কস্তুরী সেনের পাঁচটি কবিতা

শেয়ার করুন

শুরু

নারাণ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু হল এই বর্ষাকাল,
যূথী নাই জাতী নাই, প্রতীতি কি হবে?
প্রতীতি, শব্দের মানে সহাস্য কুসুম।
ঘন রাস্তা লোক ভিড় নতুন ফলের গন্ধ সঙ্গে নিয়ে বর্ষা এল সন্ধে সন্ধে,
‘একটি কবিতা চাই’ বর্ষা এল শিয়ালদাবাজার
বেঁটে ছাতা ত্রিশ টাকা দরদামে চমৎকার খুশি হয়ে লাফিয়ে ধরেছ যে রানিংয়ের ট্রেন,
তোমাকে শোনাই এসো গ্বালিবের প্রেমিকাটি বাঙ্গালিনী ছিল এ প্রবাদ

নারাণ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু হল এই বর্ষাকাল

যূথী নাই জাতী নাই, তবু ও কুসুম
তুমি হেসো না অতটা আর

মহিলাবগির টাকনা, ভিজে সিন্থেটিক, সব মেঘে মেঘে পার হবে বলে,
দ্যাখো এই তো বিনা লেটে ছেড়ে যাচ্ছে নৈহাটি লোকাল!


ফের

কাকে ডাকবে আর এই উজ্জ্বল একপঙ্‌ক্তির আলো
নিভু নিভু রেলবাজার
কাকে বলবে শাকপাতা বেছে নেওয়া হাত
মোড় ঘুরলে আলো নেই, অথচ কী চেনা দেয়
অঘ্রান মাসের গন্ধ
কাকে দেখবে অন্ধকারে বেজে ওঠা শাঁখ
টিউশনফেরত রিকশা
দশ টাকায় তিনটে গন্ধরাজ…
কাকে বুঝবে কুলত্যাগ
বিকেলের ঢের আগে, ‘ওদিকের রাস্তাটা খারাপ!’

সন্ধ্যাকাল, জলে নামো
কী দারুণ কবেকার পরের ব্যাচ জল…

নতুন পড়ার শব্দে সিঁদুরে অবেলা, এসে
ধুয়ে দিক তোমার দু-ডানা

সহজ

দুর্দিনের এই খুদকুঁড়ো খুব সহজ নাকি…
নদীর অতই নিকটে আবার
নিষিদ্ধ ফুল ফুটে উঠবার
রঙিন নিয়ম!
মানুষ হয়েই একটি জীবন
মানুষের কাছে এই বেঁচে থাকা,
সহজ নাকি
জাগ্রত সব রাত্রির পরে অখণ্ড ঘুম
শরীরস্নাতক ভোর, আয়ু,
ফুল ছিঁড়বার নেশা

বনদেবতার সে নির্বাসন…

সহজ ছিল না
তোমাকে চিনেছি সকলরকমে,
এমন আমার অলীকভাষণ!

খাতা

এক পা এগিয়ে এল
শব্দ আর বাক্য আর আলো…
মুষ্টি থেকে আয়ু খসে যায়

ফের বাজছে কলিংবেল,
ফের বলো পদ্ধতি যা জানো তুমি
ক্ষুন্নিবৃত্তি, অঙ্ক কষা,
টব ফুল প্রত্যেকের সৌষ্ঠবের কাজ
শব্দ সও আলো সও দিবারাত্রি অন্ধকারে
কাজ কী রে তোর!

মুষ্টি থেকে আয়ু খসে যাক

লেখার খাতার মধ্যে সারাদিন
শুধু অসফল এক কবিতা না হয়ে ওঠা ভোর

বাকি

ক্ষত ভেবে ইশ, ও কুসুম
ফের রাত্রে খুইয়েছ ঘুম!

আলো ভেবে, অন্ধকার আঠা
সুর আবার তৃতীয় সোনাটা

ফলে কাঁপল, যেইভাবে কাঁপে
ছত্রে ছত্রে কলমের তাপে

‘ভালো লাগছে?’ সেই চমৎকার!
জিভে ফিরল সর্বনাশা ধার-

ধারে কাটল? মুখ রাখি দাগে?
আজও তো সমান ভালো লাগে!

সারারাত্রি স্বাদুরক্ত চেটে
ছি ছি শুধু তারই, সাধ মেটে!

তবু দ্যাখো এ আশ্চর্য কী যে
সামান্য সবুজ আজও নিজে

বেঁচে গেছে। ক্ষমা করবে মাটি?
চক্ষে গাঢ় অশ্রুবাসনাটি!

বেঁচেছে? এত’র কিছু পরে?
কী ক’রে, অবাক, কী ক’রে!

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • পৌষালী চক্রবর্তীর পাঁচটি কবিতা

    চৌষট্টি যোগিনীর একজনকে পুরোনো জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত আঘাটায়জমে থাকা শ্যাওলার মতোতোমাকে আহ্বান করি,একবার এ সংসারে এসোদু-এক দিন কাটিয়ে যাও আমাদের রোজনামচায়দেখে যাও জলে ভেজা সলতে কতটা অগ্নিশলা ধারণ করতে পারে, আদৌ পারে কিনা?এই মন্দ্র মেঘে বেজে ওঠা সহজিয়া বীণে,রন্ধ্রপথে ঢুকে আসা নৈরামণি আলোতার অজস্র পতঙ্গ-প্রলাপ নিয়েআমাদের পতন উত্থানপ্রতিদিন জ্বলে ওঠেপ্রতিদিন নিভে যায় অনন্ত ব্যোমে ওহে…

  • পদদলিত অন্নদাতাদের নিয়ে একুশের প্রবেশ – সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

    সারাদেশ কৃষিবিলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা কীভাবে লড়াই করে যাচ্ছে জানেন? ফাঁকা মাঠ, সামান্য কিছু কাপড়ের তাঁবু কোথাও খাটানো হয়েছে, কোথাও আবার ট্রাক্টরেই ঘরসংসার তুলে এনেছেন পাঞ্জাবের, হরিয়ানার, উত্তরপ্রদেশের, রাজস্থানের কৃষক। সেই ট্রাক্টরের সংসারে জলকামানের আক্রমণ। ভেঙেচুরে যাচ্ছে ঘর। পুলিশের লাঠিপেটা, ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে মরে যাওয়া—কিছুতেই দমানো যাচ্ছে না কৃষককুলকে। তার দাবি না…

  • মহুয়া সেনগুপ্তর দশটি কবিতা

    ১শত জলকণায় নামগান বাজে।জন্ম-জন্মান্তর ঘুরে ঘুরে আসেসীমান্ত লঙ্ঘিত পায়ে। অতি দূরদেশে তাঁর পথিকসাজ,মালিনীর দীন কণ্ঠহার বুকে জাগে—লতা থেকে চ্যুত অশ্রুফুল,মেঘ থেকে চূর্ণ জলধারা। দুলে ওঠে অনন্ত পথ, ছুটন্ত অশ্বখুরধার, তোমার জন্যসখা, একটি তণ্ডুল আছেক্ষুধিতের শাকান্নে ধরা। ২একটি আলোকিত নদীর পাশে শুয়ে আছি, একবস্ত্রে।আমার প্রকৃতিজন্ম মাদুর করেবিছিয়ে দিয়েছি ধুলোয়। আকাশপথে সুরের পালকি বেয়েউৎসব ঘন হয়ে ওঠে।বুকের…

  • রামকৃষ্ণ মহাপাত্রর পাঁচটি কবিতা 

    নিরুদ্দেশ দেখো এই পথের শেষ নেই কোনও,পায়ে পায়ে চঞ্চলতাফিরে যাবে গোধূলির দিকে,আমিও তোমার দিগন্ত-ছোঁয়াকান্নার ভেতর নিরুদ্দেশ হব একদিন… মাটিজন্ম বিকেলবেলায় বাড়ি ফিরছেনআমাদের বাবা,সাইকেলের চাকায় তখনওলাল ধুলোর ক্লান্তি। আমাদের বাবা সূর্য পেরিয়ে আসেন! তারপর মা আসন পেতেবাবাকে খেতে দেনফুটিয়ে রাখা দু’মুঠো আনন্দছায়া, আর আমরা ছয় ভাইবোনটানাটানির সংসারেবাবার ক্লান্তি, মায়ের আনন্দছায়ার মাঝেবেঁচে থাকিমাটিজন্ম নিয়ে। দিনশেষে দিনশেষে ফুরিয়ে…

  • কালো দিনের সনেট – অয়ন চৌধুরী

    আমাদের ফ্রিজগুলো ভরে আছে বারুদে বাতাস ভরে আছে তীব্র ঝাঁঝালো সীসাগন্ধে আমাদের সমস্ত পকেট বুলেটে, পিস্তলে আর আমাদের মনের বাক্সগুলি দামি অন্ধকারে প্রতিটি রাতের চাদর ফুটো করে কে ওরা বাইকবাহিনী! ভাতের থালায় ছিটকে পড়ে জমাট জমাট রক্তকাহিনি প্রতিটি বাটিতে মাছের ঝোলের নীচে চাপ হয়ে আছে প্রতিশোধ আগুন প্রতিটি ক্ষতের মুখে কে ওরা ঠেসে দিল মুঠো…

  • অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

    বিধিনিষেধ ১৪৪ দৃশ্য শেষ। এইবার কান্না শুরু হবেকে কেমন করে কাঁদবে—তারই নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক। আমপাতা এসে গেছে, জামপাতা এসে গেছে, এমনকি বটপাতা–অশ্বত্থপাতাও এসে গেছে, যার ওপর যেমন নির্দেশ সে সেই পাতায় মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকুক। জীবনের সব কান্নাই শিল্প। মনে রাখবেন, সিগারেট খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর আগুন জ্বালানোও তেমন দেশের পক্ষে ক্ষতিকর— অনুগ্রহ করে—কেউ আগুন জ্বালাবেন না। কপাল ১৬ ঘণ্টা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *