দুষ্টু রাক্ষসের চিঠি – রেহান কৌশিক


“যেদিন মুক্ত প্রেমের রাংতা পুড়েছিল…… বিরহ প্রেম দগ্ধে মরেছিল …… ঝিলিক দেওয়া রাংতার আবেশ … চোখের জলে অব্যক্ত অশেষ …” অগ্নিদাহ প্রেমের রাংতার টুকরো ভেঙে দায় মনের কামনার অনেক অব্যক্ত দুঃখের অন্তিম নির্যাস । কাদম্বরী দেবীর চোখের কালি বুঝিয়েছিল ভালবাসা কি? আসক্তি কি? কামনা কি?ছোট রবির কাব্য রস মুগ্ধ করেছিল তাকে। কবিগুরুর সাথে অজস্র কথোপকথন…
বাসটা এত জোরে চলছে যে বাসে দাঁড়িয়ে থাকা প্যাসেঞ্জাররা টাল সামলাতে পারছে না। কেউ বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। কেউ কেউ কোনোমতে হ্যাণ্ডেল চেপে ধরে টাল সামলাচ্ছে। সীটে বসে থাকা মানুষগুলোও খুব স্বস্তিতে নেই। কোনমতে চেপে বসে আছে। খালি মনে হচ্ছে এই বুঝি পড়ে যায়। একই রুটের দুটো বাসের মধ্যে রেষারেষির জেরে বাসের…
এমনটাই কি কথা ছিল নিবারণ বাবু? তুমিই না একদিন চেয়ে ছিলে এক-একটা কবিতা যেন ফিরিয়ে আনে সুতানুটি-গোবিন্দপুরের রাত্রিকে … তোমারই না দাবী ছিল কবিতারাশি যেন অকস্মাৎ ঠেলে দেয় ময়দানের সবুজ গালিচাকে গঙ্গাসাগরের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাত্রি-বোঝাই নৌকার দিকে? তোমার কবিতারই না কথা ছিল নিয়তির কণ্ঠস্বর হওয়ার ঝড়ের ভিতরে … তোমার কবিতারই না কথা ছিল বিষাক্ত…
স্পষ্ট একটি মুখ। থুতনির ডানদিকে একটা উঁচু মতো তিল। সাদা মলিন শাড়ি পরে, এলোমেলো রুক্ষ কাঁচা-পাকা চুলে মাথায় আধ-ঘোমটা দিয়ে স্বপ্নে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন করুণা মাসিমা। করুণা মাসিমা বলছিলেন নিজের কথা। বলতে বলতে ইস্কুলবেলায় খেলাধুলার কথাও বলছিলেন। উদাস স্বরে করুণামাসিমা বলছিলেন – অন্ধ তো সবাই। অন্ধকারের ভেতর আলোর আসা-যাওয়ার একটা পাতলা প্রলেপ লেগে থাকে। লালচে একটা…
সে দেশে কাশ নেই, নেই ছাতিম গন্ধ দিন আছে পরিযায়ী মন, একলা উদাসীন। সে দেশে শরৎ নেই, তবুও শারদীয়া দু’চারটে পুজো সংখ্যা, সাথে নস্টালজিয়া। তোমার মতই আছে আরও এমন কিছু লোক আগমনী সুরে সুরে প্রবাস ও কলকাতা হোক। তোমার অঞ্জলি হোক বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে পুজোয় সন্ধি করি চেনা পলে বাঁধা গতে। উৎসবের গন্ডি নেই, স্কাইপে…
শহর জুড়ে তখন প্রস্তুতি চলছিল উৎসবের। আয়োজন শুরু হয়েছিল অবশ্য অনেক আগে থেকেই। গেল বছর প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে মোক্ষকামী জনতার দিকে ফিচেল হাসির সাথে অঞ্জলি অঞ্জলি গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিয়ে ছেলেটা যেই বলে উঠেছিল ‘আসছে বছর আবার হবে’ অথবা ঢাকির পাওনা চুকিয়ে ক্লাব সেক্রেটারি যখন বললেন ‘সামনের বছর চলে এসো ভাই দলবল নিয়ে’ তখন থেকেই আয়োজন শুরু। তারপর সময় রথের চাকা ঘুরতে ঘুরতে সারা হয় খুঁটিপুজো; মাটি লেপা হয় কাঠামোয়; বায়না দেওয়া হয় কুমোরপাড়ায়; প্রতিমার সাজ নিয়ে সান্ধ্য জটলা বসে।
ভালো লাগলো ।