|

কাদম্বরী – আর্যতীর্থ

শেয়ার করুন

সব আগুনের একটা চকমকি লাগে।
সে তুষের ধিকিধিকিই হোক, বা দাবানলের দাউ দাউ।
কে জ্বলে ছাই হবে, আর কে হবে চিরদীপ্যমান,
সেই দহনের বিস্তারের বহু আগে, অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে চকমকিদের গল্প।
ইতিহাস সাক্ষী, চিরভাস্বর রবিরও একজন কাদম্বরীর প্রয়োজন হয়েছিলো।

সব সোনার একটা কষ্টিপাথর লাগে।
যাতে ঘষে দেখতে হয়, আর কত পুড়ে গেলে নিখাদ সোনা পাওয়া যাবে।
নিজেকে সোনা ভাবার লোকের অভাব নেই,
কিন্তু কষ্টিপাথরের পরখ বিনা সেই দাবী অবান্তর।
আবার কত সোনা নিজেকে পিতল ভেবে হাটে বাজারে সস্তা বাসন হয়ে পড়ে আছে,
কোনো কষ্টিপাথর তাদের কানে কানে বলেনি,
‘ একটু ঘষেমেজে নাও , তোমার ঔজ্বল্য আকাশ ছুঁতে পারে।’
আশিরনখর যাঁর সোনা দিয়ে মোড়া, সেই কবির রাজাকে যাচাই করে দিয়েছিলেন এক অন্তঃপুরচারিণী। কাদম্বরী।

সব সূর্যেরই উদয়ের পথে ঊষাকে প্রয়োজন।
যে তার সব দ্বিধাকে কাটিয়ে দিয়ে বলবে, ‘যাও, গোটা আকাশ তোমার অপেক্ষায়’
প্রথম আলোকে যে বলবে, ‘শোনো, একদিন এ আলো সমস্ত আঁধার ঘুচাবে,
বন্ধ জানলার চিলতে ফাটলের ফাঁক দিয়ে আলোকিত করবে সব অন্তঃপুর,
তোমার আলোতে মানুষ নিজেকে চিনবে, তুমি শুধু নিজের তেজে জ্বলে ওঠো, রবি।’
কাদম্বরী।।কবির প্রথম কিরণের সাক্ষী। রবির ঊষা।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • জাদু – শুভজিৎ দাস

    দুধের মলমে যত মেরামত পুষে রাখি বুকে,কুম্ভ শিথিল করি, নুন-রঙা রাগ, উৎসুকে।পাহাড়ি ফুলের পায়ে দেবতার হাত খুলে রাখি,ডানা বন্ধক রেখে মানুষ হয়েছে প্রিয় পাখিআজকে উড়াল দিক ফ্যান্টাসি ফ্যান্টাসি খেলানিয়মেরা ভেঙে গেলে উবে যাবে সব অবহেলা। অপার ইথার থেকে মানুষের মুখ ভেসে আসে,নগ্ন নৃত্যে তারা শিশুদের সরগম-এ হাসে।।

  • পল্লব গোস্বামীর গুচ্ছ কবিতা

    একদিন সারাদিন  ছোটো ছোটো বদ্রী পাখির মতো  দিনগুলি ভাবি  দিনভর ওরা কোঠাঘরে কিচমিচ করে  ঠান্ডা লাগে, জ্বর আসে  যেমনভাবে জ্বরে কাবু সারা শহর  দানাপানির জন্য  ভিক্ষাপাত্র নিয়ে ঘুরি  বাগড়াইচণ্ডীতলায় বিশাল হাট  সেখানে  ফ্রীঞ্চ, ককাটেল, জাভা,  লাভ বার্ডের আসর  তবুও ভিক্ষা মেলে না  মাথার ভেতর  বুড়ো কাছিমের মতো হাঁটে  একেকটা দিন  সমুদ্র ফেনায় শুশ্রূষা কেটে যায়–…

  • ও একান্ত, ও বসন্ত – শুভ চক্রবর্তী

    পুরোনো প্রেম, এর মানে কিছু হয়? হয় রে হয়, রক্তাক্তহয়, তারপর যদি মনে হয় তাতে আকাশ মেশাব তা-ওহয়, তবে আমার সম্বন্ধকে ওইরকম করে মিশিয়ে দিয়ে?তাতে আমার শেষ চিহ্ন রেখে দিয়ে যেতে পারবো গো! আমার তো আঁচল শতচ্ছিন্ন, ধরবে ওই আকাশ ভরাপ্রাণপ্রপাত, জন্মান্তর কি নিশ্চিতরূপে মৃত্যুর নিকটেআসে, নাকি আমারই অতিবাহিত সময়ের উলটোদিকতার প্রত্যয়, একাকীত্ব, মরুশব্দ বাহকের…

  • রাজেশ্বরী ষড়ংগী-র পাঁচটি কবিতা

    শব্দপ্রিয় পাখি পারানি এমন হোক, মধুকণ্ঠ গানশান্ত টেবিল জুড়ে পড়ে থাকে কিছু অভিমান তোমার নক্ষত্র খুলে পুড়ে যাচ্ছে আগুনের দেশবিষন্ন ছাই,প্রতি রাতে জেগে উঠি ম্লান-চক্ষু ভেঙে একা,শোকহীন বিদীর্ণ গভীরে ধীরে! তার অহংটুকু পোড়াতে দিও তুমি। তবু আলোর আত্মহত্যা কখনও লিখিনি।মুখের ভেতর জেগে ওঠেপাখিদের প্রিয় কোনো দ্বীপ।প্রতিটি শান্ত ভোর ঘুম ভাঙা মুগ্ধ সকাল। ভেসে থাকা জলভার,…

  • অরিত্র শীলের পাঁচটি কবিতা

     শিথিল পেশির মেধাস্বত্ব এইমাত্র মৃত শ্রমিকের পিঠে, নামুক বৃষ্টি মাঠ নিঃশ্বাসে নেই অনুতপ্ত ক্রেন নিঃশ্বাসে নেই তলপেটের ঘ্রাণ বৃষ্টির জল ছুঁয়েছে কীর্তিহাট পেশিতে পেশিতে ইঁটের তাগাড় নুনমাখা ক্যাম্পখাট ডানাছিঁড়ে মরা মাসে একা একা পাখিদের চেয়েও উঁচু দিয়ে উড়ে বাতাসে দিয়েছে ছ্যাঁকা শূন্যের সব দুঃখকীর্তি ভরে বটের শিকড় এলেবেলে গেছে মরে চাতকের ঠোঁট, ঠোঁটের খিঁচুনি, উনুনের গায়ে স্যাঁকা নরম ঘাসের যেতে বসেছিল স্তম্ভবিন্দু…

  • সমর রায়চৌধুরীর পাঁচটি কবিতা

    ধ্বংস-ধ্বনি রাগ ‘হংস-ধ্বনি’ আমি আর শুনতে চাই নাআমি শুনি নিজের ধ্বংস-ধ্বনি কে কঁকিয়ে উঠলকে আর্তনাদ করলদুঃখে গুমরে উঠল কেকার হাহাকার শোনা গেলকার দীর্ঘশ্বাসকার অশ্রুকেবলই আমার গলার ভেতর দিয়ে নেমে যায়,নেমে যায়, নেমে যায়, শিশ্নের দিকে, পায়ের দিকেমিশে যেতে থাকে রক্তে আরভারী হয়ে ওঠে মাথা নিজের ধ্বংস-ধ্বনিই কেবল শুনি, শুনতে পাই—রাগ ‘হংস-ধ্বনি’র ভেতরেও তৃতীয় নয়ন আমার…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *