মুসাফির বাঙালি – দময়ন্তী দাশগুপ্ত
সঙ্গের ছবি – বাঙালির চিরকেলে চেনা দার্জিলিং (ম্যল), আলোকচিত্রী – রত্নদীপ দাশগুপ্ত
সঙ্গের ছবি – বাঙালির চিরকেলে চেনা দার্জিলিং (ম্যল), আলোকচিত্রী – রত্নদীপ দাশগুপ্ত
দুই প্রতিটি শুরুর আগে তার কোনো একটা আসল শুরু থাকে। যেমন থাকে চমৎকার রান্নার আগে ঠিকঠাক মাপমতো তরকারিটা কাটা। না হলে কোনোটা বেশি সিদ্ধ হয়ে যায় আবার কোনোটা পড়ে থাকে সিদ্ধ না হয়েই। আমার এই ঘোরাঘুরির আসল শুরু কিন্তু বন্ধু তাপসের দেখা পাবার পরই। সেই গল্পটা একটু বলে না নিলে কেমন জানি একটু অসম্পূর্ণ থেকে…
অষ্টম পর্ব যত কাণ্ড ক্র্যাঙ্কস্ রিজে স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথ ধরেই কাঁসারদেবীর এই পাহাড় নানা লেখক, দার্শনিক, শিল্পী, সত্যানুসন্ধিৎসুদের কাছে যেন এক অনিবার্য গন্তব্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে নানা বিদগ্ধ মনীষীরা এখানে এসে ডেরা বাঁধেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ওয়াল্টার ইভান্স ভেন্তজ্, আলফ্রেড সোরেনসেন (শূন্যতা বাবা), জার্মান চিত্রশিল্পী, কবি ও দার্শনিক…
খোঁজাখুঁজি অন্ধকারে পা বাড়ালাম, শব্দ হলো আস্তে লুকিয়ে রাখা ড্রয়ারখানি খুলে হাত রেখেছি রাতের নাভিমূলে আলোর নিচে অমন করে গোপন খুলে হাসতে? কর্ণের উত্থান দাঁতায়ন ঘটেছিল ভিন্ন দুটি ধর্মসভা-জন উদ্বেগের কোনো এক দূর মোগল-বিকেলে কবির মানবতা-প্রবণ কলম মিলনরাত্রি গেয়েছিল নির্জন সন্ধ্যায়। উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেটিভ মহাভারতের অন্ধকার চাদরে আদর বুলিয়ে ফোটায় কিছু শিক্ষাতারা সাহেবের বিলেতি বাগানে…
“এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে”—প্রাচীন প্রবাদটা পাহাড় ভ্রমণকারীদের মুখে মুখে ফেরে। উত্তর-পশ্চিমে জম্মু-কাশ্মীরের নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারওয়া পর্যন্ত প্রায় ২৫০০কিমি বিস্তৃত আছে এক গিরিশ্রেণি। মৌসুমী বায়ুর উষ্ণ জলীয়বাষ্প দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এখানে আসে। এই পর্বতমালার দালানে বসে শীতল হয় আর এই উপমহাদেশের ভূখণ্ডে অঝোর ধারায় ঝরে পড়ে। সেই পৌরাণিক-ঐতিহাসিক পর্বতশ্রেণির নাম হিমালয়।…
সপ্তম পর্ব ভাগ্য ভালো যে পাশে বসা এক শ্বেতাঙ্গ ভদ্রলোক আমাকে আনাড়ি বুঝতে পেরে সিটবেল্টটা পরে নিতে বলেছিলেন, না হলে যে কী হত কে জানে! কারণ প্লেনটা রানওয়ে দিয়ে দৌড় শুরু করে কয়েক মিনিটের মধ্যে এমন উচ্চতায় নিয়ে এল যে কিছুই আর কহতব্য নয়। একে তো প্লেনেও কোনো পাব্লিক এড্রেসের ব্যাপার নেই, যেরকম আমাদের এখানে…
দ্বিতীয় পর্ব ঝুলাদেবী মন্দির ও তাঁর প্রকট কাহিনি পরদিন একটু বেলা করেই সবার ওঠা হল। সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে আমরা বেরিয়ে পড়লাম সাইট সিইং-এ। প্রথমেই গেলাম ঝুলাদেবী মন্দিরে। এখানে দেবী দুর্গা ঝুলাদেবী নামে পূজিত হন। রানিখেতের বিশেষত্ব হল এখানকার সমৃদ্ধ পাইনের বন ও মাঝে মাঝে সুদৃশ্য উপত্যকা। এই মন্দির চত্বরটিও পাইনের বনের মাঝে ছোট্ট একটি উপত্যকায়…