ঘোলাটে মায়া – আকাশ সাহা

শেয়ার করুন
ঘষা কাচে গুমোট অন্ধকারের মাঝে,
মুখ রাখি
পড়ন্ত বেলায়
আমার নির্ভেজাল হৃদয়ের শার্সিতে
কখনও বা হাত রাখি
জানালার শিকলে ,
কখন আবার
ঘোলাটে জীবনের
প্রেমহীন অনুকম্পায়
হেটে চলি
একমুঠো ঝড়ের আশায়
জানি আমি,
জানালার ওপারে,
ঘোলাটে ঘষা কাচের ওপ্রান্তে
পৃথিবীর আর একটা রূপ
ওপর হাতে
আমার জন্য,
সন্ত্রাস,হানাহানি,বিস্বাসঘাতকতা.অরাজনৈতিকতা
প্রেমহীন মানবত্য নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে.
তার আলোকরাশিতে,
এ সমাজ
চিরযৌবনপ্রাপ্ত ,
তবুও,
ঘোলাটে কাচের এপ্রান্তে,
আমি মুক্তি খুঁজি
প্ৰেমবোধ ভালোবাসায়,
রোদ পড়ে যায় অনেক্ষন,
ভাবতে ভাবতে
কখন যেন,
সন্ধের সোঁদা গন্ধ নাকে আসে.
বাইরে তখন ব্যাস্ততার কোলাহল
কিছুটা নৈরাশ্য হয়ে পড়েছে,
চাপা হতাশায়,
মুখ ঘুরিয়ে
উঠতে গিয়ে দেখি,
ঘোলাটে পৃথিবী,
তার উষ্ণতার ঠোঁটে
চুম্বন করছে,
আমার
অন্তর্নিহিত
ব্যথার বেদনাকে..
শেয়ার করুন

Similar Posts

  • অকাল বোধন – কোয়েল ভড়

    ১.যে আলোদেশে আলাপ আমাদেরতার ঠিকানা পায়নি কোনো ষড়যন্ত্রী কীট, মুদ্রিত কোনো অক্ষরেধরা পড়েনি তার অবয়ব। ২.বয়ে যাওয়া নদী বা সময়ের আখ্যানেপ্রাপ্তি লেগে থাকে ভগ্নাংশের- তবু হাওয়ায় মিশে যাওয়া সুগন্ধেরব্যবচ্ছেদ করতে পারে না কাঁটাতার। ৩.ঊ-কারের তীর ধরে আসতে থাকা প্রেমবার্ধক্যের ভরসা রেখে দেয় রঙিন রুমালে, প্রিয় রঙ্গন, এবার বসন্ত নামাওকোনো শারদীয় বিকেলে…

  • |

    ফ্যাকাশে ক্যানভাস – শ্রীগুরু কারক

    সম্পর্কের নেশা কাটে সময় অভিযানে ধূসর ধোঁয়া; নীল লাল জল; ছবি আঁকে গিরিপথ গোষ্পদ তারপর যমুনার গভীর স্রোত, ধাপে ধাপে আলগা টানে তুলির আড়ষ্ট আস্বাদন, চিত্রগৃহে স্থানচ্যুত যোজনের আবরণ সব আবেগ চড়াই উতরাই শেষে পড়ে থাকে এককোনে তুলি মোছা ছিন্নবস্ত্রে! তখন ভিক্ষা চায় এলোচুল; কপালের টিপ; ঠোঁটের রং পুনর্বাসনের l স্রষ্টা তখন অস্তরাগের সব রং…

  • একটি লম্বা লাইন – জিললুর রহমান

    একটি লম্বা লাইনে প্রভাতফেরিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি মধ্যরাতে একুশের অপেক্ষায়— হাতে ফুল — নগ্ন পদ — শাদা পাঞ্জাবির সাথে ঢলঢলে পাজামা একটি দীর্ঘ লাইন এক সুরে গুঞ্জন করছে শীতল বাতাসে রোমকূপে শীতকাঁটা উঠে আছে আমরা অপেক্ষমান সেই বায়ান্নোর ফেব্রুয়ারি থেকে ওরা বলেছিল যাহা বাহান্ন তাহা তেপ্পান্ন আমরা প্রতিবাদ করি আমাদের মাতৃভূমে বায়ান্ন জুড়েই আছে মাথা নত না করার দৃপ্ত স্বরআছে শহিদের রক্তাক্ত শার্টের ’পরে…

  • রামকৃষ্ণ মহাপাত্রর পাঁচটি কবিতা 

    নিরুদ্দেশ দেখো এই পথের শেষ নেই কোনও,পায়ে পায়ে চঞ্চলতাফিরে যাবে গোধূলির দিকে,আমিও তোমার দিগন্ত-ছোঁয়াকান্নার ভেতর নিরুদ্দেশ হব একদিন… মাটিজন্ম বিকেলবেলায় বাড়ি ফিরছেনআমাদের বাবা,সাইকেলের চাকায় তখনওলাল ধুলোর ক্লান্তি। আমাদের বাবা সূর্য পেরিয়ে আসেন! তারপর মা আসন পেতেবাবাকে খেতে দেনফুটিয়ে রাখা দু’মুঠো আনন্দছায়া, আর আমরা ছয় ভাইবোনটানাটানির সংসারেবাবার ক্লান্তি, মায়ের আনন্দছায়ার মাঝেবেঁচে থাকিমাটিজন্ম নিয়ে। দিনশেষে দিনশেষে ফুরিয়ে…

  • ঘর – অয়ন চৌধুরী

    শরীর ছুঁয়েছে অদম্য বিষ রাত্রির কিনারে এক একটি খোলা ভেঙেছে জ্যোৎস্নার মতো যেটুকু পর্ণমোচী বিকেল লুকোনো ছিল একান্ত নিঃস্তব্ধতায় কখন যেন বছর পেরিয়ে হারিয়ে গেল জীর্ণতায়! বুকের উপর যে দুটি শালুক সান্ধ্য-কোলাজে আজ না-হয় বৃষ্টি নামুক একটা ঘর সাজুক মোমবাতিতে না কোনও শোকের সিম্ফনিতে যে ঘরের প্রথম ও শেষ একটা সমুদ্রের বুকের মতো ধরে থাকবে…

  • |

    পথিক বলছি – ব্রতশুদ্ধ

    স্বস্তিকারূপী ছাইরঙা রাস্তার কেন্দ্রে দাঁড়ালে জামরুল নীল হয়ে যায়। লাল হয় অনাকাঙ্ক্ষিত তাতানো বর্ষার একটা গাছের দেড়শো কদম ফুল। ডানে যাবো?  চলো যাওয়া যাক। এবার বামে?  ঠিক আছে।  চলো! বিদায় আহ্বান এমন হবে বুঝিনি। এর আগে কোনদিন বৃশ্চিক হেটে যায় নি আমার মরুভূমির মধ্যপথ ধরে। বল্গাহীন স্বপ্ন চুপটি করে বসেনি কোন সীমানাহীন মানচিত্রের চাতালে। আমি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *