রোন – অরিজিৎ সেন

    আব্রাহাম জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু ঐ শহরে যদি পঞ্চাশ জনও নিরাপরাধ মানুষ থেকে থাকেন তাও কি আপনি পুরো শহরটাকে ধ্বংস করে ফেলবেন?” প্রভু বললেন, “পঞ্চাশজন নিরাপরাধ মানুষ থাকলে আমি সবাইকে ছেড়ে দেব।“ খানিকপরে আব্রাহাম বললেন, “অপরাধ নেবেন না যদি পঁয়তাল্লিশ থাকেন?” “তাহলেও শহর বেঁচে যাবে।“ প্রভু উত্তর দিলেন। “চল্লিশ” “তাহলেও কিছু করব না।’ “তিরিশ?….কুড়ি….দশ।” স্মিতহেসে প্রভু…

  • |

    কামান – মানস চক্রবর্ত্তী

    ওটা কি ? ওটা ? ওটা কামান , সোনা । কামান ! ওটা এখানে কেন মা ? স্মৃতি বোলতে পারো । কিসের স্মৃতি মা ? যুদ্ধের । ওও । যে যুদ্ধে বাবা মরে গেছে ?

  • |

    আয়না – শৈলেন রায়

    দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমের আয়না। আশ্চর্য, আয়নাটা এখনও আছে! আধ মানুষ সমান সেই আয়নাটা। আমরা বলতাম হেড স্যারের আয়না। হেড স্যারের ঠিক পিছনে একটু উঁচু করে টাঙানো ছিল দেওয়ালে। চার ধার সেগুন কাঠে  বাঁধানো, ম্যাড়মেড়ে পালিশ। ওখানে আয়না কেন, কোথা থেকে এল জানি না। জানার ইচ্ছেও হয়নি কোনও দিন। স্যরের ঘরের চেয়ার-টেবিল-আলমারির মতো আয়নাটাও…

  • অবসাদ – তাপসকিরণ রায়

    হারাতে হারাতে আর অবসাদ নেই–চেনা জানারা ক্ৰমশ হারিয়ে যাচ্ছে অন্যপ্রান্তে…  এক মুখ দাড়িতে তোমায় অচিন লাগতেই পারে !কোথায় সরে যেতে চাও তুমি ?স্টেশনের সিগনালে তাকিয়ে আছে গাড়ি।একটা সকাল যেন কতকাল দেখিনি !হারিয়ে হারিয়ে ক্ৰমশ নিজের দিকে এগিয়ে আসছি।আগামী খরার ফাটলে বৃষ্টির অবসাদ দেখি।দুরন্ত ছেলেটা কেমন দম হারিয়ে থমকে যায় !কখনও চেনা পৃথিবী হারিয়ে যায়–কুয়াশা ও…

  • দাবানলের আগে – পার্থপ্রতিম চৌধুরী

    বয়ঃবৃদ্ধ বৃক্ষের শুষ্ক শাখা, আকাশে আকাশ খোঁজে, শুধুই শূন্যতা । বসন্তের বাতাসেও, নেই ডালে সেই সজীবতা । ছায়া চায় — নীড়হীন নিরাশা, ছিন্ন ডানার প্রজাপতি , হায়! বটবৃক্ষ, তুমি বলো, সময় রয়েছে বাকি । সময় থমকে, মহীরুহর ঝুরির আড়ালে পাখিরা বাঁধেনা বাসা, ভাষা নেই কোকিলের চন্ডিমন্ডপের পাঠশালে । স্হবির পায়ের নীচে,জীর্ণ নকশিকাঁথা, লক্ষ্যহীন সময়ের —…

  • দাগ – পার্থ রায়

    টুবলুর অ্যাপেয়ন্টমেন্ট লেটারটা একটা মুক্তির পরোয়ানা হয়ে এল মানসীর কাছে। মনের আনাচে কানাচে আজ পালক ধোয়া ঝরণা ধারা। এক ঝাঁক পায়রা যেন ডানা মেলে বকবকম করে বলে চলেছে “মুক্তি, মুক্তি, মুক্তি”। এক মুহূর্ত দেরী করেনি মানসী। ফোনে কাজ ছেড়ে দেবার কথা জানিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে কয়েক বছর আগে ছেলেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল। দেবোত্তম অকালে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *