দুটি কবিতা – সৌগত দত্ত

শেয়ার করুন

কর্দমাক্ত বর্ষাকে বৈশাখের চিঠি

চিঠিগুলো ছড়িয়ে আছে
দক্ষিণের চিলেকোঠায়,
তাতে ঠিকানা লেখা হয়নি এখনও।
কি নামে ইতিহাস উৎসর্গ হয়?
বন্ধু, নাকি প্রিয়তম!
তোমার প্রতিবেশী জানালাটায়
আজও আমার কবিতা লেগে আছে;
তুমি ছেড়ে গেছো
না পাওয়ার অভিমান আর লাঞ্চনার বিজয়ে।
তবু,
কাঁটাতার আর কাটাকুটি খেলায়
সিঁদুর মুছে যায়,
প্রেম নেমে আসে,
কোনো এক নাম না জানা ভালো লাগার বেশে;
কোনো এক ভালো থাকাঃ অনিচ্ছুক তারার উল্কাপাত।
তবু,
ফিরে এসো,
যদি ক্ষোভ আর ক্ষত ফুরিয়ে যায়
তানপুরার ছেঁড়া তারে।
-ইতি
থাকে থাকে সাজানো শাড়ীর গন্ধ মাখা আদর।

হে নূতন

যে তারাটি আজ খসে পড়ল
উত্তর থেকে পশ্চিমে,
নিভৃতে তার খোঁজ রেখেছে কোনো স্থবির।
সংঘাতঃ মিলন-কলহ-ভেদঃ প্রতিসরণ,
কারো কোনো জবাব থাকেনা,
শুধু কিছু গতিপথের অদলবদল,
গোধুলিতপন রাখেনি খবর যার।
বিশ্বাস
       প্রেম(বিস্ময়ী বৈধতা)
                     মৃত্যু।
পেছন পাতায় আজও
ভুল নামে ছাপা হয় “কদম বরী “।।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • গুচ্ছ কবিতা : অনূদিত আমি – বেবী সাউ

    এক। আমাকে সামান্য জেনে, বের করে এনেছ তুমিওবিভক্ত ধাতুর মতো। বারবার অবকাশ দেখেএই বরফের দেশ, এই নুড়ি পাথরের দেশঅচেনা যেমন ছিল, পরিচিতহীন বোধে তাওকৌতুক বিশ্বাসী আর লেনদেন ছেড়ে ভাঙা পথ…সামান্য চকলেট লোভ প্রত্যাশী আমিও, পিপিলিকামুখে করে নিয়ে আসি মিথ্যে পরিচয়, হাতছানি অথচ, যেতেই হবে; এই পরিযায়ী বেশ ছেড়েদেশ ছেড়ে; সহজেই; নিপুণ খুনির মতো ভয়নেই, আশা…

  • শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়ের পাঁচটি কবিতা

    বসন্ত পূর্ণিমা রোজ সকালকে বলছি আকাশের নামান্তরআমার তোমার মাঝের এই এক তীব্র প্রত্যয়এভাবে আমি ও তুমির সাংসারিক মিঠাতানবলি মাতৃত্ব বুঝিয়ে দাওবলে যাই দাম্পত্য কেন-নাবলা যায় না নীরবতাহাক্লান্ত বসন্ত!পূর্ণিমা খাচ্ছি এখন মাঝরাতক্ষুধা, অশ্রুর অস্তরাগএ বিচলন সময়ের হতদ্যমমাংস রান্নার রংটা তিতকুটেমাংস রান্নার স্বাদটা এমারল্ডবদ্ধ উঠানে মঞ্চ আবির, দোলের যাত্রাএত সোচ্চার! যেন নাভির উচ্চারণহাঁটু ভাঁজ করে ক্ষমা চাইছি…

  • শুভদীপ মাইতির দশটি কবিতা

    ১.রোদ হলুদ বেড়ালের মতো জানলা দিয়ে ঢুকে আসে হিরন্ময় আভাপুড়ে যেতে যেতে, অন্ধকার কেটে কেটে প্রকট হনসূর্য দেবতা চলে যাওয়ার আগে এসো প্রণাম করি পবিত্র হৃৎস্পন্দনে ২.অসুখ মনখারাপের দিনে ভীষণ ছোঁয়াচে বসতহীন পাখিটির মেঘবাদলাপুরের সেতু ছুঁয়ে গুমোট আকাশ, চুপি পাখিরালয়সানাইয়ের করুণ সুরের মতো দরদ। ভিজে যাচ্ছে আনন্দনগর ও জন্মান্তর ৩.ভাঙন জিরানকাটের চিহ্ন নিয়ে শরীর। ভেঙে…

  • ঘোলাটে মায়া – আকাশ সাহা

    ঘষা কাচে গুমোট অন্ধকারের মাঝে, মুখ রাখি পড়ন্ত বেলায় আমার নির্ভেজাল হৃদয়ের শার্সিতে কখনও বা হাত রাখি জানালার শিকলে , কখন আবার ঘোলাটে জীবনের প্রেমহীন অনুকম্পায় হেটে চলি একমুঠো ঝড়ের আশায় জানি আমি, জানালার ওপারে, ঘোলাটে ঘষা কাচের ওপ্রান্তে পৃথিবীর আর একটা রূপ ওপর হাতে আমার জন্য, সন্ত্রাস,হানাহানি,বিস্বাসঘাতকতা.অরাজনৈতিকতা প্রেমহীন মানবত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে. তার আলোকরাশিতে,…

  • অরূপরতন হালদারের পাঁচটি কবিতা

    ১ অবদমন বেড়ালের থাবার নীচে উদ্ভূত গানেরপ্রতিটা নিঃশব্দ এঁকেছে আমার দেওয়ালে,আয়নাটি স্বপ্নের শ্বাস মুছে নেয় প্রহরে প্রহরে,তার মকররেখায় ক্লান্ত সূর্য, তবু ভেঙে যাওয়াথেমে আছে লক্ষ্মণরেখায়। পর্দার বিভঙ্গ দেখেতুমি উন্মত্ত হয়েছিলে, ক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো শিসউড়ে গিয়েছিল তোমার গলাবন্ধ থেকে—সেসবদিন আজ ক্লিশিত পানপাত্রে পড়ে আছে, তুমিওনখের রং পাল্টে ফেলেছ কবেই। কমলা ঝরিয়ারসন্ধ্যা ফিরে গেল, এবার শনির থানে…

  • সিন্টু প্রধানের পাঁচটি কবিতা

    পোশাক তোমার চাদরটার সাথে আজ দেখা হয়েছিল। এই শীতের সকালে ওই একটা চাদর কতজনের গায়ে ঘুরছে তা আমার জানা নেই। জানা নেই ঠিক এই মুহূর্তে কতজন রোদে শুকোতে দিয়েছে চাদরটা। কেবল দেখা হয়ে যায়… তোমার পাজামাটার সাথে, ওড়নাটার সাথে, চাদরটার সাথে, অন্য অন্য শরীরে। তোমার প্রতিটা চুড়িদার গোছানো আছে আমার মাথার ভিতর। তারা কখনো পুরনো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *