শতানীক রায়ের পাঁচটি কবিতা

শেয়ার করুন

প্রবাহ


সাধু-চলিত বর্জিত করুণা এখানে কবে কোন্ পাপ গাথা হয়ে আছে ঘূর্ণন তার গতির অঙ্গ হিসেবে আমার এই সবকিছু আগের মতো মুখটা মহার্ঘ্য কোনো মুখকে গোপন করে অক্ষরে অনেক বোধ রেশমের মতো কোমল নরম তারপর এইসব একই শব্দ একই করুণ হঠাৎ কোনো মানুষ তবে অহল্যা হয়ে গেছে


যেখান থেকে উঠে আসে প্রাণগুলো উপড়ে বেরিয়ে আসে ফেনার সমুদ্র ছিনিয়ে নিয়ে পুরোনো রক্তের যা কিছু তোমাকে ভুলতে শিখেছে ছোটোখাটো শরীর সেখানে অতঃপর শরীরের বিভিন্ন দেশের কথন মন গড়ে ওঠে ওই। সব ফুটো এক হয়ে এত অন্ধকার এত জলের রোষ আদিতম গাছের ভেতর পৃথিবীর ভেতর কীরকম একটা গান হয়ে বসে থাকো তোমার কাছে যত প্রাচীন হয়ে এই তো আছি


ঘুমও এত যতিবিহীন হতে পারেনি যে-দেশ গোপন করে গানে ভুবনে এত মৃত্যু এত লাশ উদ্ধার শব্দের ব্যবহার দিয়ে গতিপথ প্রকৃতি অনুসরণে পাখি ওড়া দিয়েই সর্বত্র একই মানুষ একই কথন সহযোগী স্বর ভেদ করে যেখানে যত তদুপরি আমি বেঁচে আছি আশ্বিন মাসে না কি আশ্বিন এক মহৎ লেখা আর তখনই শেষ হ য ব র ল এদিক ওদিক দিয়ে শুধু শরীর


বিষয়শূন্যতা কোথা থেকে শুরু হয়েছে কেউ বলতে পারেনি অযথা কোলাহলপ্রিয় মানুষ সকাল সন্ধ্যা জল তোলে ভুল করে হাসতে থাকে বিস্ময়হীন একটু আগেই দরবারি কানাড়া শ্বাস টেনেছে— দীর্ঘ তারপর একটু করে শহর দেশ গ্রাম মিশে গিয়ে সকালের আনন্দ খিদে পিণ্ডাকারে এসে চোখের ঘোলাটে ভাবও এসে আর কিছু না অমনি তোমাকে বেঁধে ফ্যালার কৌশল আর অপরিহার্যতা থাকে এই গাছ সংঘাতে তবে এমন নির্বোধ আমি প্রতিদিন গড়ে উঠি ঘুমিয়ে কাটাই কোনোদিন কি ইন্দ্রিয়হীন হয়ে উঠি।


কাকে যে ঘুম তাড়িত করে রাখি বিপুল রাতের ভেতর আরেকটি রাত দিন ক্ষণ পৃথক করে এগিয়ে নিয়ে যাই কথা থেকেও বিচ্ছিন্ন হই এখানে পীঠস্থান গড়ে ওঠে মানুষের রঙে লিপ্ত কাকে যে ঘুমে রাখি তলানো গাছপালা ওই ভাসতেই থাকে বিথোবেন বাজে অনবরত যে-লেখা চলেছে কাকে যে ঘুমে জড়িয়ে রাখি নিজেই আবিষ্কার করি দ্বীপের মতো একটি দেশ হয় ইচ্ছার অধিক

অন্যান্য কবিতা পড়তে কবিতা ক্যাটেগরি বা পাঁচটি কবিতা ট্যাগে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • জিয়া হকের পাঁচটি কবিতা

    ক. বোধগম্য নও, তবু হেসে ওঠা ধর্ম আমারমেরুদাঁড়া ভেঙে যায় রোজ রাত্রিবেলামানুষের ভাষা যেন বুঝতে পারি নাকাউকে পাই না বলে ঈশ্বরাদি ডাকিঈশ্বরকে ডাকি বলে কাউকে পাই নাক্ষমাশীল তিনি—এমনই শুনেছিমায়েদের চেয়ে মাতৃময়মাতৃময়ী না লিখে তাকে আমি পুরুষে রাখলাম‘করুণা করুণা’ বলে ডাকি সেই উঁচু নীরবতাআমার কথারা ঘোরে মনের জঙ্গলে আমারপশুমাংস চাই না আর চাই একটা গাভীর শাবকবিশ্বাস…

  • |

    মৃত্যু-উপত্যকায় বসন্তের কবি – আশিস ভৌমিক

    সিন্ধু নদের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে হে বসন্তের কবি, তুমি কি শুনতে পাও ? কোনও মিলনোৎসবের সুর ! মরু-দেশ হতে ভেসে আসা বালুকণার শতাব্দী প্রাচীন পলির স্তরে কি খুঁজে পাবে ? কোনও মিষ্টি প্রেমের গীতি কাব্য! উর্বর মাটির গন্ধ নিয়ে তোমার কলম কি লিখবে ? কোনও চাষির ফসল তোলা নবান্নের গান । এখানে আঁধার কাটিয়ে লাল সূর্য…

  • রঘু জাগুলীয়ার গুচ্ছ কবিতা

    দিগন্ত প্রার্থনালয় ১ বাতাস এসেছে কাছে কাঁপা কাঁপা গলায়কি অভিযোগ তার, বলে না কিছুই।তবু হৃদয়ে তলিয়ে যাচ্ছে সূর্যাস্তে লেগে থাকানদীর তটভূমি, সংলগ্ন কোমল রোদমেঘে মেঘে বেগুনিরঙা আচ্ছাদন— আমি তো ত্রিভুবনে প্রার্থনালয় চেয়েছি এমনি— ফুলের মালা হয়ে জোনাকিরাছুঁয়ে যাবে দেবীর চরণতল;আর রাত্রির কুঞ্জবন হতে পৃথিবীর দিকেশিশুর মতো নিরালা মুখে হাতছানি দেবে চাঁদ, অথচ যেদিকে করজোড়ে দাঁড়াইবাতাসে-ধুলোয়…

  • শিবসাগর দেবনাথের পাঁচটি কবিতা

    পরমাণু তোমাদেরও হারাবার আগেজেনে রাখি, অনিশ্চয়তা প্রকৃত সামান্য বিষয়সংখ্যালঘু বৃষ্টির ভয়ে যেরকম জলাধার হয় মহাকাশ আমাদের বিনয়-যাজকঅশেষের মাঝে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শেষ হই রোজই —এই জ্ঞান যুগপৎ ভয় ও ভুলের,যেভাবে দেহাতি ভোরদূরোদয় মোরগের ডাক আদায় করেছে …ও বধির স্কুল নিজের ফাটলগুলি কখন-ই বা আলোয় ধরেছি?বোতাম ঘরের তীরে বাড়ন্ত ববিনের সায়যে আমি তস্য বধির, অচিরেই চেয়ে নিতে…

  • মা – দেবলীনা দলুই

    মা তোমাকে  আঁকার জন্য ভাষা পাইনা আমি হাতড়ে বেড়াই, শব্দ খুঁজি কিন্তু পাইনা তোমার  হৃদয়ের অনন্ত ঝারলন্ঠনকে নাম দেওয়ার শব্দ পুড়তে দাওনি কখনও দাওনি আমায়  গলতে তোমার  ওই দুহাত দিয়ে আমার  ক্ষত যত ছিল সব নিয়েছো টেনে  নিজের বুকে ঘুম পাড়িয়ে আমায় নিজে  থেকেছো নিদ্রাহীন দিনের পর দিন তোমার চোখ, নাক, চুল বেয়ে নেমে আসা…

  • মুসাফির – স্বপ্ননীল রুদ্র

    গুলাম আলির গজলের মুসাফিরের মতন একটি আত্মহনন অভীষ্ট শুঁকে শুঁকে আমাদের শহরমুখী হয়েছিল। পকেটে আংশিক উঁকি দেওয়া রুমালের মতো এক বৃক্ষবয়ন-প্রাণিত গলি নিরবচ্ছিন্ন ছায়ানির্ভর অবিবাহিত বাড়ির নামফলক রেখেছিল তার উপোষ-ভারের ঠোঁটে…   নেমপ্লেট খেতে খেতে উপাদেয় ঢেকুর তুলেই তাক থেকে পেড়ে নিয়েছিল ঘুম-উপন্যাস সমগ্র —   বরফলজ্জিত বিছানায় পাঠ-প্রতিক্রিয়া শুয়ে…   কার্ণিশে ছাদে উত্থিত আনন্দঘন…

3 Comments

  1. তুমি নিজেই তোমার প্রবাহ লিখছ। ভালো লাগছে নিজেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আনছ। একটা ঘোরের মধ্যে লিখে যাচ্ছ। ভালো লাগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *