বটপাকুড়ের বিবাহবার্ষিকী – সোহেল ইসলাম

শেয়ার করুন

১.
সানাই বাজার চার বছর পূর্ণ করে
ওরাও মানুষের মতো আচরণ শুরু করল
সর্প দেবতার থানে ফুল চড়িয়ে
ঘাটে ধুয়ে এল গাছ অবতারের জীবন
বারান্দার দড়িতে ঝগড়া মেলে দিল
বিছানায় পাতল ফুলআঁকা চাদর
কাঁথার চেনা সেলাই না করল না

২.
একটা কোটর দরজা হলে কেমন লাগে
দেখার জন্য
ধানের আঁটি বাড়ি ফিরছে
তাল কুড়ানোর আনন্দ রওনা দিল বলে
রাস্তার ধুলোয় পিছলে পড়ছে দুপুর
কচু পাতায় টলটল করছে জলের সাহস
খঞ্জনি আনো নিতাই
হরেকৃষ্ণ নামধরি
পূর্ণিমার টানে উথলে উঠুক পুকুর

৩.
ধোঁয়া উঠছে
ধোঁয়া উড়ছে পাখি হয়ে
উনুনের আঁচে চাল-হলুদের মাখামাখি
খিচুড়ি চেনে―
ফাঁকা থালা
বৃষ্টির গন্ধ
কুকুরের চিৎকার
এ ব্যথার কথা লোকজনকে বলতে পারে না
কেবল বটপাকুড়ের জন্য ঘরামি খোঁজে
বিষহরীর আসর জমাতে হবে যে

৪.
তবে ঢাক আনি
কংক্রিটের চাতালে
পাতলা সন্ধ্যায়
গুঁড়ো চালের আল্পনা ঘিরে অষ্টপ্রহর শুরু হোক

৫.
জলের তলা থেকে ডুবে যাওয়া ঘাটের শান তাকিয়ে দেখছে
কীভাবে পায়ে পায়ে কাটানো
চার বছর ফিরে পেতে চাইছে বটপাকুড়
পুড়ে হলুদ হওয়া থেকে বাঁচতে চাইছে
এই ধান থাকল
আলের দুব্বা থাকল
ওদের মুক্তি দাও, পদাবলী ঠাকুর

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • অঘ্রাণে – জিললুর রহমান

    ঘ্রাণ নেবো – নাসিকা উঁচিয়ে টানি; পৃথিবী কি চিরকাল অঘ্রাণেই থাকে? আমাকে তো অঘ্রাণের ধান ডেকে ফিরে শীতের আলস্য কিছুতে ছাড়ো না তুমি আমার সে শস্যদানা উঠে না দেউড়ি ঘরে সোমলতা জোছনায় গড়াগড়ি যায়, এভাবেই বুঝি পৌষমাসে সর্বনাশ আসে… দ্বিখন্ড পঞ্চমী চাঁদে ভেজা চুমু লেগে থাকে গায়ে সর্বনাশা অশ্রু জলে ভাসিয়ে দেয় ছাতার শরীর

  • ঘর – অয়ন চৌধুরী

    শরীর ছুঁয়েছে অদম্য বিষ রাত্রির কিনারে এক একটি খোলা ভেঙেছে জ্যোৎস্নার মতো যেটুকু পর্ণমোচী বিকেল লুকোনো ছিল একান্ত নিঃস্তব্ধতায় কখন যেন বছর পেরিয়ে হারিয়ে গেল জীর্ণতায়! বুকের উপর যে দুটি শালুক সান্ধ্য-কোলাজে আজ না-হয় বৃষ্টি নামুক একটা ঘর সাজুক মোমবাতিতে না কোনও শোকের সিম্ফনিতে যে ঘরের প্রথম ও শেষ একটা সমুদ্রের বুকের মতো ধরে থাকবে…

  • চুপ কথা – অনিন্দিতা সেন

    চুপ কথা যত গল্প হয়ে ছড়াক কথার মেঘ, মেঘালয়া কথারা চলে দিনের পিছে পিছে, মোহ জড়ানো আবেশ দ্যাখে নির্ভার সে আবেগ আমার আমিকে হারাই যখন ধূপছায়ারই বাঁকে! মনে রাখা সেই রূপকথারই সম্মোহনের ডাক, সব ফেলে দিয়ে ছূট্টে আসা…… বাঁশিওয়ালার হাঁক, উপেক্ষিত আদর তখন জানালার ফাঁকে ফাঁকে হৃদয় যেভাবে বুক পেতে দেয়….. নিরলস ছবি আঁকে।

  • পাঁচটি কবিতা – প্রীতম বসাক

    একটি কাব্য ও তাহার খোসা ১. হে আলোচ্য জীবন! সঠিক শব্দটি আমি খুঁজিতেছি শূন্য পূরণের নিমিত্তে। এত নগণ্য শস্যের সূচি। এত আলোর অভাব। দূরত্ব হেতু আমি পৌঁছাইতে অপারগ তোমার ঔষধি অবধি। অথচ একটি দুটি গান পাইলে মাঠের ঘুম ভাঙিত। সহজ হইত মাটি। দেখো কী আবেগ করিয়া আসিতেছে দিগ্বলয় জুড়িয়া। কত করুণ ওই সজল। হে অপঠিত…

  • একলা নারী – সোহিনী সামন্ত

    ধ্রুবতারার জ্বলজ্বলে অনুভূতিতে লক্ষ্যভেদের ব্যাপক আশা, পথের মোড়ে একলা হেঁটে চলার বিশেষ অভিধান , উন্মুক্ত করে পাখির মতন স্বাধীন অভিব্যক্তির অক্লান্ত নেশা…… স্যাঁতস্যাঁতে চৌরাস্তায় , কাঁকড় বিস্মৃত লালমাটি………… শত্রুর দামামা বাজে বকুলের অসহায়তায় …… দুর্বহ পথে একলা নারীর গৌরবের জয়গান, মুগ্ধ পলাশ ছুঁয়ে যায় একান্ত স্বাধীনতায়……।।

  • জাদু – শুভজিৎ দাস

    দুধের মলমে যত মেরামত পুষে রাখি বুকে,কুম্ভ শিথিল করি, নুন-রঙা রাগ, উৎসুকে।পাহাড়ি ফুলের পায়ে দেবতার হাত খুলে রাখি,ডানা বন্ধক রেখে মানুষ হয়েছে প্রিয় পাখিআজকে উড়াল দিক ফ্যান্টাসি ফ্যান্টাসি খেলানিয়মেরা ভেঙে গেলে উবে যাবে সব অবহেলা। অপার ইথার থেকে মানুষের মুখ ভেসে আসে,নগ্ন নৃত্যে তারা শিশুদের সরগম-এ হাসে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *