কারন বিপ্লব একটি মিথ – ঔরশীষ ঘোষ

শেয়ার করুন
কিছুতেই বোঝাতে পারছি না আমি কী ভীষণ যন্ত্রণায় আছি:
লেখার খাতাও দেখি কলম ছোঁয়ালে লাল হয়ে যাচ্ছে এক লহমায়
পাথর চিবিয়ে যে পেট ভরে না সে কথা বলি কাকে,
এখন সবাই পাথর চিবিয়ে দিন কাটাচ্ছে আমার মত
শুধু মনে হয়ে যে যার বাড়ির রাস্তা ভুলে
একদিন এক খোলা মাঠে জড় হবে
আর স্লোগানে না- কবিতায় কবিতায় মুখরিত হবে আমার পৃথিবী
আসলে বিপ্লব কখনও মানুষের ভাষা নয়,
কারন বিপ্লব পাখিদের ভাষা… পাতাদের খসখস শব্দ
চাঁদের আলোয় যে ছেলেটা মেয়েটির হাত ধরে রাস্তা পারাপার হল
তার হাতে অস্ত্র কখনও মানায়?
আমি সেই হাতের ছোঁয়াতে বিপ্লব দেখেছি
আজ একজন অন্ধের দুচোখে যত অন্ধকার ছিল
তারও বেশি অন্ধকারে আমরা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছি:
আমরা শিখে গেছি কিভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় লাশের পাহাড়
স্রোতস্বিনী রক্তের নদীতে কত সহজেই স্বপ্নের তর্পণ দিয়েছি
এবং দেখেছি কিছু খোঁচর দালাল আর স্তাবকের দল
গলে যাওয়া আইসক্রিমের মতো
প্রতিদিন চুমুকে চুমুকে পান করে আমাদের ঘিলু
মেধাশূন্য ঘোলাজলে আমরা তাই ভাসিয়েছি স্বপ্নের প্রদীপ
যথেষ্ট বাতাসে যারা প্রতিদিন মৃত্যুভয় কাঁপে
কিন্তু একটাই কথা মাঝেমাঝে এখনও ভাবায় আমাকে
দুটো বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে
নিশ্চয়ই আরও অনেকগুলো বিশ্বযুদ্ধ হবে আর হতে থাকবে
আর এটাও সত্যি যে প্রতিবারেই অকাতরে মরেছি আমরাই
তবু দেখুন বছর বছর তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছি আবার
কয়েকটা ব্যারিকেড আর বেয়নেট
একদিন এত ভিড় সামলাতে পারবে তো!
ঔরশীষ ঘোষ
শেয়ার করুন

Similar Posts

  • অমীমাংসিত – কোয়েল

    ১. প্রতিটা যুদ্ধের আগে যে দামামা বেজে ওঠে, তাকে আমি নির্লিপ্তভাবে অবহেলা করেছি। ২. পুড়ে যাবার আগে আমার যতো টুকরো-টাকরা ‘আমি’ ছিলো, তা’ আজ আরও টুকরো টুকরো হয়েছে ক্ষমতার হাত ধরে… ৩. যারা গোল করে ঘিরে ছিলো আমায় তারা আমার শাড়ি উড়িয়ে জানিয়েছে- এ তল্লাটে কোনো পাগল কুকুরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি… ৪. ছেড়ে যাওয়া প্রেমিক…

  • অন্তজা – শুভদীপ রায়

    শেষ পর্যন্ত তোমার কাছেই ফিরে আসি- বারবার, ক্ষতবিক্ষত অন্তঃকরনের কোনো নিরাময় তুমি জাননা- আমি জানি, তবু অহংকারের সামনে বারবার হেরে যাওয়া অসহায়, ঠিক তোমার মতোই, খেয়াল করি – তোমার পায়ের নুপুর , শিকল হয়ে কামড়ে ধরেছে, রক্ত ঝরছে , তবু তুমি নেচে চলেছ যমরাজের বুকের উপর, তোমার লখিন্দরকে বাঁচাতে,……. কিন্তু আমি পারি নি , ভরা…

  • অতিকথা – গৌতম চৌধুরী

    মনস্থির করিয়া একই দিকে যাঁহারা উড়াল দেন, তাঁহারাই সাধক মনেপ্রাণে এই কথা বিশ্বাস করিয়া শূন্যে ডানা মেলিয়া দিয়াছিল মানস দীঘির হাঁস মাইলের পর মাইল উড়িয়া চলিয়া যে-পাহাড়ের ঝরনাজলে তাহাদের দিনকয়েক বিশ্রাম লইবার কথা সেইখানে পঁহুছিয়া প্রথম হোঁচট খাইল সে পাহাড় কই, ঝরনা কই পাদদেশ হইতে গলগল করিয়া পীতাভ ধোঁয়া বাহির হতেছে আর বুম বুম শব্দে…

  • রামকৃষ্ণ মাহাতো-র পাঁচটি কবিতা

    ঝুমৈরা সংসারটা ছোটো নয় , দু-দুটো পেট আছেসেই পেটের ভরণ-পোষণ আছেআছে ভাদ্রের দুপুর; সেই দুপুরে চলে চৈত বৈশেখের বাড়তি গাঁজন,ঝুমৈর গাঁজন। মাঝে মাঝে মুখ চেয়ে ঝুমৈর শুনে নতুন বৌ ঝুমৈর হাঁকাই গা ভিজে, মন ভিজেভাদরের চাল ভিজে নাই। মোরগ লড়াই  দুটো মোরগ। দু-জন রসিক।মৃত্যু মৃত্যু খেলা;আখড়ার ভিতর জুড়ে বীর রক্তের তিলক, এই বীর রক্ত সূর্যাস্তে…

  • |

    প্রেম ও দ্রোহ – পিনাকী

    এখনো তো কত শোক রয়ে গেছে বাকি রক্তের ঋণ বেড়ে গেছে ক্রমাগত কত বঞ্চনা, টাটকা গভীর ক্ষত তা’বলে গোলাপ আজকে ফুটবেনা কি? কত শত লোক এমনিই মরে গেছে কত বিদ্রোহ প্রভাব রাখেনি কোনো তবুও তো চাকা থমকে যায়নি, শোনো মানুষ এখনো হাতে হাত রেখে বাঁচে। যারা বলে গেছে ভালোবাসো ভালোবাসা স্পর্শ করেনি তাদেরকে কারো ঘৃণা…

  • মুসাফির – স্বপ্ননীল রুদ্র

    গুলাম আলির গজলের মুসাফিরের মতন একটি আত্মহনন অভীষ্ট শুঁকে শুঁকে আমাদের শহরমুখী হয়েছিল। পকেটে আংশিক উঁকি দেওয়া রুমালের মতো এক বৃক্ষবয়ন-প্রাণিত গলি নিরবচ্ছিন্ন ছায়ানির্ভর অবিবাহিত বাড়ির নামফলক রেখেছিল তার উপোষ-ভারের ঠোঁটে…   নেমপ্লেট খেতে খেতে উপাদেয় ঢেকুর তুলেই তাক থেকে পেড়ে নিয়েছিল ঘুম-উপন্যাস সমগ্র —   বরফলজ্জিত বিছানায় পাঠ-প্রতিক্রিয়া শুয়ে…   কার্ণিশে ছাদে উত্থিত আনন্দঘন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *