ভারতীয় মে দিবস – অমিতাভ গুপ্ত
হে মার্কেটে মিলিত প্রাণ জ্বালিয়ে ধরেছে দীপ্ত গান। জাগো শ্রমিক জাগো কিষাণ এই ভারতের সব শ্মশান। পূর্ণ হোক ফসলে আর ধন্য হোক শেষ অশোক। আজ কৃষকের প্রতিবাদ আর প্রতিজ্ঞা নিয়ে মে দিবসের রুদ্র দীপকে জাগো ঝংকার, জাগো ঝংকার।
হে মার্কেটে মিলিত প্রাণ জ্বালিয়ে ধরেছে দীপ্ত গান। জাগো শ্রমিক জাগো কিষাণ এই ভারতের সব শ্মশান। পূর্ণ হোক ফসলে আর ধন্য হোক শেষ অশোক। আজ কৃষকের প্রতিবাদ আর প্রতিজ্ঞা নিয়ে মে দিবসের রুদ্র দীপকে জাগো ঝংকার, জাগো ঝংকার।
সিউদো সিউদো মা সিন্দুরলে তিমরো মনপিঞ্জরালে ঢাকেছমন খোলি হাস লা লা– ওপরের লাইনগুলো পড়ে কিছু বুঝলেন? না আমিও প্রথমে কিছু বুঝিনি। এটি ইন্দ্রবাহাদুর থাপা রচিত একটি নেপালি লোকসঙ্গীত, যার কিছুটা বাংলায় তর্জমা করলে দাঁড়ায় “প্রাণ খুলে হেসে নাও, পিঞ্জরে তোমার মনটাকে কেন বন্দী করে রেখেছ।” ১৯৬২ সালের একটি সিনেমায় এই গানের গায়ক একজন নেপালি শিশুশিল্পী,…
সিগারেটের শেষটুকু ধোঁয়াশূন্য না করে কখনোই ফেলতে পারি না। পায়ে পিষতে এক চিলতে অস্বস্তি হয়, ফলে আশপাশে ছাইদান না পেলে উচ্চ গলনাঙ্কের কিছু মানে লোহা বা টিনের কিছু অথবা জমে থাকা কাদাজল খুঁজি। বর্ষায় তেমন ঝামেলা নেই, তবে শীতকালে এরকম সমাধান সহজে না পেলে হাতে ধরে রাখি ফিল্টার, অপেক্ষায় কখন নিঃশেষ হবে শেষ ফুলকিটুকু। তখন…
দেবদাস আচার্যর কবিতা প্রাণ-গঙ্গা এত প্রাণচারিদিকে বিন্দু বিন্দু সহস্র প্রাণচিনি বা না চিনিদেখিঝরে পড়ছে যুগ যুগ ধরে ক্রমাগতযেন বৃষ্টি ঝরে অবিরত প্রাণের ভিতরে আমি আত্মহারাপ্রাণ প্রবাহে ডুবেস্নান করি অনন্ত অসংখ্য বিদ্যুৎ কণিকারছুটন্ত ভাসমান ঢেউপ্রণম্য প্রভুমৃত্যুমৃত্যু পরম শক্তিমান ও অমরতোমার পুচ্ছের গতিময় তারকাগুলিরঢেউজীবনকে ধারণ ও বহন করে করেনিত্য ধাবমান। গৌতম চৌধুরীর কবিতা নিঃসঙ্গ কাফেলা ১. অমোঘ…
“মানুষের চেতনা তার সামাজিক অস্তিত্ব নির্ধারণ করে না, মানুষের সামাজিক অস্তিত্বই তার চেতনার মর্মপ্রদেশ।” আমি দ্বিজেন্দ্র ভৌমিক। প্রাক্-গাল্পিক মুহূর্তের চিন্তাগুলোকে ঝাঁকান দিতে গেলেই খসে পড়ে যত বিপ্রতীপ ঘটনাবিন্যাস। হাঁফিয়ে ফেলি নিজেরই বৃত্তবলয়ে চতুষ্পার্শ্বকে, আবক্ষ ঢেউ নিয়ে এক-এক মুহূর্ত থেকে চলকে নেমে যাই অচেনা শরীর নুয়ে। মুহূর্ত-প্রান্তে দাঁড়াবার সকল ক্ষণিকই বিষাদখিন্ন—“সরে যাও, সরো!” বলতে বলতে শরবন…
আগে আমি একটি ডালডার কৌটো ছিলাম। সিমাং মাস্টারদের ঘর থেকে সাওখ্লী আমাকে নিয়ে এসেছিল। সাওখ্লীরা অবশ্য ডালডার স্বাদ পায়নি। মাস্টাররা ডালডাটুকু খেয়ে আমাকে লবণ রাখার পাত্র বানিয়েছিল। পরে মাস্টাদের কোনো এক পরিচারিকা আমাকে আগুনের পাশে রাখায় আমি আর লবণ রাখার পাত্র হয়ে থাকলাম না। আমার ঠাঁই হল গুদামঘরের এক কোণে।পিঠের এক দিকে আগুনের তাপ লেগে…
।। ষষ্ঠ অধ্যায় ।। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস২৪ এপ্রিল, ১৯০৫ আমার উচাটন দাবদাহের মতো ফুলকি উড়িয়ে নিয়ে চলল বেগানা পথে। মা নেই, বাপ নেই, আমি একা রাস্তা চলাফেরার মধ্যে দিয়ে জর্মান ভাষায় পটু হচ্ছি আর রুশ বন্ধুদের কাছে আমার বেশ নামডাক হচ্ছে। ওরা ওদের পুরুষ বন্ধুদের প্রেমপত্রের উত্তর দেবার সময়ে আমার শরণাপন্ন হয় আর আমাকে জর্মান…
শব্দবিজ্ঞান ও ব্যবহারিক উভয়দিক থেকেই নাস্তিক (নিরীশ্বরবাদী শব্দটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু নাস্তিক শব্দটি অনেক বেশি ব্যাপক। তুলনায় নিরীশ্বরবাদ সংকীর্ণ। কারণ এখানে মতবাদটি শুধু ঈশ্বর সম্বন্ধীয়।) শব্দটি নেতিবাচক। শব্দটি কেবল ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেনা, পরকাল, জন্মান্তর, আত্মা, পূজা-অর্চনা, অলৌকিকতা, ভুত-প্রেত, ভাগ্য, নিয়তি ইত্যাদিকেও নস্যাৎ করে। অর্থাৎ সমস্ত ধরনের ধর্মতত্ত্বর সার্বিক বিরোধিতা করে।…
কোন্ পথ? কবিতাপ্রয়াসের বিশ, পঁচিশ বছরে কোনাে-না-কোনাে সময়ে, বােধ করি, সকল প্রয়াসীকেই এই আত্মজিজ্ঞাসার সম্মুখীন হতে হয়। প্রয়াসী হয়ে ওঠেন সন্ধানীই, সাধনার পথ, পন্থা কিছু-না-কিছু বেছে নিতেই হয় তাঁকে। আত্মানুসন্ধান, সত্যানুসন্ধান, তা যাই বলি-না কেন! নাস্তিকেরও এক আধ্যাত্মিক সাধনাই তা, জীবনযাপনে দুঃখদুর্যোগে কবিতা হয়ে ওঠে আশ্রয়ই। কৈশােরের উচ্ছ্বাসে, সদ্যতারুণ্যের স্ফুর্তিতে প্রেমিকমনের স্বপ্নচারিতায়, হয়তাে এই আত্মজিজ্ঞাসা…
ছেলেবেলায় দুর্গা বিসর্জনে বড্ড ভয়ের ব্যপার ছিল ঠাকুর প্রণাম। কার্তিক, গনেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রণামে ‘নো প্রবলেম’, কিন্তু দুগ্গার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেলেই ভয়ে বুক দুরু দুরু। একে তো জাদরেল মহিষাসুর খর্গ হাতে মারতে উদ্যত, তার ওপর আবার ইয়্যা বড়ো একটা সিংহ হাঁ করে কামড়াতে আসছে। নেহাত পূণ্যি লাভটা খুব দরকার তাই কোনো রকমে…