/ / যুদ্ধক্ষেত্র – দ্বিজেন্দ্র ভৌমিক

যুদ্ধক্ষেত্র – দ্বিজেন্দ্র ভৌমিক

শেয়ার করুন

“মানুষের চেতনা তার সামাজিক অস্তিত্ব নির্ধারণ করে না, মানুষের সামাজিক অস্তিত্বই তার চেতনার মর্মপ্রদেশ।”

আমি দ্বিজেন্দ্র ভৌমিক। প্রাক্‌-গাল্পিক মুহূর্তের চিন্তাগুলোকে ঝাঁকান দিতে গেলেই খসে পড়ে যত বিপ্রতীপ ঘটনাবিন্যাস। হাঁফিয়ে ফেলি নিজেরই বৃত্তবলয়ে চতুষ্পার্শ্বকে, আবক্ষ ঢেউ নিয়ে এক-এক মুহূর্ত থেকে চলকে নেমে যাই অচেনা শরীর নুয়ে। মুহূর্ত-প্রান্তে দাঁড়াবার সকল ক্ষণিকই বিষাদখিন্ন—“সরে যাও, সরো!” বলতে বলতে শরবন দিয়ে দুদ্দাড় ঝড় ঠেলে যায়। এইসব স্বপ্ন হতে হতে দুম করে ঘরের ভিতর, একেবারে আপাদমস্তক যাকে ঘরের আবরু জ্ঞানে ঠেকিয়ে রেখে দি দুয়োরের বাহিরে, দরজার ভিড় ঠেলে তবু ঢুকে পড়ে সে। সে-ই।

প্রবেশ মুহূর্ত থেকেই কেবলই রং বদলায় সে, নিজেকে লুকিয়ে ফেলে কোনা-ঘুপচিতে। পুরুষের যা যা বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে নারী বলা চলে না এমন পার্থক্য যেমন নেই, তেমনই নেই এঁটেল মাটির তাল তাল কাদার মতো পা-হড়কানো রমণীয় পেলবতা। তাকে বলি, “যাবে? সোনাই নদীটির কাছে?” আমার পথ খুঁড়ে নির্জন সময়কে ফিরিয়ে দিয়ে সে ক্রমশ ভ্রমণবিলাসী অসংখ্য গলিঘুঁজির। যেখানে দিক্‌চক্রবাল মানে একটি দেয়ালবিহীন পৌরাণিক বাড়ি—শয়ে শয়ে শুধু দরজা-জানালা। সে কি আমার মাকে জানে? বাবাকে চেনে? বাবলি-আণবিকা-মহুয়া-ইতি-শম্পাকে? পিনাক-সুবীর-ভাই-বিপ্লব-নিতুদের? এদেরকে ঘিরে আমাকে, আমাকে ঘিরে তাহাদের? অতঃপর আমাদের বন্দি করে ফেলে রেখে সে ছেড়ে যায় সকল অভ্যেস, সকল গার্হস্থ্য।

রাসবিহারী অ্যাভিনিউ ধরে এক সন্ধে হব-হব শরৎ-বিকেলে বালিগঞ্জ ত্রিকোণ পার্কের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম আমি-মহুয়া। মহুয়ার তাড়া ছিল, আমার নয়। ফলে আমি তার উপস্থিতি টের পেলেও মহুয়া জানতে পারেনি তাকে—সে যে এই পথ জুড়ে আমাদের মধ্যে গলায় গলায় জড়িয়ে রেখেছিল নিজেকে সেই তত্ত্বতল্লাশ কোনোদিনই জানা হবে না মহুয়ার। এ নিয়ে হা-হুতাশের অবশ্য কিছু নেই। বরং ওইদিনের প্রসঙ্গ ছিল একটি হাত-চিঠি। মহুয়ার গোল গোল আঙুলের মতোই সে-চিঠির অক্ষরগুলো ছিল গোলাকার ও জোলো জোলো রকমের, যার শেষ দু-লাইন:

আমার শুভেচ্ছা ও সহযোগিতা আজীবন তোমার সঙ্গী থাকবে। সাথী হিসেবে, আপনার জন হিসেবে তাকে গ্রহণ কোরো; নির্দয় হাতে ফিরিয়ে দিয়ো না। ইতি—

সে, স্পষ্টত পরিচয়হীন (মহুয়ারই নয় শুধু, আমারও তো), “শুভেচ্ছা”য় সজোরে লাথি কষিয়ে যখন “সহযোগিতা” শব্দে আরও তীব্র ও হিংস্র অভিব্যক্তিতে ফেটে পড়তে চাইছিল, তখন এক আকাশে একটিই মাত্র দ্রষ্টব্য পুন্নিমের নাদুসনুদুস একভুঁড়ি গোলপানা চাঁদ কলকাতা নামক নগরীর শ্বাস দীর্ঘ করে বেমক্কা উঁকি দিল লোডশেডিংয়ের আলো-অন্ধকারে শুয়ে-থাকা ঘরবাড়ি-দোকানপাট-যানবাহন-অলিগলির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এবং কী বেধড়ক হায়, চাঁদের পানে চেয়ে থাকতে থাকতে তন্মুহূর্তে আমার পদস্খলন এবং পড়বি তো পড় এক ঢেপসি রমণীর গায়ে। কোনোক্রমে সামলে যেই পালাতে যাব রমণী হাত টেনে বললে: “কী গো নাগর, পালাও ক্যানে, আমাকে পছন্দ লয়?” সে-কথায় চারপাশ খিলখিলিয়ে উঠতেই দেখি আমাকে ঘিরে নানা বয়েসের নানা চেহারার রঙিন সব মেয়েমানুষ। “এ যে এক্কেরে ছেলেমানুষ লো, ছাইড়া দে মাল্‌তী।” “যাঃ ভালো মাইনষের পো, ছাইড়া দিলাম,” বলে হেসে উঠল সেই ঢেপসি রমণী, যারই নাম সম্ভবত মালতী। ছাড়া পেয়ে আমি সেই ঘিঞ্জি জায়গাটা থেকে দ্রুত যখন বেরিয়ে আসছি তখন কোথাও মন্দিরে বেজে যাচ্ছিল একঘেয়ে কর্কশ ঘণ্টাধ্বনি। ঠিক এমন সময় তার পুনঃপ্রবেশ এবং আমার কানে কানে উচ্চারণ: “নক্ষত্র নিভিয়া গেলে দ্রৌপদী ঘামে-ভেজা এ শহরে আর থাকিব না।” আমি তখন মনে মনে বেশ বুঝে যাই যে, সে শুধু প্রেমিকই নয়, একজন কবিও।

সময়ের বাস, সময়ের ট্রেনে পাড়ি দিয়ে অবশেষে খড়দহ স্টেশনে নেমে এক মাইল পথ পায়ে হেঁটে ফিরে আসি বাড়ি। এই এক মাইল পথ নিত্য রিকশাযাত্রার রেস্ত সম্ভব নয় তাই নিদারুণ ক্লান্তি নিয়েও হেঁটেই ফিরতে হয়। অথচ বাড়ি ফিরতেই ভয়াবহ এক শূন্যতা গ্রাস করে—নিজেকে বাবা-মা-ভাই-বোন কারও সঙ্গে মেলাতে পারি না। তবু আসবাবে আসবাবে, কাপড়জামায়, রংচটা দেয়ালের গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লেগে থাকা মায়া এমনভাবে টেনে ধরে যেন মেলার শেষে স্মৃতিচিহ্নের মতো মাঠের মধ্যে অগোছালো পড়ে-থাকা শালপাতা-কাগজ-সিগারেট-বিড়ির অংশ, ছেঁড়া চটি, সেফটিপিন, মাথার কাঁটা, পায়ে পায়ে ঘষালাগা মরা ঘাসের টুকরো। এবং সে সারারাত এইসবের মতোই আমার পাশে মায়াবী আলসেমিতে শুয়ে থাকে পাশে। আমি শুনি কলতান—একের ওপর আরেক, একের পর এক, ঢেউ ভাঙছে পাড়ে. . . চলোচ্ছল. . . ছলোচ্ছল. . .

পিনাকেশ ছিল। ছিল সিদ্ধার্থ। আমরা তিন জন চলতে চলতে নিরুত্তাপ চাহনি দেহোপজীবিনীদের উগ্র ঘ্রাণ ঠেলতে ঠেলতে ঘিনঘিনে জিহ্বার আড়ষ্ট-অনার্দ্রে একে অপরের থেকে দ্রুততার প্রতিযোগিতায় টেক্কা দিতে চেয়ে যখন বড়ো রাস্তায় এসে পড়লাম, দেখি, অদূরের দ্বিতল বাড়িটির এক জানালা থেকে আরেক জানালার মাস্তুলে শ্যামলিমা এক কিশোরীর ক্রমশ অপস্রিয়মাণ দুইখানি রক্তিম ঠোঁট। সেসময় সে (হ্যাঁ, আমি তার কথাই বলছি) কি আমাদের ওষ্ঠের খবর কিছু জানত? জানত কি সেগুলো বড়োই পিপাসাকাতর হয়ে পড়েছিল?

গন্তব্য অতএব এক পানশালা। যার অবস্থান এই টাওয়ার হোটেলের দ্বিতলে। যেখান থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু বেশ নজরে চলে আসে। তিনটি গেলাস ঘিরে একটি চৌকো টেবিলে আমরা তিন জন। একটি চেয়ার ফাঁকা। কিছু আগে সেখানে বসেছিল সে। কিন্তু আচমকা আমাদের মাঝখান থেকে ডানা মেলে সে স্পষ্ট উড়ে গেল। “খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে/বনের পাখি ছিল বনে।” তবে কি সে ওই কিশোরীর কাছে গেল?

সেদিন আমাদের ভেতর সংলাপ হয়েছিল এরকম:

পিনাকেশ: কবিতা লিখছিস? টাটকা নতুন কবিতা?[কথাটা আমাকে। অন্য সময় হলে ও যে এমন কবিতার প্রসঙ্গ তুলত না এটা হলফ করেই বলা যায়।]
আমি চুপ।
সিদ্ধার্থ: আজ যেসব জায়গা ঘুরে ঘুরে এইখানে এসে বসেছি, এই খিদিরপুরে চোরাচালান, স্মাগলিং, মেয়েপাচার ও বেশ্যাবৃত্তির অবাধ কারবার। পুলিশ এখানে হয় মহাজনি ব্যাবসা ফেঁদে বসেছে, নয়তো শুধুই দর্শক। তোরা তো জানিস পুলিশের এস.আই মিস্টার মেহতাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল এখানে। জন্ম থেকে আমি এখানে, এখানকার জীবন সত্যি ভারি অদ্ভুত। আজ নয়, সেসব গল্প তোদের অন্য কখনও শোনাব।
আমি: নিশ্চয়ই শুনব। নিজের অভ্যস্ত জগতের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে নানা জায়গার মানুষজনের নানা ধরন, তাদের দিনযাপনের হিসাবকিতাব জানতে-বুঝতে আমার খুব আগ্রহ হয়। মনে হয়, রহস্য। আমাকে পরে এ জায়গা আরও সয়ে সয়ে ঘুরিয়ে দেখাবি সিধু?
সিদ্ধার্থ: দেখাব।
পিনাকেশ: আমি কেমন হেঁদিয়ে যাচ্ছি শালা! আমার খুব মরে যেতে ইচ্ছে করে। দ্বিজেন কবিতা লেখে। তুইও কি চুপি চুপি আজকাল লেখালেখি শুরু করেছিস, সিদ্ধার্থ?
সিদ্ধার্থ: একটা এক্সপেরিমেন্টাল গল্প লিখছি। শিল্পের কমিটমেন্ট আর ফর্ম নিয়ে একটা সাবজেক্টিভ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা আছে। আসলে আমি দেখেছি আমাদের সাহিত্য বড়ো বেশি অলংকারপ্রবণ। এবং সেটাকেই মেইনস্ট্রিম বলে চালাতে চায় বুর্জোয়ারা। আমি বামপন্থী শিবিরে। শিল্পের কাঠামো নয়, বিষয়টাই আমার কাছে প্রধান।
আমি: তোর কথায় বড়ো বেশি ইংরিজি শব্দের ঝোঁক, যেন কথাগুলো ইংরিজিতে ভাবা এবং স্ববিরোধ স্পষ্ট। [তুমুল তর্ক উঠে আসর মাটি হতে পারত। পিনাকেশ ঘুরিয়ে দিল কথার মুখ।]
পিনাকেশ: আমি তোদের মতো অত ভাবতে পারি না, বলতেও পারি না। অথচ তোদের সঙ্গে থাকতে হলে আমারও তো কিছু বলা উচিত। বলা উচিত কবিতার কথা, সাহিত্যের কথা, আর্টের কথা। আমি কি তবে সিরিয়াস হয়ে উঠতে চাইছি? চুটকি বলা ছেড়ে দর্শনের কথা বলার চেষ্টা করছি? ধুস, এখানটায় আর ভাল্লাগছে না, চল এসপ্ল্যানেড যাই, ওখানে অনেক সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে আসে, ওদের দেখি চল। নয়তো কোনো সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম।

পিনাকেশের কথামতো আমরা এখন এসপ্ল্যানেডে। সরগরম শব্দ আর তরুণী তন্বী ও মধ্যবয়সি পৃথুলাদের ঝাঁঝ নিতে নিতে আমাদের তিন জনেরই পেচ্ছাপ পেল। সদ্য অন্ধকার-নেমে-আসা ময়দানে প্রস্রাব সেরে আমরা মাঠটাকে আড়াআড়ি চিরে এগিয়ে চললাম আউট্রামঘাটের দিকে। সেখানে পৌঁছোনোর আগে হঠাৎ এক দমকা হাওয়া শিথিল করে আনল আমাদের চলা। সেখানেই, সেই মাঠের ওপর, ঝুপ ঝুপ করে বসে পড়লাম তিন জনে। তারপর সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে নিজেদের এলিয়ে দিলাম নরম ঘাসে।

সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের উচ্চারিত কথাগুলো নেমে এল নীচুগ্রামে। আমাদের কানে সেইসব আলাপ পৌঁছাচ্ছিল যেন বহু মাধ্যম পেরিয়ে, মিহি স্বরে, ফিসফিসিয়ে, সিগারেটের ধোঁয়ায় মিলেমিশে এক ধরনের বিষণ্ণতা গায়ে মেখে। ঠিক এই সময়ে তার উপস্থিতি আমাকে বড়ো বিপর্যস্ত আর হতভম্ব করে তুলল। আমি ভুলে গেলাম আমার পাশে শুয়ে পিনাকেশ ও সিদ্ধার্থ, এটা কলকাতা মহানগরীর বিখ্যাত গড়ের মাঠ, যার উত্তরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। আমার মনে হল হাতে-পায়ে শিকল পরিয়ে অন্ধকার একটা কুঠুরিতে বন্দি করে রাখা হয়েছে আমাকে। আমি জোরে জোরে শ্বাস নিতে চাইছি, কেননা এখানে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে কমতে আমার মস্তিষ্কর রক্তজালিকাগুলো এক রকমের পোড়া পোড়া ঘেয়ো গন্ধে ক্রমশ ভরে যাচ্ছে। সেই অন্ধকারেও তাকে আমি স্পষ্ট দেখলাম এক অদ্ভুত ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে চারপাশে তাকিয়ে প্রাণপণ চেষ্টায় জঞ্জাল সরাচ্ছে। যত সরাচ্ছে ততই ডুবে যাচ্ছে তার আড়ালে। আর আমাদের মেট্রোপলিটান সংস্কৃতি স্তূপীকৃত জঞ্জালের ওই আড়াল থেকে নিজেকে আলোর মোড়কে সাজিয়ে তার পোকা দাঁত বের করে তারস্বরে বকচ্ছপ ভাষায় গান ধরেছে, “ক্যালকাটা লো ক্যালকাটা/গায়ে মেখে নে হলুদবাটা/চলতে ফিরতে গজ্‌গামিনী/তু মেরি জান কাপুচ্চিনি. . .”।

পিনাকেশ বমি করল। সিদ্ধার্থ। পরে পরেই আমি। অতএব ধরে নিতে হবে আমরা তিন জনই যথেষ্ট সুস্থ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। অতএব এ মুহূর্ত থেকে আমরা পরস্পরের আলাদা হয়ে যেতেই পারি; কেননা একত্রে থাকার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। অতএব আমরা তিনজন নিজের নিজের গন্তব্যের দিকে রওনা দিলাম।

অফিস থেকে বেরুতেই বিদিশা-বাবলি-সোনালি-আণবিকারা পাকড়াও করল। আমাকে নাকি খুব খুশি খুশি দেখাচ্ছে আজ। রাস্তায় লোকের ভিড়ে আমাকে ঘিরে ওদের এই উচ্ছ্বাস কেমন যেন চুপসে দিল আমাকে। কী করে বোঝাই যে সেটা ওদের চোখের ভুল। খুশি খুশি তো দেখাতেই পারে কাউকে। দুঃখী দুঃখীও। সবেরই কি জুতসই কারণ থাকতে হয়? হতেও তো পারে কারণটা নেহাতই মামুলি। যেমন, এক পশলা হঠাৎ বৃষ্টি। আর এমনই মুহূর্তে সেখানে প্রবেশ ঘটে তার। সে কি তবে অন্যদের সঙ্গে আমার সঙ্গ সইতে পারে না? সত্যি বলতে কী, আমিও তাকে পেয়ে বেমালুম ভুলে গেলাম ওদের কথা। ছিটকে বেরিয়ে এলাম ওদের বলয় থেকে। শিয়ালদাগামী ১৪নং ট্রামে হুড়মুড়িয়ে উঠতে গিয়ে ধাক্কাই মেরে বসি কোনো-এক যাত্রীকে। যাত্রী মানুষটি কোনো রা কাড়ে না, তখন অবাক হয়ে এপাশ-ওপাশে তাকাই, কিন্তু সে-মানুষটিকে খুঁজে পাই না।

পিনাকেশের মতো আমারও আজকাল থেকে থেকে ভাল্লাগে না কিছু। নিয়ত তার অনধিকার প্রবেশ আমাকে অতিষ্ঠ করে তোলে। তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আমি এবার আমার সত্যিকারের জীবনচরিতে গিয়ে প্রবেশ করব, এই সাধ প্রিয় হয়ে ওঠে। অথচ অবুঝ মন, হায়, কিছুতে সম্পূর্ণ ছেড়ে যেতে চায় না তাকে। সে—এক যন্ত্রণাদগ্ধ উপস্থিতি, দংশদগ্ধানো অনুপস্থিতি। আমি বলি, “সরো, সরে যাও”। দরোজার ভিড় ঠেলে সে, সে-ই।

আমার দিন যায়। তাতে-আমাতে যুদ্ধ আরও শাণিত হয়।

শেয়ার করুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.