বিস্ময় – মৌমিতা পাল

শেয়ার করুন
 আজন্মকাল থেকে তুমিতো জানতে  -‘এ বাড়ি তোমার নয়!’
প্রকৃতির নিয়মে তারপর ক্রমাগত বেড়ে ওঠা,
শখের বাগানের অযাচিত -অনাহুত  আগাছার মতো।
পুতুল খেলার ছলে শেখোনি কি!
এ ধরনীর সামান্য ধুলিকনাতেও তোমার নেই কোনো দাবী, নেই অধিকার।
সমস্ত জীবনব্যপী তুমি শুধু বাঁধা ক্রীতদাসী।
এ সমাজ,এ সভ্যতা,এ বিশ্বায়ন,
এই বিশাল মহাবিশ্বের এক বিন্দুও  তোমার নয়!
জেনেছো তো সব
সেই কবে! জন্মলগ্ন থেকে…
অত্যন্ত কাছের প্রিয়মুখ,প্রেমিক,আত্মজ,
আত্মীয়-পরিজন,চেনা-অচেনা, ঘর ও বাহিরের প্রতিটা পদক্ষেপই বুঝিয়ে দিয়েছে,
একদন্ড ঠাঁই নেই তোমার এই নশ্বর সংসারে।
অথচ কীসের আশায়!কোন গোপন-গভীর দুরাশায়!?
রাত-ভোর অপাত্রে দান করো এতো-এতো অফুরান, অবিনাশী, অবিস্মরণীয় নৈসর্গিক  সম্পদ!
কোন দুর্গম সমুদ্রের ভয়াবহ গহীনে
ভোমরার বুকে লুকিয়ে রেখেছো তোমার অক্ষত ‘প্রাণশক্তি’..!
শেয়ার করুন

Similar Posts

  • আমার শহর – মৈনাক চক্রবর্ত্তী

    দূর দিগন্তের অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে, অনেক অদ্বিতীয় শোভার হাত ছানিকে উপেক্ষা করে আমরা ফিরে আসি আমাদের নিজের শহরে; যে শহরে আমার বড় হয়ে ওঠা। যে শহরের ফুট পাথে একটা কাঠি আইসক্রিম খেতে খেতে বাবার হাত ধরে বাড়ি ফিরেছি, যে শহরে মা-বাবার হাত ধরে পুজোতে ঘুরেছি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে, যে শহর আমার বড় হবার সাক্ষী, যে…

  • |

    পথিক বলছি – ব্রতশুদ্ধ

    স্বস্তিকারূপী ছাইরঙা রাস্তার কেন্দ্রে দাঁড়ালে জামরুল নীল হয়ে যায়। লাল হয় অনাকাঙ্ক্ষিত তাতানো বর্ষার একটা গাছের দেড়শো কদম ফুল। ডানে যাবো?  চলো যাওয়া যাক। এবার বামে?  ঠিক আছে।  চলো! বিদায় আহ্বান এমন হবে বুঝিনি। এর আগে কোনদিন বৃশ্চিক হেটে যায় নি আমার মরুভূমির মধ্যপথ ধরে। বল্গাহীন স্বপ্ন চুপটি করে বসেনি কোন সীমানাহীন মানচিত্রের চাতালে। আমি…

  • |

    দ্যা লেডি উইথ এ হিডেন ল্যাম্প – ব্রতশুদ্ধ

    বুলেটবিদ্ধ নিঃসঙ্গ জীবন… ছবি হয়ে বেঁচে থাকা সুইসাইডাল উপাখ্যান । একটা এপ্রিল ২১ আরো আসবে দাবানল হয়ে , আরো শাড়ীর আঁচল জ্বলে উঠবে করোনার শ্বাসরুদ্ধ কোর্টের মিথে । কাদম্বরী নামে কোন ফুল নেই । আফিম বাগান খুঁড়েও পাওয়া যায়নি কোন নিঃসঙ্গ স্পেসিমেন । বুনিয়াদ ভিটার ভিড়ে আজো কাদম্বরী কাঁদে। শত বছর ডিঙিয়ে সে রোদ হয়ে…

  • নিদাঘবেলা – শিবানী

    (১) শোকের ওপর রোদ এসে পড়ে, ঝিকমিকিয়ে ওঠে অশ্রু-ঘাম… ধাঁধা লাগা চোখ তখন অলঙ্কারভ্রমে ঈর্ষিত হতে দেখি… দেখি, তপ্ত গ্রীষ্মদুপুর কীভাবে খরতাপে নীরবে পুড়িয়ে চলেছে অ-সুখ, সম্পর্ক… (২) ক্লান্ত দুপুর বেয়ে ভাঙাচোরা সংসারের টুকরো ভরা গাড়ি টেনে নিয়ে চলেছে কপাল থেকে ঘামের ফোঁটা ঝরে পড়ছে খই-এর মতো আর ওর সাথে পিচগলা পথের পিছুটান কাটিয়ে ধ্বংস…

  • মহুয়া সেনগুপ্তর দশটি কবিতা

    ১শত জলকণায় নামগান বাজে।জন্ম-জন্মান্তর ঘুরে ঘুরে আসেসীমান্ত লঙ্ঘিত পায়ে। অতি দূরদেশে তাঁর পথিকসাজ,মালিনীর দীন কণ্ঠহার বুকে জাগে—লতা থেকে চ্যুত অশ্রুফুল,মেঘ থেকে চূর্ণ জলধারা। দুলে ওঠে অনন্ত পথ, ছুটন্ত অশ্বখুরধার, তোমার জন্যসখা, একটি তণ্ডুল আছেক্ষুধিতের শাকান্নে ধরা। ২একটি আলোকিত নদীর পাশে শুয়ে আছি, একবস্ত্রে।আমার প্রকৃতিজন্ম মাদুর করেবিছিয়ে দিয়েছি ধুলোয়। আকাশপথে সুরের পালকি বেয়েউৎসব ঘন হয়ে ওঠে।বুকের…

  • কেবল আজ দোল নয় – অঙ্কন

    কেবল আজ দোল নয়, দোল তো শুরু হয়েছে সেদিনই যেদিন হিংসার আবির উড়েছিলো দেশ জুড়ে , একে-অপরের গালে লগিয়েছিলো যুদ্ধপ্রেম ৷ শন্তিকামী হৃদয়ে নেমে এসেছিলো গিলোটিন রক্তে বিস্কুট চুবিয়ে সন্ধে দেখেছিলো মেম৷ আজ শুধু রং খুঁজেছি… আমি রঙ খুঁজেছি শ্রমিকের ঘামে, আমি রঙ খুঁজেছি ২১দিনে পরা অনশনে ৷ আমি রঙ খুঁজেছি বেকার যুবক-যুবতীর  নিরন্তর চেষ্টায়,…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *