অলক্ষীগাথা – তনিমা হাজরা
ভোর হোলো যে, ও মেয়েটি জাগো, লক্ষী হয়ে অনেক বছর ঘুমিয়েছিলে, এবার অবাধ্য হও, কিংবা একটু অলক্ষীও, জোর গলাতে নিজের প্রাপ্য মাগো। অসম্মানে একাই রুখে দাঁড়াও, আঘাতে দাও প্রতিঘাতের শেল, মেয়েলি জীবনের খোলস খুলে এখন থেকে নারী হয়ে ওঠো।
ভোর হোলো যে, ও মেয়েটি জাগো, লক্ষী হয়ে অনেক বছর ঘুমিয়েছিলে, এবার অবাধ্য হও, কিংবা একটু অলক্ষীও, জোর গলাতে নিজের প্রাপ্য মাগো। অসম্মানে একাই রুখে দাঁড়াও, আঘাতে দাও প্রতিঘাতের শেল, মেয়েলি জীবনের খোলস খুলে এখন থেকে নারী হয়ে ওঠো।
আমি নারী আমিই আধার সৃষ্টি আমাতে দশমাস দশদিনে পৃথিবীর আলো দেখা ধূলার ধূলীতে কত কষ্ট সহ্য করে বুক ভরা স্নেহে কোনো বিশেষ দিন পালনে নয় শ্রদ্ধা ও সম্মানিত হতে চাই সমাজে প্রতিটি মানব হ্রদয়ে সস্নেহে শিক্ষা , প্রতিষ্ঠা, সার্বক উন্নয়ণে পুরুষের সমকক্ষ হয়ে সমান তালে আমি স্বাধীন সেই দিন ই যেদিন থাকবে না মনে কোনো…
দূর দিগন্তের অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে, অনেক অদ্বিতীয় শোভার হাত ছানিকে উপেক্ষা করে আমরা ফিরে আসি আমাদের নিজের শহরে; যে শহরে আমার বড় হয়ে ওঠা। যে শহরের ফুট পাথে একটা কাঠি আইসক্রিম খেতে খেতে বাবার হাত ধরে বাড়ি ফিরেছি, যে শহরে মা-বাবার হাত ধরে পুজোতে ঘুরেছি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে, যে শহর আমার বড় হবার সাক্ষী, যে…
প্রিয়, মার্গারেট অনেক দিন ধরে তোমাকে চিঠি লিখবো ভাবছিলাম কিছুতেই সময় হয়ে উঠছিলো না আজ, ২০১৮ সাল হঠাৎ তোমাকে চিঠি লিখতে বসলাম। ছেলেবেলায় জেনেছিলাম আয়ারল্যান্ডের ডানগ্যাননের নাম আমার বাড়িতে তোমার ছবি আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী মুখ আমাকে বারবার প্রেরণা দিত বাবার কাছে শুনেছি- সমাজসেবার গল্প মার কাছে শুনেছি- তোমার সেবা ধর্ম জানতে জানতে শুনতে-শুনতে ক্রমে আমিও…
আমি এক অতি সাধারন মেয়ে,, শরৎ বাবু, রবি বাবু অথবা হালের সুবোধ বাবু কেউই আমায় ধর্তব্য়ের মধ্যেই আনেন নাম। কি বললেন? কাব্য এ উপেক্ষিতা? ও উপাধি ও খাটে না আমার জন্য…. মেয়ে জন্মের যাবতীয় উপেক্ষা আর অবহেলা সত্বেও প্রাকৃতিক নিয়মেই যৌবন এসেছিল…. দেহে, মনে… বলে না যৌবনবতি কুক্কুরিও সুন্দরী? আমি তখন উদ্ভিন্ন যৌবনা আমি তখন…
নারীর রূপে আমার আকৃষ্টতা প্রাচীন৷ বিশেষ করে তাদের মুখমণ্ডল৷ ৷ নারীর মুখের চেয়ে অনবদ্য শিল্প কিছু নেই ৷ মাঝে মাঝে অদ্ভুত অনুভূতি মনে দানা বাঁধে… যা কেবল স্বপ্ন সীমাবদ্ধতায় সমাপ্তি হয় না৷৷ নিতান্ত হ্যাংলার মতো তার স্পর্শ পেতে চায়৷ তার গভীর ভর্ৎসনা-পোড়া চোখের ক্রোধ সহ্য হয়ে ওঠে৷ যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেখি কোনো পার্শ্ববর্তী নদী, লেক…
চিরকালের বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের স্নেহ-প্রেম ও দুঃখময় জীবনকে যিনি বাংলা সাহিত্যে পরিস্ফুট করেছেন–তিনি আশাপূর্না দেবী। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখিকা। রক্ষণশীল সমাজে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তৎকালীন(১৯০৯) পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের স্বাধীনতা ছিলনা স্কুল-কলেজে পড়ার। সেই রক্ষণশীল পরিবারেই তাঁর বিয়ে হয়। পুরুষশাসিত সমাজ-সংসারে চার দেয়ালের মধ্যে বন্ধ থেকেও, এমনকি বাইরে ঘুরে ঘুরে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় না করেও…
(এটা মেক্সিকোর পুরাণ থেকে নেওয়া গল্প,আমি নিজের মত করে লিখেছি।) কোটজালকোয়া – আমার নিজের হাতে গড়া এই মেক্সিকোয়,এই টোলানে আজ আমার শেষ দিন। শেষবারের মত একবার দুচোখভরে দেখে নিচ্ছি সবকিছু। আমার দুপাশে ভাই তেজকলিপোকা আর বোন কোরেন। আমি জানি কোরেন আমার দিকেই তাকিয়ে আছে,চোখ ফেরাচ্ছে না। আমারও খুব দেখতে ইচ্ছে করছে ওকে। না, কোরেনের দিকে…
দুই দোকানের মাঝখানে একফালি খালি জায়গা। আশেপাশের দোকান মালিক-কর্মচারী, ক্রেতা পথচারীরা সকাল বিকাল খাল্লাস হয় সেখানে। একদিন ভোরে দেখা গেল সেখানে একটি হোগলাঘর। রাতারাতি হোগলাঘর এলো কোত্থেকে? রেরে করে ছুটে আসে নুরুমিয়া আর ঠান্ডুকাজি, কে কে এই কে আছিসএখানে। দেখি তোর বদনখান বার কর তো একবার! হোগলা ঘরের কানি তুলে বেরিয়ে আসে জমিলা। পেছনে…
লেনিনের মা মারিয়া আলেকসান্দ্রোভনা। বাবা উলিয়ানফ। ১৮৮৭ সালের ৮ই মে স্লুসেনবুর্গ দুর্গের উঠোনে আলেকসান্দরকে ফাঁসি দেয় জারের পুলিশ। আলেকসান্দর লেনিনের দাদা। লেনিন বলেছিলেন রুটির জন্য সংগ্রাম। সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম। ২৫শে অক্টোবর সন্ধেবেলা অরোরা জাহাজ থেকে জারের শীত প্রাসাদে গোলা বর্ষণ শুরু হয়। দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন পরে লেনিন বলেছিলেন- সর্বপ্রকার দাসত্ব থেকে সর্বপ্রথম শোষণ থেকে…