নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা

শেয়ার করুন

ভূমধ্যসাগর ও আইজাক নিউটনের পঞ্চম গতিসূত্র

একটি বিষধর ভাইপার সুবর্ণ বালির ভেতরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির গাঁদা ফুলের পাতায় একেকটা ভূমধ্যসাগর আর বাবার সাদা চুলের মতো নির্জন দরজা শুয়ে আছে
আমি শুধু বৃষ্টিকে অপেক্ষা করি যার কোনো আলাদা লম্ব উপাংশ থাকে না, নীল প্লাইয়ের দোকানে আইজ্যাক নিউটন পঞ্চম গতিসূত্র আবিষ্কার করবেন
হরপ্পাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি প্রতিটি সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের অবতল নারীরা রাত্রিকালীন নৌকা চালানোর দক্ষতা অর্জন করে নিতে পারে এক পেগ না ঘুমিয়ে
মাংসাশী দাঁতের ভেতর এক পর্ণমোচী ঈশ্বর শুয়ে আছেন বৃন্তচ্যুত বাতাবিলেবু ফলের মতো
বেসোফিল রক্ত কণিকার ভেতরের একেকটা কাপালিক জোনাকির মতো মুখ নিয়ে ধবধব জ্বলে ওঠে ঝড়ময় রাতের অন্ধকারে, আমি এক সম্রাটকে ইন্টারগেটিভ সেন্টেন্স গঠন প্রণালী শেখাচ্ছি নরম রাজ প্রাসাদের ভেতরে দাঁড়িয়ে, ঠোঁটে ঠোঁটে হিমালয়ের শীতল উষ্ণতা
সব অসুখের নিরাময় হয় না, শুধু গাছগুলো অশোকহীন থাকে সবুজ বনানীতে, অথচ আমি প্রতিটি স্বল্পায়ু মানুষের অনুচ্চারিত কথা ছেড়ে চলে যাই উধোম দেহ নিয়ে

পরাবিদ্যার ঈশ্বর ও কোসাইন থার্মোমিটার কথা

ঈশ্বরের কথা বলে চলে নির্ভার ছাতিম নারী, যে আমার স্বয়ংবর পক্ষল যৌগ দেহ থেকে রুক্মিণী নিয়ে আসে পরাবিদ্যা শিখে নেওয়ার পর
সকলেই আজ বিকারহীন পুকুরের পাশে নৈশ ভোজ খাচ্ছি বিপ্রতীপ ছায়াছবির মতো, আমরা সকলেই রোমন্থন প্রিয়
চোখের মণিকর্ণিকায় আমার মা, একাই রিয়েলিস্টিক পেখম পিঠে নিয়ে সীমাহীন বিভাজিকা খেয়ে গেছে কোসাইন থার্মোমিটার দিয়ে
রাত্রিকালের প্রতিটি মানুষ শরীরে মায়া গন্ধ লেগে থাকে, আমি শুধু ঘুম শরীরের এক রৈখিক সমীকরণ নির্ণয় করি কাঁঠাল গাছের পাতা দিয়ে, পরজীবীরা রাত্রিকালীন নাবিকের কাছে অপাদান কারকের শিক্ষালয় মাত্র
ইনসাইসিডিয়াল হার্নিয়া আসলে অপ্রকৃত ভগ্নাংশ লেডিস পার্লারের নাম, তার নয়টি নদী দীর্ঘের নীচে থাকা আগ্নেয় গহ্বরে আমার মায়ের মুখ দেখা যায়
কেউ কেউ ব্রাউজ মধ্যস্থ মুখাগ্নি সেরে চাঁপাতলার ঘাটে দুগ্ধ শিরার ভেতর স্নান সেরে গোলাপজাম মুখে বাড়ি ফিরে আসে
মৃত মানুষের স্থানাঙ্ক হঠাৎ করে দীর্ঘতম মৌলিক সংখ্যার মতো চকচক করে ওঠে

দক্ষিণান্তর ও নীল সিল্ক শাড়ির ভূগোল

রাত্রিকালীন সিলেন্টেরন পিঠে নিয়ে কেবল অবতল মুরলি বেজে উঠলেই কংক্রিট নদীকে সহবাস ছিন্ন করে দেয় আমার ভেতর থাকা স্ত্রী লিঙ্গের টেস্টোস্টেরন
একটা সবুজ পুরোহিত প্রতিদিন দক্ষিণান্তর করে যাবে আমাদের অশৌচ শ্রাদ্ধাদির শ্মশান ঘরদোরকে, মা হয়তো আবার বেঁচে উঠবে নীল সিল্ক শাড়িতে
সকলেই ক্ষয়জাত হয়ে যায় এই মার্কেন্ডেয় পুরাণের পাশে এলেই, আমি স্থির জলাশয়ের নীচের দিকে টেনে নিয়ে আসি একগুচ্ছ রাতের সমাঙ্গ উদ্ভিদ, গলায় রুদ্রাক্ষ দিলেই মহেশ্বর ওমনাকর্টিল কথা বলবেন
যারা কেবল গর্ভপাতজনিত সব বীর্যরসকে ছুঁড়ে দিয়েছে আকাশের দিকে, হাঁ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অক্ষম পুরুষ
আমি শুধু ঈশ্বরের কাছে একটা নপুংসক বেলপাতার সাথে সিঁদুরের প্রপানোল মুখে রাখি, আমাদের রক্তচাপ নেমে যায় আর স্ত্রী লিঙ্গের নদীটি এক বুক খোলা পোশাক নিয়ে উড়ে যায় শুকনো কিসমিস রাতের দিকে, যৌনতার কোনো গোপন চিহ্ন নেই
সকলেই নির্ভয়া দোকানের সামনে ভিড় করে, পরিযায়ীদের হলুদ পোশাকের নীচে প্রতিটি অভয়ারণ্য আর প্রজননের মৌসুমীর ভিতরে ঘুরে বেড়ায় এন্টারপ্রাইজ দোকানের একগুচ্ছ বালি দানা,
হলুদ পোশাক পরলেই কিশোরীরা মাপনি চোঙে মেপে নেয় অন্তর্বাহী নদীর দ্রাব্যতা, আমার শরীরে থাকা পঞ্চম লিঙ্গের কোনো অন্তর্বাস আবিষ্কার হয়নি
নিজেকে উলঙ্গ করলেই সবাই বৃষ্টিতে ভিজে ওঠে মধ্যপ্রাচ্যের ইলোরা পাহাড় হয়ে

মৈথুনরত “জ” ও নটরাজ শরীর

অনন্ত এঁকে দিলেই অনন্ত হয়ে যায় না আসলে অনন্তের সামনে ও পিছনে দুটো সাদা রঙের কাগজের ওড়না মেলা থাকে, অনন্তপুরের পর শেষ বিন্দুটির নাম কী হতে পারে তার উল্লেখ ১৮টি পুরাণের মধ্যে ও নেই, হঠাৎ করেই কৃষ্ণ স্বয়ম্বর সভায় যাবেন, মেরু বিহীন দ্রুতগতিসম্পন্ন ঘোড়ারা ষড়রিপু থেকে মুক্ত ছিল সর্বদাই
একগুচ্ছ ঘুড়ি ওড়ানোর দল নটরাজের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভৃঙ্গমরাজ উদ্ভিদকে, যার সারা শরীর জুড়ে একটা আবছায়া কর্কটক্রান্তি ঘুরে বেড়ায় উলঙ্গ সুমেরুবৃত্ত অবধি, মিউসিলেজ রাতে ভেজা পোশাক বাইরে ফেলে রাখলেই অশৌচ ধীরে ধীরে জড়িয়ে ধরে, আমি নদীর নিম্নগতিপথের কাছে ভগ্নাংশ পাহাড়ের অধঃক্ষেপণ কথা রেখেছি কেউ কেউ চোখ বন্ধ করে থাকলে কপালের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় অন্ধকার নিম গাছের গোড়ায়, মা বেঁচে থাকলেও একটা মৃদু আলো নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম শ্মশান যাওয়ার দীর্ঘ রাস্তার পাশে, কেবল অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে মায়ের পাঁচ বছরের মৃত্যুু, জানালা খুলে উচ্ছিষ্ট জন্মবৃত্তান্ত ফেলে দিচ্ছি একটা মৃত আবর্জনার স্তূপের পাশে, এখানেই নাকি সকলে গাঢ় বীর্যরস ফেলে যায়,
প্রতিদিন রাতে এক মৈথুনরত ঈশ্বরকে কল্পনা করি অথচ আমার শরীরে কোন রেতঃস্খলনের ‘জ’ চিহ্ন থাকে না

সরলবর্গীয় বৃক্ষ দাহ পর্বের গান

পেন্সিলের ভেতরে অনেক অবিনশ্বর পুরুষ শুয়ে থাকে অথচ তাদের ছেদন করা যায় না, রুদ্রপুর চব্বিশটি রং পেন্সিলে তাদের তৃতীয় লিঙ্গ আঁকছেন
রাতের পর নন ইরেকট্রাল ভোলানাথ পুরুষ নিজের শরীরের উপর বসে বসে কেশব নাগ শিখছেন আরেকটা সরলবর্গীয় বিয়োগান্তক চিহ্ন দিয়ে, রাতের সরীসৃপেরা কখনও মন্ত্রপূতঃ হয় না
প্রতিটি মেঘলা দিনের নিজস্ব মৃত্যু কথা আছে
অনন্তের দিকে চলে যাচ্ছে একটা সনাতন জুনমাস, কপাললোচন মুনি ঋষিকে নিয়ে ধর্মান্তরিত শুক্রাশয়ের কথা বলবে এবার
সব নক্ষত্রের মাথায় পরিযায়ী গন্ধ লুকিয়ে থাকে শূন্য কম্পাঙ্কের
জাগাতি তলার সব মানুষেরাই হলুদ বাবলা ফুলের মতো স্তম্ভমূল, নিজের তলপেটে লুকিয়ে রাখে রাতের ক্লোরোফিল দাঁড়াস সাপ একে একে বর্ণহীন মাছেদের শরীরে তিনটি ডানাওয়ালা ক্ল্যামাইডোমোনাস ও আঁশটে রোদের উপপাদ্য নিয়ে শৈলোৎক্ষেপ কথা বলে চলে রানী হৈমবতী ও যাগ্যবল্কদের,
ভুজঙ্গ, আজ পাথরগুলি সিক্ত করবেন মালকোষ রাগ দিয়ে অ্যালকোহলিক হয়ে যাওয়ার পর আমার পাগুলো ভ্যালিয়াম খাচ্ছে সারারাত, নিঃশব্দের মতো আর কোনো দীর্ঘতম ঈশ্বর নেই,
ঈশ্বর স্নান থেকে ফিরে আসার পর থেকে ভুবন মন্দিরে মেলে দেবেন সাদা রঙের কাপড়, পাইন গাছগুলো শুধু চিরহরিৎ কথা শোনাবে মধ্য দুপুরে বসে থেকে,
গোবর্ধন পর্বত থেকে নেমে আসা অজস্র স্নায়বিক নারীরা ভুল করে মাইট্রোকন্ডিয়া খাবে দুই হাত দিয়ে
মাকে দাহ করার পর আর স্নানের জল পেলাম না

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • পৌষালী চক্রবর্তীর পাঁচটি কবিতা

    চৌষট্টি যোগিনীর একজনকে পুরোনো জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত আঘাটায়জমে থাকা শ্যাওলার মতোতোমাকে আহ্বান করি,একবার এ সংসারে এসোদু-এক দিন কাটিয়ে যাও আমাদের রোজনামচায়দেখে যাও জলে ভেজা সলতে কতটা অগ্নিশলা ধারণ করতে পারে, আদৌ পারে কিনা?এই মন্দ্র মেঘে বেজে ওঠা সহজিয়া বীণে,রন্ধ্রপথে ঢুকে আসা নৈরামণি আলোতার অজস্র পতঙ্গ-প্রলাপ নিয়েআমাদের পতন উত্থানপ্রতিদিন জ্বলে ওঠেপ্রতিদিন নিভে যায় অনন্ত ব্যোমে ওহে…

  • লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডলের দশটি কবিতা

    নিষ্ক্রমণ ইচ্ছের উপর রাখে ভোরের বাঁশি এই যে বাজনা বাজে আলো আঁধারের মিলিতরেখায় আর দূরে সরে যায় সমস্ত উপেক্ষা, আমার ভিতর ছড়িয়ে পড়ে নীল ধ্রুবতারা—ভাঙা ভাঙা বাদামি ত্বকের শ্যাওলা পরিত্রাণ চায়—সমস্ত নোটিফিকেশন ছাড়াই জ্যামিতিক বিন্দুরা নিষ্ক্রমণ ইচ্ছের উপর রাখে ভোরের বাঁশি  সে এক অনন্ত পথের গ্রিনলাইট, ফ্লাইওভার ছিঁড়ে সাগরকোনণ থেকে উঠে আসে গুচ্ছ গুচ্ছ ফার্ন—…

  • শুভঙ্কর দাসের কবিতা

    সুড়ঙ্গস্থাপন ১আগুনের ভেতর থেকে ছাইমাখা গাছগুলোবেরিয়ে আসছে, নগ্ন সন্ন্যাসেরর মতোযা উড়ছে বেলুন, শিকড়ের দিন হয়েছে গত!২অথচ একদিন শিকড়ের শ্বাসে জেগে উঠত মাটিমাটিই তো দিত নারীর স্তনের আকার অথবাপুরুষের শরীরের ভেতর শরীরজন্মর জল্পনা অলৌকিক, বাসি খই-গুড়-ক্ষীর!৩ক্ষীরের পুতুল কবে আবার রক্তমাংসের হবেবদলে দেবে নিসর্গচিত্র, নদী-চাঁদ-পারিজাত বাগানপেটে তার রঙের পেনসিল বাঁধাচাই না প্রেমপ্রস্তাব যাকে দিই, সে হোক রাধা!৪দরজার…

  • জয় জয় দেবী – জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী

    (১) সদ্য ফিরেছে ঘরে ,কপালেতে ক্ষত রাস্তা নিষিদ্ধ ছিল ,রাতও সৌভাগ্য এনেছ বয়ে ?  জর্জরিত পা শঙ্খধ্বনি হোক লক্ষ্মী আগমনে (২) এখনো ত্রিশূল হাতে ঢালের আড়ালে রাখা খড়ের পোশাক দুর্গতিনাশিনীর তার পাশে ভাঙা শিশি । তার পাশে সভ্যতার রড না ,এ রক্ত নয় দেবীর যোনির

  • পল্লব গোস্বামীর গুচ্ছ কবিতা

    একদিন সারাদিন  ছোটো ছোটো বদ্রী পাখির মতো  দিনগুলি ভাবি  দিনভর ওরা কোঠাঘরে কিচমিচ করে  ঠান্ডা লাগে, জ্বর আসে  যেমনভাবে জ্বরে কাবু সারা শহর  দানাপানির জন্য  ভিক্ষাপাত্র নিয়ে ঘুরি  বাগড়াইচণ্ডীতলায় বিশাল হাট  সেখানে  ফ্রীঞ্চ, ককাটেল, জাভা,  লাভ বার্ডের আসর  তবুও ভিক্ষা মেলে না  মাথার ভেতর  বুড়ো কাছিমের মতো হাঁটে  একেকটা দিন  সমুদ্র ফেনায় শুশ্রূষা কেটে যায়–…

  • জয়ীতা ব্যানার্জির পাঁচটি কবিতা

    সমস্ত সূর্যাস্ত গেল প্রার্থনাবিহীন ১ তুমি সে অভাববোধ। আত্মরতি অথবা সঙ্গমকালেচোখের অবাক দৃষ্টি–সজলতার বিবিধ কারণঅধিক সচেতনতা, ততোধিক নিরুদ্বেগে ফিরে যাওয়াপোশাকের কাছে। অনুশোচনার মতো দ্বিধাগ্রস্ত এইপ্রায়ান্ধ আলোর নীচে স্বচ্ছ পর্দা টানা আনন্দ মুকুরমেয়াদোত্তীর্ণ ফুলের কাছে আমরা তবু স্মৃতিচারণশিখি। অনাবিষ্কৃতের মোহে শিখি ব্যয়, ভ্রম ও ভণিতাতোমার করুণা আজও সমান অসহনীয় মনে হয়তবু যে কোনো ক্ষতেই আমাদের প্রথাসিদ্ধ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *