মুসাফির – স্বপ্ননীল রুদ্র

শেয়ার করুন

গুলাম আলির গজলের মুসাফিরের মতন

একটি আত্মহনন অভীষ্ট শুঁকে শুঁকে আমাদের

শহরমুখী হয়েছিল। পকেটে আংশিক উঁকি দেওয়া

রুমালের মতো এক বৃক্ষবয়ন-প্রাণিত গলি

নিরবচ্ছিন্ন ছায়ানির্ভর অবিবাহিত বাড়ির

নামফলক রেখেছিল তার উপোষ-ভারের ঠোঁটে…

 

নেমপ্লেট খেতে খেতে উপাদেয় ঢেকুর তুলেই

তাক থেকে পেড়ে নিয়েছিল ঘুম-উপন্যাস সমগ্র —

 

বরফলজ্জিত বিছানায় পাঠ-প্রতিক্রিয়া শুয়ে…

 

কার্ণিশে ছাদে উত্থিত আনন্দঘন অশ্বত্থ

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • স্বর্ণচাঁপা-আরিয়ান প্রিয়স

    নারীর রূপে আমার আকৃষ্টতা প্রাচীন৷ বিশেষ করে তাদের মুখমণ্ডল৷ ৷ নারীর মুখের চেয়ে অনবদ্য শিল্প কিছু নেই ৷ মাঝে মাঝে অদ্ভুত অনুভূতি মনে দানা বাঁধে… যা কেবল স্বপ্ন সীমাবদ্ধতায় সমাপ্তি হয় না৷৷ নিতান্ত হ্যাংলার মতো তার স্পর্শ পেতে চায়৷ তার গভীর ভর্ৎসনা-পোড়া চোখের ক্রোধ সহ্য হয়ে ওঠে৷ যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেখি কোনো পার্শ্ববর্তী নদী, লেক…

  • বিকাশ – কৃষাণু নস্কর

    ধপধপে সাদা একটা বক বসে আছেছোটো ছোটো কচুরিপানার উপর,জলের মধ্যে ডুব দিচ্ছে ডাকপাখি,খেলা করছে ঝিঁঝিঁপোকা, ফড়িং।ঘাটের সিঁড়িতে সুরকি আর ভাঙা ইট বেরিয়েআসছে, পড়ে আছে বিসর্জনের কাঠামোভেসে আসছে ফুরফুরে বাতাস,হালকা আঁচড় কেটে, জলের গা বরাবর। এখানে আর কিছুদিনের ভিতরে,একটা আর্টিফিশিয়াল লেক হবেআর তার চারিদিকে থাকবে একটাজগিং ট্রাংযাক আর ঝলমলে বাতির সারি।খালের ধার বরাবর গজিয়ে উঠবে একাধিকহাইরাইজ,…

  • আলিউজ্জামানের পাঁচটি কবিতা

    একটি প্রতিবিম্ব ও তার সহজ সমীকরণ (১) আকাশকে ভেতরে ধারণ করে কাঁপানোর ছলসেইমতো জেনেছি ব্যবহারিক জল, আরজলাকর্ষী প্রতিবিম্বে মূর্ধন্যর মতোসম্মতিহীন ঈশ্বরবিশ্বাস কীভাবেকিলবিল করে মাছরাঙার চোখে। যদিও তেমন কোনো উপার্জন নেই আগুনের,তবু, বিস্তৃত এই বাহুদ্বয় তোমাকে বিঁধতে গিয়েভূমিষ্ঠ ফুলের মতো তাকিয়ে থাকে আততায়ীর দিকে। (২) এই বাতাসে এখন তোমার চুলের প্রভাব কাটিয়েখুব গভীর সম্পর্কে হাঁসগুলো জলে…

  • পাঁচটি কবিতা – প্রীতম বসাক

    একটি কাব্য ও তাহার খোসা ১. হে আলোচ্য জীবন! সঠিক শব্দটি আমি খুঁজিতেছি শূন্য পূরণের নিমিত্তে। এত নগণ্য শস্যের সূচি। এত আলোর অভাব। দূরত্ব হেতু আমি পৌঁছাইতে অপারগ তোমার ঔষধি অবধি। অথচ একটি দুটি গান পাইলে মাঠের ঘুম ভাঙিত। সহজ হইত মাটি। দেখো কী আবেগ করিয়া আসিতেছে দিগ্বলয় জুড়িয়া। কত করুণ ওই সজল। হে অপঠিত…

  • একজন পৃথিবী বিক্রেতা – শুভ্র সরকার

    এরপর, অনধীত সমগ্র বর্ষার পতনধ্বনি— একজন পৃথিবী বিক্রেতার ঘুমসংক্রান্ত দুঃস্বপ্ন বিচ্ছুরিত হ’য়ে পড়ে চতুর্দিক। দ্যাখো মানুষগুলো তলিয়ে যাচ্ছে ঘুমঘুম হিমে। মা’র ঘুম থেকে উঠে আসা হাঁসের পালকাবৃত পথের পাশে—তুমি একটা ‘স্নান’ রেখে গ্যাছো। একজন পৃথিবী বিক্রেতার জন্য রেখে গ্যাছো— শেকড়। দ্যাখো, রৌদ্রপ্রখর এক নির্জন জলাশয়ে শেকড় ছড়িয়ে আছে সূর্যাস্ত। আর তোমার বুকের বাঁ-পাশে সব আলো…

  • |

    সুভাষিনী – পিনাকী

    সুভাষিনী, তোমাদের দেশে একেবারে মাটির গভীরে প্রবেশ করার মতন কোনো মাতৃভাষা নেই? চারপাশে এত এত শব্দের সমাহার- লক্ষ লক্ষ মানুষ কোটি কোটি শব্দ খরচ করছে, অথচ ভাষাকে যাপন করছে না। সুভাষিনী, তোমাদের দেশে এক্কেবারে নিরক্ষর মায়ের মতন করে বলার কোনো মাতৃভাষা নেই? ভাষা থেকে ভাষান্তরে চলেছে সকলে অক্লেশে, অবলীলায়,অসম্ভব তৎপরতায়, অথচ ভাষার শিকড় জানে না।…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *