দুষ্টু রাক্ষসের চিঠি – রেহান কৌশিক


সকাল বেলায় আবার পা-টা মচকালো তবুও আমার ঘুমটা কেন ভাঙছে না একোন ছাত্রী যাকে তুমি প্রবোধ দাও সে-তো তোমার কোনো কথাই শুনছে না তোমার আকাশ ঈশ্বরময় সর্বদা প্রসাদ-টসাদ খাচ্ছো আবার ছড়াচ্ছো মাইক দিয়ে নামগান আর অত্যাচার বন্ধ পড়া পাশের বাড়ির ছোট্টোটার কেইবা তোমার ভক্তিবোধের হিসেব চায় এসব কথা বলতে নাইকো দুম করে প্রশ্ন করো কবিকে…
আমি তোমার পায়ের কাছে বসে ছিলাম। স্বচ্ছ মশারি, তার ওপারে হালকা হলুদ দেয়াল । ডিম আলোয় ফ্যাটফ্যাট করছে শিল্পী শাহাবুদ্দীনের আঁকা স্বাধীনতা ছবির ডুপ্লিকেট কপি। বিবর্ণ অসুখী রাতে, দোলচেয়ারে বসে বসে টেবিল ল্যাম্প থেকে ছিটকে পড়া আলোতে ওই কাঁদুনে হলুদ ওয়াল দেখে ভাবতাম শিল্পী ভ্যান গঘ কী খেয়ে এই হলুদ রঙকে প্রিয় রং হিসেবে বেছে…
এমনটাই কি কথা ছিল নিবারণ বাবু? তুমিই না একদিন চেয়ে ছিলে এক-একটা কবিতা যেন ফিরিয়ে আনে সুতানুটি-গোবিন্দপুরের রাত্রিকে … তোমারই না দাবী ছিল কবিতারাশি যেন অকস্মাৎ ঠেলে দেয় ময়দানের সবুজ গালিচাকে গঙ্গাসাগরের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাত্রি-বোঝাই নৌকার দিকে? তোমার কবিতারই না কথা ছিল নিয়তির কণ্ঠস্বর হওয়ার ঝড়ের ভিতরে … তোমার কবিতারই না কথা ছিল বিষাক্ত…
আমাদের বন্ধু জহরলাল ধাড়া খুব যাত্রা ভালোবাসে। কলেজে পড়ার সময় আমরা বইমেলাতে গিটার নিয়ে গান করেছি। কিন্তু জহর সে সবে কোন মজা খুঁজে পায় না। সে বইমেলাতেই যাত্রাপালা করতে চায়। কলেজ শেষ করে জহর প্রাইমারি ইস্কুলে মাস্টারি পেল। ইস্কুলের গ্রামে সে কিছু যাত্রা অনুগত মানুষ খুঁজে পেয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ইস্কুলের হেডমাস্টার নলিনীবাবু। জহরকে পেয়ে…
বাসটা এত জোরে চলছে যে বাসে দাঁড়িয়ে থাকা প্যাসেঞ্জাররা টাল সামলাতে পারছে না। কেউ বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। কেউ কেউ কোনোমতে হ্যাণ্ডেল চেপে ধরে টাল সামলাচ্ছে। সীটে বসে থাকা মানুষগুলোও খুব স্বস্তিতে নেই। কোনমতে চেপে বসে আছে। খালি মনে হচ্ছে এই বুঝি পড়ে যায়। একই রুটের দুটো বাসের মধ্যে রেষারেষির জেরে বাসের…
‘Poetry is the affair of sanity’ বলেই হয়তো কবির কলমে লেখা হয়– ‘জলের রং নেই, কান্না আছে থৈথৈ এসব অবৈজ্ঞানিক ভাবনাই আমার জৈবনিক সদাইপাতি– জীবনে রোদকে বৃষ্টি ভেবেছি, বৃষ্টিকে প্রেমিকা আর প্রেমিকাকে শিল্প; এও জীবনের আধুনিক ভুল স্মৃতির দুর্মর অশ্ব যখন আস্তাবলে ঘুমায় তখন আমি সাহিত্যের ক্লাসে রবীন্দ্রনাথের অধরা মানসীর গল্প শুনিয়ে নিজেরই কথা বলে…
ভালো লাগলো ।