দাবানলের আগে – পার্থপ্রতিম চৌধুরী

শেয়ার করুন

বয়ঃবৃদ্ধ বৃক্ষের শুষ্ক শাখা, আকাশে আকাশ খোঁজে, শুধুই শূন্যতা । বসন্তের বাতাসেও, নেই ডালে সেই সজীবতা । ছায়া চায় —
নীড়হীন নিরাশা, ছিন্ন ডানার প্রজাপতি ,
হায়! বটবৃক্ষ, তুমি বলো, সময়
রয়েছে বাকি ।

সময় থমকে, মহীরুহর ঝুরির আড়ালে
পাখিরা বাঁধেনা বাসা, ভাষা নেই কোকিলের
চন্ডিমন্ডপের পাঠশালে । স্হবির পায়ের নীচে,জীর্ণ নকশিকাঁথা, লক্ষ্যহীন সময়ের — শিয়রে ।
ধ্বংসের আভাসে যখন,
মাটির গভীরে ছোট-ছোটো
গাছ হাত ধরে । সবুজ পাতায় আজ
শব্দের সৌরভ, শরতেও কাশফুল ঝরে ।

সবুজ–ধূসর প্রাণ জ্বলে যদি তাপদাহে
নেভে না শিশিরের জলে, ধূসর বিদ্রোহে ।

কৃত্রিম দাবানল !
হৃদয়ে হৃদয় ছুঁয়ো
যদিও চারাগাছ, আজ হও মহীরুহ ।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • মুসাফির – স্বপ্ননীল রুদ্র

    গুলাম আলির গজলের মুসাফিরের মতন একটি আত্মহনন অভীষ্ট শুঁকে শুঁকে আমাদের শহরমুখী হয়েছিল। পকেটে আংশিক উঁকি দেওয়া রুমালের মতো এক বৃক্ষবয়ন-প্রাণিত গলি নিরবচ্ছিন্ন ছায়ানির্ভর অবিবাহিত বাড়ির নামফলক রেখেছিল তার উপোষ-ভারের ঠোঁটে…   নেমপ্লেট খেতে খেতে উপাদেয় ঢেকুর তুলেই তাক থেকে পেড়ে নিয়েছিল ঘুম-উপন্যাস সমগ্র —   বরফলজ্জিত বিছানায় পাঠ-প্রতিক্রিয়া শুয়ে…   কার্ণিশে ছাদে উত্থিত আনন্দঘন…

  • ভয়ের অনুপ্রাস – কাজী জহিরুল ইসলাম

    টাইয়ের নটে সকাল বেঁধে রাখি এই শহরে সকাল এলে আঁতকে ওঠে পাখি কেউ জানে না কোথায় কি-যে ঘটে । আমার নাকি বন্ধ চোখও হাসে আতঙ্কিত পাখির ডানা ভয়ের অনুপ্রাসে কানাকানির শব্দ কিছু রটে। জীবন ফোনে বলল সেদিন রেগে ঘটবে কিছু আলোর সাথে আলোর ধাক্কা লেগে অবিশ্বাসের প্রকাণ্ড কান পাতি। কোথাও কিছু ফাটল নাকি রাতে? ছন্দহীন…

  • গোপন – ফারজানা মণি

    ১. ঘন সরবরের নীল স্ক্যান্ডাল রাত ফড়িং এর গল্প… টের পাচ্ছি সন্ধ্যায় ডুবে যাওয়া পাতাটা গর্ভবতী ছিলো… সন্তানের মুখ দেখার আগেই চোখ বন্ধ হয়ে গেছে। ২. মৌচাক ভাঙছে।বসতহীন হাজার খানেক পাখা।দিন শেষে আকাশ অন্ধকারে এগুলে কিছু গোপনীয়তার মুখোশ খুলে যায়।

  • আছি বেঁচে বেশ – সমীরজিৎ রায়

    ভিড়ের মধ্যে আছি বেঁচে বেশ। আমার বারান্দায় মাতাল রোদ এক উন্মত্ততায় ক্রমাগত মানুষ আর দানবের ভিড় আমি আঙুলের কড় গুনে যাই দিনের ওপর দিন। দেওয়াল জুড়ে দেওয়াল ভাঙার ডাক কাজে আর কথায় অনেক ফাঁক লেগে আছে কত আঁচড় এলোমেলো আমি দিন গুনে যাই। আমার বারান্দায় ভাঙা বেড়া দেখে যাই – লাশের ওপর লাশ চলে গুনীজনের…

  • আঁধার-প্রবাসী – সাগর সূত্রধর

    হেথা হতে যাও, পুরাতন। হেথায় নূতন খেলা আরম্ভ হয়েছে। আবার বাজিছে বাঁশি, আবার উঠিছে হাসি, বসন্তের বাতাস বয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলে গেছি আমি, দূরে, বহুদূরে, শত-অভিমান ভরে ফিরবো না জেনো কোনোদিন, বিদায় চিরোতরে। শুভ্র মেঘ য্যামন অস্পৃর্ষনীয় সুন্দর সুদূর আকাশে তারা-ফুল শুধুই দেখা যায় নক্ষত্র প্রকাশে। শ্রান্ত দিঘিতে ফোটে যেমন ক্ষণিকের আলো-ছায়ার খেলা তোমার জীবনে…

  • অয়ন ঘোষের পাঁচটি কবিতা

    যুদ্ধ পুকুরে ডুব দিয়ে তুলে আনেশামুক-গুগলি, চুনো-পুঁটিজলের সংসার টালমাটালমাছরাঙার শ্যেন দৃষ্টিতে আগামী যুদ্ধের নিশান উড়ছে। কিস্তিমাত দুঃখকে পোষ মানিয়েআড়াই চালে মাতচৌষট্টি খোপ সাজানো আছেঈশ্বর আমি মুখোমুখি। শীত দু’হাতে তাড়াচ্ছি শীতআগুন কৌশলেঅরণি শেখাল, ভিতরের কাঁপন থামলেশীত আপনা থেকেই বসন্তকে পথ করে দেয়। নিস্তার একটা কৌণিক বিন্দু থেকেমেপে নিয়ে যাত্রাপথতির্যক আলোর সাথে সুরবুকের বাঁ’দিকে এসে সংসার পাতলঘুম…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *