অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

শেয়ার করুন

বিধিনিষেধ ১৪৪

দৃশ্য শেষ। 
এইবার কান্না শুরু হবে
কে কেমন করে কাঁদবে—
তারই নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক।

আমপাতা এসে গেছে, জামপাতা এসে গেছে, 
এমনকি বটপাতা–অশ্বত্থপাতাও এসে গেছে, 
যার ওপর যেমন নির্দেশ 
সে সেই পাতায় মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকুক।

জীবনের সব কান্নাই শিল্প।

মনে রাখবেন, 
সিগারেট খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর 
আগুন জ্বালানোও তেমন দেশের পক্ষে ক্ষতিকর—

অনুগ্রহ করে—কেউ আগুন জ্বালাবেন না।

কপাল

১৬ ঘণ্টা মরে থাকি, ৭ ঘণ্টা অচৈতন্য, 
১ ঘন্টা নড়াচড়া করি—
তখনই মেঘ ভেসে যায়,
নানারকম বৃষ্টি এসে লাগে

ঘর খুলে যায় 
আমি রামায়ণ পড়ি, মহাভারত পড়ি 
আর বন্যায় স্নান করি—

তারপরও ৫ মিনিট থাকে—
কেউ কেউ মিস্‌ড্ কল দেয় 
আমি পদ্মপাতায় ফুলকপি এঁকে 
— তাদের নিমন্ত্রণ করি।

রসকলি

অজস্র ভঙ্গি আছে তোমার 
এই ভঙ্গিতেই গোলাপ বেশি গন্ধ ছড়ায়,
এই ভঙ্গিতেই
চতুর্ভুজের থেকে ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল বেশি,
এই ভঙ্গিতেই 
পরিযায়ী পাখি এসে ভিড় করে লেকের ধারে, 
এই ভঙ্গিতেই রসে টই-টুম্বুর হয় গাছ 

এই ভঙ্গিতেই
ভোর থেকে আমরা তাকে রসকলি বলে ডাকি।

হাই – আমি ফাল্গুনী 

ঘর থেকে পালালেই কি আর রাস্তা থেকে পালানো যায়? 

ছড়ানো-ছেটানো পাথর কুচি দিয়ে
রাস্তা কিন্তু বড়ো হতে থাকে—
এক চেক পোস্ট থেকে আর এক চেক পোস্টে 
এগিয়ে যায় বডি।

ভেবেছিলুম
তোমাকে নিয়ে মানচিত্রটা ঘরেই রাখব; 
তুমি সেই পালাতে চাইলে, 
এই স্টেশন থেকে ওই স্টেশন
এই জানলা থেকে ওই জানলা—
এখানকার আম-কাঁঠাল, ওখানকার জাম-জামরুল 
একই মানচিত্রের এদিক-ওদিক!

পালালে—
আমাকে নিয়েই পালালে 
কিন্তু বক্তরেখার বাইরে যেতে পারলে না।

দিঘি এবং লতাপাতা

চরাচরে মাহাত্ম্য না ছড়ালে,
‌‌ বা‌‌ক্য এত বিন্যাস পেত না—!

কথাটা তো তাই, 
রাত্রি যদি ঘরেই থাকত 
এই নীল অন্ধকার, আবেগে সমুদ্র টেনে ধরা,
শূন্যের এত ঢেউ
কখনো গর্জন, কখনো শুধুই জল 
আর এই বাষ্পীয় মায়া 
যেন ধানক্ষেতে চু-কিৎ-কিৎ খেলা

রাত্রি যদি ঘরে থাকত 
যদি আটকে থাকত আসবাবপত্রে 
তাহলে ব্যালকনি কখনো শিল্প হত না।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • অকাল বোধন – কোয়েল ভড়

    ১.যে আলোদেশে আলাপ আমাদেরতার ঠিকানা পায়নি কোনো ষড়যন্ত্রী কীট, মুদ্রিত কোনো অক্ষরেধরা পড়েনি তার অবয়ব। ২.বয়ে যাওয়া নদী বা সময়ের আখ্যানেপ্রাপ্তি লেগে থাকে ভগ্নাংশের- তবু হাওয়ায় মিশে যাওয়া সুগন্ধেরব্যবচ্ছেদ করতে পারে না কাঁটাতার। ৩.ঊ-কারের তীর ধরে আসতে থাকা প্রেমবার্ধক্যের ভরসা রেখে দেয় রঙিন রুমালে, প্রিয় রঙ্গন, এবার বসন্ত নামাওকোনো শারদীয় বিকেলে…

  • |

    সুবর্ণ ঘুমাও – বাসুদেব মণ্ডল

    ঘুমাও প্রিয় মেঘ অ, আ আমি তোমার ব্যথার পাশে বসে আছি দেখো। মণিপুরী নৃত্যের মতো আমার মন-ময়ূরটা মেঘের কিনারে নেচে যাচ্ছে, সুবর্ণ ভাবনাগুলো তোমাকে ঘিরে নেচে ওঠে ঘুঙুরের মতো সুবর্ণ; তুমি আমার হৃৎপিণ্ডের বারান্দা জুড়ে বসে আছ। কেয়ারি ফুলের ডালা হাতে ঘুমাও সুবর্ণ ক, খ আমি পাশে ব’সে বেহালায় বো বোলাচ্ছি!

  • একজন পৃথিবী বিক্রেতা – শুভ্র সরকার

    এরপর, অনধীত সমগ্র বর্ষার পতনধ্বনি— একজন পৃথিবী বিক্রেতার ঘুমসংক্রান্ত দুঃস্বপ্ন বিচ্ছুরিত হ’য়ে পড়ে চতুর্দিক। দ্যাখো মানুষগুলো তলিয়ে যাচ্ছে ঘুমঘুম হিমে। মা’র ঘুম থেকে উঠে আসা হাঁসের পালকাবৃত পথের পাশে—তুমি একটা ‘স্নান’ রেখে গ্যাছো। একজন পৃথিবী বিক্রেতার জন্য রেখে গ্যাছো— শেকড়। দ্যাখো, রৌদ্রপ্রখর এক নির্জন জলাশয়ে শেকড় ছড়িয়ে আছে সূর্যাস্ত। আর তোমার বুকের বাঁ-পাশে সব আলো…

  • নারীর প্রতি – শাহিন চাষী

    তুমি চাইলেই পায়ের শিকল ছিঁড়তে পারো নির্দ্বিধায় যেমন ছেঁড়-সেলাই সুতার। তুমি চাইলেই প্রদীপ জ্বেলে মুছে নিতে পার অবলীলায় তোমার যাবতীয় অন্ধকার। কে দেয় তোমাকে বাঁধা? কে রোখে তোমার পথ? তুমি তো আমার জীবন সত্ত্বার জ্যোতির্ময় অহংকার। সাহসিনী হও, কেটে যাবে মেঘ, বাতাসে মিলাবে অনাহুত দীর্ঘশ্বাস, দিগন্তে আসবে আলোর বাণ। তুমি জাগলেই তোমার সীমান্ত জুড়ে বসন্ত…

  • অরূপরতন হালদারের পাঁচটি কবিতা

    ১ অবদমন বেড়ালের থাবার নীচে উদ্ভূত গানেরপ্রতিটা নিঃশব্দ এঁকেছে আমার দেওয়ালে,আয়নাটি স্বপ্নের শ্বাস মুছে নেয় প্রহরে প্রহরে,তার মকররেখায় ক্লান্ত সূর্য, তবু ভেঙে যাওয়াথেমে আছে লক্ষ্মণরেখায়। পর্দার বিভঙ্গ দেখেতুমি উন্মত্ত হয়েছিলে, ক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো শিসউড়ে গিয়েছিল তোমার গলাবন্ধ থেকে—সেসবদিন আজ ক্লিশিত পানপাত্রে পড়ে আছে, তুমিওনখের রং পাল্টে ফেলেছ কবেই। কমলা ঝরিয়ারসন্ধ্যা ফিরে গেল, এবার শনির থানে…

  • শববাহকের দল – আশিস ভৌমিক

    শববাহকেরা চিরকাল শব বয়ে বেড়ায় তারা জানে সব লাশ চরিত্রগত ভাবে এক কেবল রং বদলায় বয়স বদলায় জাত বদলায় । তার পর রোদ জল বৃষ্টিতে ফুলে ফেঁপে ঢোল । পাশে পাশে হাঁটে বেতাল ; খোশগল্প করে, মন্ত্রণা দেয়, দিন বদলের স্বপ্ন দেখায় কাঁধ বদলের মাঝে দু-এক ছিলিম গাঁজাও ধরিয়ে দেয় ! লাশের ভার বাড়ে ।…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *