|

উৎসব – সন্দীপ ভট্টাচার্য্য

শেয়ার করুন

অন্যান্য দিনের মতই অশান্ত কম্পমান বুকে,
ছেলেটি ভীত সন্ত্রস্ত চোখ রাখল জানালায়।
সূর্য উঠেছে আজও প্রতিদিনের মতই,
শুধু পুঞ্জীকৃত কালো ধোঁয়ার আস্তরণটা নেই আজ।
“আজ কি তবে কোন উৎসব?”
ভালো খারাপের পার্থক্য না বোঝা বারুদের
প্রাণঘাতী পোড়া গন্ধ নেই আজ।
নেই বোমারু বিমানের আগ্রাসী হুংকার।
নির্দয় ট্যাংকারের তালে তালে,
ভারী জুতোর শব্দগুলোও কোথাও হারিয়ে গেছে আজ।
অবাক চোখে দেখে ছেলেটি !
” আজ কি তবে কোন উৎসব?”
সামনের রাস্তায় বাজার বসেছে আবার !
তার মনে পড়ল বাবা – মা এর হাত ধরে মহানন্দে,
লাফাতে লাফাতে বাজার করতে যেত সে।
সেই হাতগুলো কেড়ে নিয়েছে নিষ্ঠুর যুদ্ধ,করেছে আশ্রয়হীন।
বিশ্বের এ দুর্বিষহ মারনব্যাধি কি সাড়বে কোনদিন?
একরাশ আশা নিয়ে শান্তির অতলে ডুব দেয় ছেলেটির মন।
” আজ কি তবে কোন উৎসব?”
হ্যাঁ- আজ থেকে যুদ্ধ বিরতি, উৎসবই বটে।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • |

    পশ্চিমবঙ্গ এবং – অনিমেষ সিংহ

    পারস্পরিক পর্দাটা সরে গেলে দেখি, সুগম মরুপথে সারিবদ্ধ পতঙ্গ মিছিল কোথায় যায় তারা রোজ, নত মস্তক! আমাকে ডুবিয়ে রাখে টাইগার হিল।  বহুপরে, সূর্যটা ওঠে ছায়াদের ছাদের উপরে। রাঙা হয় খোঁয়াড়ের ভগ্ন-পাঁচিল ভাঙণের রাস্তা দেখে খটাশের চোখ আর দেখে, বিধূমতী আকাশের চিল। আমাকে খাওয়ার লোভ আমারই ভিতর। তুমিও লোভোনীয় মৎসগন্ধা ঝিল; তোমাকে গোগ্রাসে খায় দখিনা বাতাসে,…

  • অয়ত্রীক-এর পাঁচটি কবিতা

    মায়া বয়েস তো কমে এল, নীল নীল আলোজ্বলে আছে যে জাহাজ ভাসিয়েছ তাতেশুধু পরের প্রভাতেমিশিও না জল আর, নোনাবালি, চরাঢেউরৌদ্র প্রতাপে এ মায়ার বিষ নেই, বিষ নেইনৈঋতে আর; সন্ধের মাঝখানে ট্রাফিকের মতোকারা যেন মিশিয়েছে ভৈরবী রাগ ভৈরবী রাগে গাই, এই রাতে চুরি গেছেকোনো এক বৈষ্ণবী চাঁদতবুও অবুঝ প্রবাদকারা যেন রটিয়েছে মায়া নেই আশা নেই বলে…

  • অরূপরতন হালদার-এর পাঁচটি কবিতা

    অর্ধেক জীবনে হলুদ পুকুর বোঝে জলের কামান ক্লান্ত হয়দূরের মেঘ এসে তোমাকে নিয়ে যায় ব্যর্থ প্রদেশেসেখানে শীতের অর্গ্যান বাজেসব স্বরলিপি গূঢ় নয়, মেধার ছোঁয়াচে আলোয় সারারাত হিম পড়েরক্তের ছেঁড়া বনপথে গোলাপের ডাল জেগে ওঠেস্মৃতির শহর কীটদষ্ট আজ – নক্ষত্রের এলোমেলো সাজআমাকে ট্র‍্যাপিজে নিয়ে যাবে, শাদা চাঁদ নড়ে উঠে হঠাৎজুগুপ্সায় ছুটে যায় পুরোনো ছুরিকা বেয়েছুরিতে মুগ্ধ…

  • অরূপরতন হালদারের পাঁচটি কবিতা

    ১ অবদমন বেড়ালের থাবার নীচে উদ্ভূত গানেরপ্রতিটা নিঃশব্দ এঁকেছে আমার দেওয়ালে,আয়নাটি স্বপ্নের শ্বাস মুছে নেয় প্রহরে প্রহরে,তার মকররেখায় ক্লান্ত সূর্য, তবু ভেঙে যাওয়াথেমে আছে লক্ষ্মণরেখায়। পর্দার বিভঙ্গ দেখেতুমি উন্মত্ত হয়েছিলে, ক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো শিসউড়ে গিয়েছিল তোমার গলাবন্ধ থেকে—সেসবদিন আজ ক্লিশিত পানপাত্রে পড়ে আছে, তুমিওনখের রং পাল্টে ফেলেছ কবেই। কমলা ঝরিয়ারসন্ধ্যা ফিরে গেল, এবার শনির থানে…

  • সঞ্জীবন – কৌশিক গুপ্ত

    পদব্রজের ভেতরে থেকে যাবে অবধারিত রেললাইন শরীরের ওপর লাফিয়ে পড়া ট্রেনের অনিবার্যতা কালো বোতলের গায়ে লেবেল পাল্টে পাল্টে আসে শিবের পিঠে আসীন নিজেরই দেহ থেকে দূরে চালিত করছ বাকি পর্ব সুদর্শন চক্র হাতে এই অচেতনকে বিকীর্ণ করে ফেলছ বীজের পরিচয়ে ভূমিতে পড়ার আগেই অর্চিষ্মান খন্ডগুলি জ্বেলে দেবে পক্ষীশাবকের সাবালক হতে যে ক’টা স্তবক বাকি জন্মান্তর…

  • পৌষালী চক্রবর্তীর পাঁচটি কবিতা

    চৌষট্টি যোগিনীর একজনকে পুরোনো জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত আঘাটায়জমে থাকা শ্যাওলার মতোতোমাকে আহ্বান করি,একবার এ সংসারে এসোদু-এক দিন কাটিয়ে যাও আমাদের রোজনামচায়দেখে যাও জলে ভেজা সলতে কতটা অগ্নিশলা ধারণ করতে পারে, আদৌ পারে কিনা?এই মন্দ্র মেঘে বেজে ওঠা সহজিয়া বীণে,রন্ধ্রপথে ঢুকে আসা নৈরামণি আলোতার অজস্র পতঙ্গ-প্রলাপ নিয়েআমাদের পতন উত্থানপ্রতিদিন জ্বলে ওঠেপ্রতিদিন নিভে যায় অনন্ত ব্যোমে ওহে…

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *