শববাহকের দল – আশিস ভৌমিক

শেয়ার করুন
শববাহকেরা চিরকাল শব বয়ে বেড়ায় তারা জানে সব লাশ চরিত্রগত ভাবে এক কেবল রং বদলায় বয়স বদলায় জাত বদলায় । তার পর রোদ জল বৃষ্টিতে ফুলে ফেঁপে ঢোল । পাশে পাশে হাঁটে বেতাল ; খোশগল্প করে, মন্ত্রণা দেয়, দিন বদলের স্বপ্ন দেখায় কাঁধ বদলের মাঝে দু-এক ছিলিম গাঁজাও ধরিয়ে দেয় ! লাশের ভার বাড়ে । এক সময় সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে লাশ পথে নামিযে দরকষাকষি । সেই সুযোগে নতুন কোন প্রেতাত্মা চেপে বসে । ফুল চন্দনে সাজিয়ে দু-চার পাঁইট পেটে পুরে খাট উঠিয়ে আবার চলা । ঘাম ঝরে, রক্ত জল হয়, ঘোলাটে চোখে অতীত হারিয়ে যায় ।।
শেয়ার করুন

Similar Posts

  • অমীমাংসিত – কোয়েল

    ১. প্রতিটা যুদ্ধের আগে যে দামামা বেজে ওঠে, তাকে আমি নির্লিপ্তভাবে অবহেলা করেছি। ২. পুড়ে যাবার আগে আমার যতো টুকরো-টাকরা ‘আমি’ ছিলো, তা’ আজ আরও টুকরো টুকরো হয়েছে ক্ষমতার হাত ধরে… ৩. যারা গোল করে ঘিরে ছিলো আমায় তারা আমার শাড়ি উড়িয়ে জানিয়েছে- এ তল্লাটে কোনো পাগল কুকুরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি… ৪. ছেড়ে যাওয়া প্রেমিক…

  • কেবল আজ দোল নয় – অঙ্কন

    কেবল আজ দোল নয়, দোল তো শুরু হয়েছে সেদিনই যেদিন হিংসার আবির উড়েছিলো দেশ জুড়ে , একে-অপরের গালে লগিয়েছিলো যুদ্ধপ্রেম ৷ শন্তিকামী হৃদয়ে নেমে এসেছিলো গিলোটিন রক্তে বিস্কুট চুবিয়ে সন্ধে দেখেছিলো মেম৷ আজ শুধু রং খুঁজেছি… আমি রঙ খুঁজেছি শ্রমিকের ঘামে, আমি রঙ খুঁজেছি ২১দিনে পরা অনশনে ৷ আমি রঙ খুঁজেছি বেকার যুবক-যুবতীর  নিরন্তর চেষ্টায়,…

  • |

    উৎসব – সন্দীপ ভট্টাচার্য্য

    অন্যান্য দিনের মতই অশান্ত কম্পমান বুকে, ছেলেটি ভীত সন্ত্রস্ত চোখ রাখল জানালায়। সূর্য উঠেছে আজও প্রতিদিনের মতই, শুধু পুঞ্জীকৃত কালো ধোঁয়ার আস্তরণটা নেই আজ। “আজ কি তবে কোন উৎসব?” ভালো খারাপের পার্থক্য না বোঝা বারুদের প্রাণঘাতী পোড়া গন্ধ নেই আজ। নেই বোমারু বিমানের আগ্রাসী হুংকার। নির্দয় ট্যাংকারের তালে তালে, ভারী জুতোর শব্দগুলোও কোথাও হারিয়ে গেছে…

  • |

    বসন্তের আগুন-পাখি – উত্তম দত্ত

    আর কিছু নেই হাতের মুঠোয় মিথ্যে কিছু প্রতিশ্রুতি একটি দিনের আদিখ্যেতায় গরীব মায়ের কী আর ক্ষতি ? কাল থেকে তো আবার সবাই যে যার মতো ছন্নছাড়া বুকের মধ্যে ভাষা-পুলিশ নিদ্রা যাবে লজ্জাহারা । সাতটি বাক্যে চোদ্দোটি ভুল বড্ড স্বাধীন বাংলাভাষা দেউলিয়া এক জীর্ণ জাতির মনের গরব প্রাণের আশা । ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে মূর্খেরা সব…

  • কস্তুরী সেনের পাঁচটি কবিতা

    শুরু নারাণ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু হল এই বর্ষাকাল,যূথী নাই জাতী নাই, প্রতীতি কি হবে?প্রতীতি, শব্দের মানে সহাস্য কুসুম।ঘন রাস্তা লোক ভিড় নতুন ফলের গন্ধ সঙ্গে নিয়ে বর্ষা এল সন্ধে সন্ধে,‘একটি কবিতা চাই’ বর্ষা এল শিয়ালদাবাজারবেঁটে ছাতা ত্রিশ টাকা দরদামে চমৎকার খুশি হয়ে লাফিয়ে ধরেছ যে রানিংয়ের ট্রেন,তোমাকে শোনাই এসো গ্বালিবের প্রেমিকাটি বাঙ্গালিনী ছিল এ প্রবাদ…

  • নারীর প্রতি – শাহিন চাষী

    তুমি চাইলেই পায়ের শিকল ছিঁড়তে পারো নির্দ্বিধায় যেমন ছেঁড়-সেলাই সুতার। তুমি চাইলেই প্রদীপ জ্বেলে মুছে নিতে পার অবলীলায় তোমার যাবতীয় অন্ধকার। কে দেয় তোমাকে বাঁধা? কে রোখে তোমার পথ? তুমি তো আমার জীবন সত্ত্বার জ্যোতির্ময় অহংকার। সাহসিনী হও, কেটে যাবে মেঘ, বাতাসে মিলাবে অনাহুত দীর্ঘশ্বাস, দিগন্তে আসবে আলোর বাণ। তুমি জাগলেই তোমার সীমান্ত জুড়ে বসন্ত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *