Similar Posts
ছায়ার বিস্তৃতি – সৈয়দ কওসর জামাল
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে ঘৃণা, নেত্ররোষ অপলক, স্থির আর্ত দিন, ক্লিষ্ট রাত, আমাকে দণ্ডিত ভেবে করেছিল ভিড় টলোমলো এই ভূমে, আসলে তো সাক্ষী আমি – উন্মত্ত দম্ভের এই হত্যা-হত্যা খেলা, কষ্ট পাই, যেন গান – ব্যাহত সুরের, গুমরে গুমরে ঘোরে বিক্ষুব্ধ বাতাসে, তবুও যুদ্ধের কথা কান পেতে শোনে কেউ, রোমাঞ্চ খুঁজেছে কেউ, জানেনা – ব্যর্থতা প্রতিটি…
অনুরোধ – চিরঞ্জিৎ তা
যাও সুখ উড়ে, প্রাসাদটা ছেড়ে, যাও তুমি ওদের কাছে ; যারা দীন হীন, অনাহারে ক্ষীণ, প্রতিদিন ব্যথা নিয়ে বাঁচে । শোন তুমি বলি ওগো সুখডালি, যে প্রাসাদে আছ তুমি আজ ; তার গায়ে কত আছে শত শত শ্রমিকের শোণিতের কাজ ! এ সমাজ তবু দেয় না তো কভু, গণিতে শোণিতের মান ; অনাহার…
কবিতার জন্ম – প্রাপ্তি সেনগুপ্ত
তারপর সবটুকু নীরবতা পালনের অনুষ্ঠানে শেষ হয়, একজন ব্যস্ত হয়ে, আকাশ ছোঁয়ার অছিলায় অন্য কারোর স্বপ্ন ছোঁয়! স্বপ্ন ওড়ে,ছেঁড়া তুলোর মতো, যত্ন করে মন বন্দী থাকে ভালোবাসা; দুটো মানুষ শুধু অধিকারবোধে দুঃখ যাপন করে, একটা ভোরেও একসাথে সূর্যোদয় দেখা হয় না আর, কথার পরে কথা জমে,আর কিছু কবিতার জন্ম হয়…
আমরা সক্রেটিস হব – স্বাগতা সিংহরায়
সক্রেটিস একদিন আলো হারিয়েছিলেন। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষটি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন বন্দী; আদতে তিনি উপভোগ করতে চাননি- দেশীয় বিদেশীয় প্রহসন। দ্বন্ধময় চলার পথে ছিলনা রাজনৈতিক সংশয়- ছিল শিক্ষালোভী আনন্দ, আগুন মেপে খাওয়া। সময়ের দিকপরিবর্তন জানিয়েছিল তাকে- ” গ্লোবাল ওয়ার্মিং” সুযোগ হারাননি তিনি; বেছে নিয়েছিলেন অন্ধকারময় আলোর পথ।
যুদ্ধবাজদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা – মন্টু মিত্র
যুদ্ধ চেয়ে তোমার কী কোনো লাভ হয়েছে হে আমার মহাদেশ এশিয়া ? হিরোশিমা দিবস তোমার চোখে অশ্রু উদ্গত করে না? না কী, চোখ বন্ধ করে থাকো ওই দেশের ধনতন্ত্রের লিপ্সার সংস্কৃতিতে? ইতিহাসের পাতায় শুধু লুন্ঠনের পতাকা – যুদ্ধ পাতা উল্টিয়ে দ্যাখো কতো কতো সাম্রাজ্যের উত্থান পতন মানুষের মৃত্যু ধ্বংস – এই ট্রাডিশন যুদ্ধের আজ পৃথিবী…
রঘু জাগুলীয়ার গুচ্ছ কবিতা
দিগন্ত প্রার্থনালয় ১ বাতাস এসেছে কাছে কাঁপা কাঁপা গলায়কি অভিযোগ তার, বলে না কিছুই।তবু হৃদয়ে তলিয়ে যাচ্ছে সূর্যাস্তে লেগে থাকানদীর তটভূমি, সংলগ্ন কোমল রোদমেঘে মেঘে বেগুনিরঙা আচ্ছাদন— আমি তো ত্রিভুবনে প্রার্থনালয় চেয়েছি এমনি— ফুলের মালা হয়ে জোনাকিরাছুঁয়ে যাবে দেবীর চরণতল;আর রাত্রির কুঞ্জবন হতে পৃথিবীর দিকেশিশুর মতো নিরালা মুখে হাতছানি দেবে চাঁদ, অথচ যেদিকে করজোড়ে দাঁড়াইবাতাসে-ধুলোয়…

