অনুরোধ – চিরঞ্জিৎ তা

শেয়ার করুন

যাও সুখ উড়ে, প্রাসাদটা ছেড়ে,

যাও তুমি ওদের কাছে ;

যারা দীন হীন, অনাহারে ক্ষীণ,

প্রতিদিন ব্যথা নিয়ে বাঁচে ।

 

শোন তুমি বলি ওগো সুখডালি,

যে প্রাসাদে আছ তুমি আজ ;

তার গায়ে কত আছে শত শত

শ্রমিকের শোণিতের কাজ !

 

এ সমাজ তবু দেয় না তো কভু,

গণিতে শোণিতের মান ;

অনাহার তাই করে দেয় ছাই,

মজুরের অমূল্য প্রাণ ।

 

ফসলের মাঠে যারা রোজ খাটে,

তারাও তো ব্রাত্য এ সমাজে,

নিজ হাতে বোনা ফসলের কণা

লাগেনা তাদের কোনও কাজে ।

 

ছিন্ন বসনে ওরা নির্বাক, আধমরা,

যাও তুমি ওদের ঐ দ্বারে,

দাও সুখ অনন্ত, আন চির বসন্ত,

বল হেসে, “এসেছি গো তোমাদের ঘরে”

 

দেখো ওরা বল পাবে, হাসি মুখে কথা ক’বে,

রচবে উজ্জ্বল এক সরণী,

যে সরণীর দুই ধারে, জন্মাবে থরে থরে,

শস্য শ্যামলা এক ধরণী ।

 

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • |

    একুশে – অনিন্দিতা মিত্র

    মাতৃজঠরের মধ্যে গুনগুনিয়ে ওঠে বাউলের একতারার সুর,হাজার হাজার নক্ষত্রের নীল সোহাগ এসে মিশে যায় স্বপ্নভেজা শহিদ মিনারে । পরিযায়ী পাখিরা মেখে নেয় পৌষের ধুপছায়া বিকেলের রোদের নির্যাস,কোপাই নদীর অসমাপ্ত বাঁকে ঘুরে মরে প্রেম ।শিশির হাওয়ার চুম্বনে লেপ্টে থাকা আলোর নুপূরে শুনি মহাকালের পদধ্বনি । মনের জটাজাল ভেদ করে বয়ে চলে অভিমানের চোরাস্রোত, ভাবনার চিরকুটে লিখতে…

  • ঘিরে থাকা শব্দেরা – সুদীপ ভট্টাচার্য্য

    লিখতে গিয়ে দু-চার খানা কলম যদি না ভাঙে আর লিখতে গিয়ে ছ-চার পাতা ছিঁড়তে পারি শব্দ ঘসে তবেই তোমার শরীর কোষের আনাচ-কানাচ সাঁওতালি নাচ তা তেরে কেটে অভাবের পেটে রুচির যোগান মেহনতি গান গাইতে পারো আর আমারও যাবতীয় যত অসুখ-বিসুখ ঢেকে রাখা মুখ বোরখা আড়াল সরিয়ে তুমি প্রদীপ ধরো হাতের মুঠোয় এক সরোবর হৃদয় ধরো…

  • শক্তিরূপেণ – শুভঙ্কর দেব

    ডিপ্রেশনের দিনগুলো সব হাওয়ায় ওড়াও, পেরেক খুলে যীশুর দেহ নামাও নীচে, হাসতে হাসতে এ জন্মটা মনকে বোঝাও, কাল থেকে আর ঘুরতে না-যাক আমার পিছে। বাহান্নটা মানুষ পেলে আমায় ছাড়াও, তাদের কেউই তোমার কোনো যজ্ঞে লাগে? নইলে আরও পাঁচশো কুড়ির ব্যবস্থা নাও, তোমায় আমি দেখতে চাইবো সবার আগে। যাজ্ঞসেনী, তোমার মতো আমার মা’ও সবার সাথে যুদ্ধে…

  • জাদু – শুভজিৎ দাস

    দুধের মলমে যত মেরামত পুষে রাখি বুকে,কুম্ভ শিথিল করি, নুন-রঙা রাগ, উৎসুকে।পাহাড়ি ফুলের পায়ে দেবতার হাত খুলে রাখি,ডানা বন্ধক রেখে মানুষ হয়েছে প্রিয় পাখিআজকে উড়াল দিক ফ্যান্টাসি ফ্যান্টাসি খেলানিয়মেরা ভেঙে গেলে উবে যাবে সব অবহেলা। অপার ইথার থেকে মানুষের মুখ ভেসে আসে,নগ্ন নৃত্যে তারা শিশুদের সরগম-এ হাসে।।

  • কস্তুরী সেনের পাঁচটি কবিতা

    শুরু নারাণ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু হল এই বর্ষাকাল,যূথী নাই জাতী নাই, প্রতীতি কি হবে?প্রতীতি, শব্দের মানে সহাস্য কুসুম।ঘন রাস্তা লোক ভিড় নতুন ফলের গন্ধ সঙ্গে নিয়ে বর্ষা এল সন্ধে সন্ধে,‘একটি কবিতা চাই’ বর্ষা এল শিয়ালদাবাজারবেঁটে ছাতা ত্রিশ টাকা দরদামে চমৎকার খুশি হয়ে লাফিয়ে ধরেছ যে রানিংয়ের ট্রেন,তোমাকে শোনাই এসো গ্বালিবের প্রেমিকাটি বাঙ্গালিনী ছিল এ প্রবাদ…

  • আঁধার-প্রবাসী – সাগর সূত্রধর

    হেথা হতে যাও, পুরাতন। হেথায় নূতন খেলা আরম্ভ হয়েছে। আবার বাজিছে বাঁশি, আবার উঠিছে হাসি, বসন্তের বাতাস বয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলে গেছি আমি, দূরে, বহুদূরে, শত-অভিমান ভরে ফিরবো না জেনো কোনোদিন, বিদায় চিরোতরে। শুভ্র মেঘ য্যামন অস্পৃর্ষনীয় সুন্দর সুদূর আকাশে তারা-ফুল শুধুই দেখা যায় নক্ষত্র প্রকাশে। শ্রান্ত দিঘিতে ফোটে যেমন ক্ষণিকের আলো-ছায়ার খেলা তোমার জীবনে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *