Similar Posts
একটা সিগনাল – ঝর্ণা মুখোপাধ্যায়
প্রাচীন মানুষটার কাছে জেনেছিলাম যুদ্ধ হাঁটছে অনমনীয় পুঁজি অমঙ্গলের দিকে সিলেবাসে ধোঁয়া-আগুন-পেশাদার রাজনীতি নেশাতুর হাওয়ায় ব্রেকিং নিউজ, খুনীদের বিচরণ অর্জুনের তীর লক্ষ্যভেদে। হাভাতে বিশ্ব, জল জমা উঠোন দুঃখের রাত পোহায় ভাঙা চোরামুখ, আপদ উদ্বাস্তু! ছপছপ পায়ের শব্দ উড়ে আসে টান টান বিবেক-বিশ্বাস-রাজপথ ভাসিয়ে অবিরাম- শব্দ ফেটে ফেটে পৃথিবী জাগায়। একটা সিগনাল – ‘যুদ্ধ নয় শান্তি…
মুসাফির – স্বপ্ননীল রুদ্র
গুলাম আলির গজলের মুসাফিরের মতন একটি আত্মহনন অভীষ্ট শুঁকে শুঁকে আমাদের শহরমুখী হয়েছিল। পকেটে আংশিক উঁকি দেওয়া রুমালের মতো এক বৃক্ষবয়ন-প্রাণিত গলি নিরবচ্ছিন্ন ছায়ানির্ভর অবিবাহিত বাড়ির নামফলক রেখেছিল তার উপোষ-ভারের ঠোঁটে… নেমপ্লেট খেতে খেতে উপাদেয় ঢেকুর তুলেই তাক থেকে পেড়ে নিয়েছিল ঘুম-উপন্যাস সমগ্র — বরফলজ্জিত বিছানায় পাঠ-প্রতিক্রিয়া শুয়ে… কার্ণিশে ছাদে উত্থিত আনন্দঘন…
অঘ্রাণে – জিললুর রহমান
ঘ্রাণ নেবো – নাসিকা উঁচিয়ে টানি; পৃথিবী কি চিরকাল অঘ্রাণেই থাকে? আমাকে তো অঘ্রাণের ধান ডেকে ফিরে শীতের আলস্য কিছুতে ছাড়ো না তুমি আমার সে শস্যদানা উঠে না দেউড়ি ঘরে সোমলতা জোছনায় গড়াগড়ি যায়, এভাবেই বুঝি পৌষমাসে সর্বনাশ আসে… দ্বিখন্ড পঞ্চমী চাঁদে ভেজা চুমু লেগে থাকে গায়ে সর্বনাশা অশ্রু জলে ভাসিয়ে দেয় ছাতার শরীর
চিঠি – অমিতাভ গুপ্ত
এই নাচিকেত অগ্নিকে চেনো, কমরেড আত্মদহনে নিজেকেই করো দীর্ণ আগুনের আজ দিয়ে জেনে নাও চেতনায় কি রয়েছে আজও মলিন ও জরাজীর্ণ সকলে জানে না, অথবা ঈষৎ জানলেও মেনে নিতে গেলে হয় দ্বিধা-সংশয় নব্য ঔপনিবেশিকতার দাপটে এখন এদেশে বিত্তবাদের দাসানুদাসেরা সশস্ত্র, দুর্জয় দুঃখ দিয়েই রাঙা করে তোলো ভোর ভাঙা সেতারেই ঝংকৃত ভৈরবী প্রতিটি প্রশ্নে স্পন্দিত উত্তর…
নারীদিবসের ভাবনা – দেবারতি ভট্টাচার্য্য
নারীদিবস নিয়ে লিখতে হবে,না নারীদের নিয়ে?। সোসাল মিডিয়ার কল্যাণে এইসব দিবস নিয়ে সবকিছুই কমবেশি জানা হয়ে যায় সব্বার। বিভিন্ন ধরণের সম্ভাব্য “ভাবনা”ও পড়া হয়ে গেল। আমি আর নতুন কী বলব বা লিখব? নিজে নিতান্ত সাধারণ মানুষ, সব দিনগুলোই আমার কাছে একরকম। আলাদা করে নারীদিবসের কোন ভাবনা আসেনা। নারীদের নিয়ে লিখতে বললে তাও হয়ত দুলাইন গোরুর…
৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮:- একটি শোকগাথা – শোভন ভট্টাচার্য
(কবি গৌতম বসু স্মরণে) অগ্নিকে ছুঁয়ে-থাকুক প্রকৃত শ্মশানবন্ধু… জল…একদিন বন্ধুর সাথে গিয়ে ‘রাজেশ্বরীদের বাড়ি’পেয়েছি প্রথম দেখা। সবে লেখা হচ্ছে ‘রসাতল’।‘অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে’ ছিল কি আভাষ তারই! দূরভাষে যোগাযোগ মোটেই ছিল না বলা ভালো;মাঝেমধ্যে দেখা হলে হয়ে যেত, না-হলে হত না;কিন্তু দেখা হলে সেই হাসিমুখ-উপচে-ওঠা আলোমনে পড়ছে খুব। আপনি, বিশ্বাসে-সংশয়ে আনাগোনা করতে করতে ইদানীং ডুব দিচ্ছিলেন…

