ঘর – অয়ন চৌধুরী

শেয়ার করুন
শরীর ছুঁয়েছে অদম্য বিষ রাত্রির কিনারে

এক একটি খোলা ভেঙেছে জ্যোৎস্নার মতো
যেটুকু পর্ণমোচী বিকেল লুকোনো ছিল একান্ত নিঃস্তব্ধতায়
কখন যেন বছর পেরিয়ে হারিয়ে গেল জীর্ণতায়!
বুকের উপর যে দুটি শালুক
সান্ধ্য-কোলাজে আজ না-হয় বৃষ্টি নামুক
একটা ঘর সাজুক মোমবাতিতে
না কোনও শোকের সিম্ফনিতে
যে ঘরের প্রথম ও শেষ একটা সমুদ্রের বুকের মতো ধরে থাকবে অজস্র নাম না জানা কুচি কুচি স্বপ্ন…
দিনের গর্ভ ভেঙে সুরের চোরা স্রোত
কেন? কেন এমন আশ্চর্য রৌদ্র মিশছে বালুকাবেলায়!
এবার কি তবে শেকল ছিঁড়বে! ছিঁড়বে যাবতীয় রুদ্ধ কারাগার!
বারা ভাতে ঘোর লাগছে। ঘোর লাগছে জলের গ্লাসে
কী যেন ভাঙবে, কী যেন ভাঙবে এখনই
কী যেন গড়বে
                  কী যেন ভাঙবে
এমন উদাসী দিনে ওই দূরে শোনা যায় কোলাহল
কয়েকশো কোটি মৌন মিছিলের…
শেয়ার করুন

Similar Posts

  • জঙ্গলের মধ্যে আমার ঘর – রাজীব চক্রবর্ত্তী

    জঙ্গলের মধ্যে আমার ঘর। রাতে হানা দেয় শ্বাপদেরা, লুন্ঠিত ক্ষুধান্ন, লন্ডভন্ড গৃহস্থালী। প্রতিদিন, একটু আগুন, মুষ্টিবদ্ধ হাতের আস্ফালন আর প্রত্যয়ের আঁচে মুছে যায় অমানিশার অন্ধকার। প্রতিরোধের লড়াইয়ে ক্লান্ত আমি। তবু সারাদিন কাঠঠোকরার ঠুক ঠুক, ক্লান্ত দুপুরে কোকিলের গান, বসন্তে পলাশ শিমুলে রঙের আগুন নিয়ে আসে নতুন উদ্যম। জঙ্গলের মধ্যে আমার ঘর। পলাশ শিমুল কখন যেন…

  • মহুয়া সেনগুপ্তর দশটি কবিতা

    ১শত জলকণায় নামগান বাজে।জন্ম-জন্মান্তর ঘুরে ঘুরে আসেসীমান্ত লঙ্ঘিত পায়ে। অতি দূরদেশে তাঁর পথিকসাজ,মালিনীর দীন কণ্ঠহার বুকে জাগে—লতা থেকে চ্যুত অশ্রুফুল,মেঘ থেকে চূর্ণ জলধারা। দুলে ওঠে অনন্ত পথ, ছুটন্ত অশ্বখুরধার, তোমার জন্যসখা, একটি তণ্ডুল আছেক্ষুধিতের শাকান্নে ধরা। ২একটি আলোকিত নদীর পাশে শুয়ে আছি, একবস্ত্রে।আমার প্রকৃতিজন্ম মাদুর করেবিছিয়ে দিয়েছি ধুলোয়। আকাশপথে সুরের পালকি বেয়েউৎসব ঘন হয়ে ওঠে।বুকের…

  • দুটি কবিতা – মহাদেবাশা

    বাতাসে লতিয়ে ওঠা ঢেউ বাতাসে ঝড় উঠেছে, তুমি কুড়িয়ে রেখেছো নদী,তোমার & চাওয়া পাওয়ার সিঁড়িগুলো ছোটো হতে হতে দূরবীণ হয়ে উঠেছে, রাস্তার ঘরে ঘাসফুলের মলাট, ঘ্রাণে ঘ্রাণে ভরে যাচ্ছে আঁচল, আয়না হয়ে উঠেছে টিপ, একেই সংস্কার বলি, আর চোখকে নদী, বারান্দায় অনায়াসে পৌঁছে যায় রোদ, রোদের পেয়ালায় চুমুক উঠে ঘোড়ার, এসময় অন্ধকারে মেঘ উঠে, গম্বুজ…

  • একটি লম্বা লাইন – জিললুর রহমান

    একটি লম্বা লাইনে প্রভাতফেরিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি মধ্যরাতে একুশের অপেক্ষায়— হাতে ফুল — নগ্ন পদ — শাদা পাঞ্জাবির সাথে ঢলঢলে পাজামা একটি দীর্ঘ লাইন এক সুরে গুঞ্জন করছে শীতল বাতাসে রোমকূপে শীতকাঁটা উঠে আছে আমরা অপেক্ষমান সেই বায়ান্নোর ফেব্রুয়ারি থেকে ওরা বলেছিল যাহা বাহান্ন তাহা তেপ্পান্ন আমরা প্রতিবাদ করি আমাদের মাতৃভূমে বায়ান্ন জুড়েই আছে মাথা নত না করার দৃপ্ত স্বরআছে শহিদের রক্তাক্ত শার্টের ’পরে…

  • ছদ্ম বৈপ্লবিক – অহিন্দ্রিলা মুখার্জ্জী

    চতুর্দিকে চাপ চাপ রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে মিত্রপক্ষ নাম দিয়েছে “বিপ্লবের রক্ত”! আর শত্রুপক্ষরা নানা নামে অলংকৃত করে চলেছে। বুদ্ধিজীবীরা স্ক্রিপ্ট হাতে তৈরী ক্যামেরার সামনে বসতে। প্রশ্ন করলাম তাকে “আমাকে একটু বুঝিয়ে দেবেন, একটি দুবছরের কোমল শরীরের রক্ত বিপ্লবকে ঠিক কতখানি সাফল্য মন্ডিত করবে??” অথবা ওই রাস্তার মোড়ের চা এর দোকানের দিদিমার রক্ত কতটা এগিয়ে দেবে…

  • সৌমাল্য গরাই-এর পাঁচটি কবিতা

    চক্রব্যূহ ১. বিসর্গ ফুটেছে যেন পাশাপাশি রাখা দুটি চোখসীমান্ত পেরিয়ে এসেছে যে আলোদূততাকে তুমি কোন্ মৃত্যু দেবে? শিয়রে নদীর শ্বাস, বটবৃক্ষ মূলেশুনেছি শুঁয়োর গায়ে কাঁটা ফুলের নিশ্বাসেপ্রজাপতি হয়, তেমনই দেখেছিবীজপত্র ফেটে বের হয় অতল শিকড়এইসব ক্ষুদ্র তুচ্ছ প্রাণ তোমাকে প্রণামকরি করজোড়ে। জেনে রেখোআদতে মানুষ মাছ, গর্ভজলে সাঁতার পেরিয়েএসেছে ডাঙার কাছে কালচক্রপাকে ২. বিস্ময়ের পাশে বসি,…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *