ধুপ – কৌশিক বাজারী

শেয়ার করুন

একটা অদ্ভুত মনখারাপ করা ধুপ, অন্ধকারে পুড়ে পুড়ে নিভে গেল! ধুপ উপহার দেয় কেউ? এ সেই গিফট অফ দ্য মেজাই! তার গন্ধ, যা রয়ে গেছে সারা ঘরময়! আর আমি তার চলে যাওয়া দেখছি। হালকা ধুপের গন্ধ নিয়ে সে যাচ্ছে। বলছে, রাত্রেবেলা ঘুমিয়ে পড়ার আগে জ্বেলে নিও। স্বপ্নে পারিজাতের গন্ধ হবে! আমি আসব। চৌকাঠে বসব এসে। তোমার ঘুমের ভেতরে হাত ডুবিয়ে তুলে আনব চন্দনের ফুল। লালপাড় শাড়ি আর কন্ঠে লাল পাথরের মালা, সে পুড়তে পুড়তে চলে যাচ্ছে। আর তার সারা পথ ধুপের গন্ধ বইছে। সারাপথ পারিজাত! হেমবর্ণ, আমার ঘুমের ভেতর ভোরবেলা এসে পড়ল! …এসো

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • শুভ্রাশ্রী মাইতি-র পাঁচটি কবিতা

      সঞ্জীবনী এই তো জল ছলছল আয়নাবিলাসী দীঘি আমার, কবেকার যেন; আঁজলার পর আঁজলা ভরে কী এত স্মৃতিভার তুলছ তুমি বলো… শ্যাওলাঝাঁজির গন্ধমাখা!   হাতের পাতায় একে একে উঠে আসছে আমাদের নরম নীল চিঠি, পাখিগানের সুপ্রভাত, ঘামফুলের নির্জন দুপুর, অলিভ পাতার  চকচকে সবুজ আদরচুম্বন আর বহু পুরাতনী ভালোবাসার স্নেহ তিরতির ঢলঢলে মুখ কোনো  দ্যাখো, ভালো করে…

  • নারী – অপর্ণা বসু

    তবে কেন মনে হয় তোমার শরীরময় ঈশ্বর এসেছেন স্বর্গীয় আর্তি শিথিল করে দিচ্ছে আমায় দেখাচ্ছে ধরিত্রীর মত কণ্ঠলগ্ন হয়ে মার্জনা চাইছ কৃতকর্মের উষ্ণ নিঃশ্বাসে মুছে দিচ্ছ অভিমান নিভৃত স্পর্শমাখা উত্তাপে এক অনবদ্য পুরুষ আমায় আদ্যন্ত নারী করে তুলছে ওই আনন্দময় রূপ আজন্ম ছায়া হয়ে লেগে থাকুক আমার নারী শরীরে।

  • কালো দিনের সনেট – অয়ন চৌধুরী

    আমাদের ফ্রিজগুলো ভরে আছে বারুদে বাতাস ভরে আছে তীব্র ঝাঁঝালো সীসাগন্ধে আমাদের সমস্ত পকেট বুলেটে, পিস্তলে আর আমাদের মনের বাক্সগুলি দামি অন্ধকারে প্রতিটি রাতের চাদর ফুটো করে কে ওরা বাইকবাহিনী! ভাতের থালায় ছিটকে পড়ে জমাট জমাট রক্তকাহিনি প্রতিটি বাটিতে মাছের ঝোলের নীচে চাপ হয়ে আছে প্রতিশোধ আগুন প্রতিটি ক্ষতের মুখে কে ওরা ঠেসে দিল মুঠো…

  • চিঠি – অমিতাভ গুপ্ত

    এই নাচিকেত অগ্নিকে চেনো, কমরেড আত্মদহনে নিজেকেই করো দীর্ণ আগুনের আজ দিয়ে জেনে নাও চেতনায় কি রয়েছে আজও মলিন ও জরাজীর্ণ সকলে জানে না, অথবা ঈষৎ জানলেও মেনে নিতে গেলে হয় দ্বিধা-সংশয় নব্য ঔপনিবেশিকতার দাপটে এখন এদেশে বিত্তবাদের দাসানুদাসেরা সশস্ত্র, দুর্জয় দুঃখ দিয়েই রাঙা করে তোলো ভোর ভাঙা সেতারেই ঝংকৃত ভৈরবী প্রতিটি প্রশ্নে স্পন্দিত উত্তর…

  • মরণলেখ ১ – গৌতম বসু

    আকাশের কাছে আমাদের সাহায্য প্রার্থনামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিমন, খরোস্বী লিপির চিরশয্যা, মন দাবানলদাবানলের পথে যারা হেঁটেছিদূরের দেশ, নিজেকে তুমি কোথায় ফেলে এসেছো ভাবোভাবো, রক্ষাকবচ ভেসে গেছে কোন কূলে থেকে অকূলেমনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিরক্ষাকবচ ভেসে গেছে যাদেরশতাব্দীর মতো একনিষ্ঠ যারাসৃষ্টির মতো, লয়ের মতো একামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছি বাতাস এখনো শোকগাথা, শোকগাথার বাতাসে এসে দাঁড়ালাম দেহকার্য এখনো…

  • |

    ফ্যাকাশে ক্যানভাস – শ্রীগুরু কারক

    সম্পর্কের নেশা কাটে সময় অভিযানে ধূসর ধোঁয়া; নীল লাল জল; ছবি আঁকে গিরিপথ গোষ্পদ তারপর যমুনার গভীর স্রোত, ধাপে ধাপে আলগা টানে তুলির আড়ষ্ট আস্বাদন, চিত্রগৃহে স্থানচ্যুত যোজনের আবরণ সব আবেগ চড়াই উতরাই শেষে পড়ে থাকে এককোনে তুলি মোছা ছিন্নবস্ত্রে! তখন ভিক্ষা চায় এলোচুল; কপালের টিপ; ঠোঁটের রং পুনর্বাসনের l স্রষ্টা তখন অস্তরাগের সব রং…

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *