ভাষা শহীদ দিবস : ফাউজুল কবির এর কবিতা

শেয়ার করুন

খন শব্দের সাথে

যখন শব্দের সাথে আমাদের ভালোবাসা জাগে
পূর্ণতার দিকে যাত্রা শুরু হয়–
যাত্রা মানে জানো? বুকে জাগরণ অশ্বের টগবগ
চিত্তে শিহরণ দূর ভবিষ্যৎ আকাশ ভ্রমণ:
বাংলাভাষা আজ পবিত্র প্রতীক হৃদয় পলাশ
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তজবা কৃষ্ণচূড়া অথবা করবী
শুধু অনির্বাণ আগুন ছড়ায় আগুনের লুয়া–
অগ্নির চেয়েও জীবন্ত উত্তাপে তাপিত হৃদয়
লেলিহান শিখা বিস্তারিত হচ্ছে ধ্বনির ব্যালেতে
ঢেউ উঠছে ঢেউ কবিতায় গানে সবুজে মধুরে
মহত্তম বর্ণে রক্তের চরিত্রে খচিত উপমা
কী আশ্চর্য এই ভাষা যার নাম—রক্তে বীরোত্তম
বীরের আরেক নাম বাংলাভাষা বাঙালির ভাষা:
যখন শব্দের সাথে আমাদের ভালোবাসা জাগে
সুন্দরের দিকে যাত্রা শুরু হয়–
সাহসেরা ডাকে সম্মুখের দিকে নীলের লাবণ্যে।

চক্ষু নাই বক্ষ নাই

জলের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম
ঢেউয়ের মাথায়
মানব পু্রুষ
তোমরা কেউ দেখ নাই-দেখ নাই
তোমাদের চক্ষু নাই চক্ষু নাই—
আলোর ভেতর লুকিয়ে ছিলাম
আলোর হৃদয়
অনন্ত খেলায়
তোমরা কেউ দেখ নাই–দেখ নাই
তোমাদের চক্ষু নাই চক্ষু নাই—
চোখের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলাম
হাজার বছর
জনম জনম
তোমরা কেউ দেখ নাই–দেখ নাই
তোমাদের চক্ষু নাই চক্ষু নাই—
মনের ভেতর সাঁতরে ছিলাম
যুগ যুগান্তর
মাছের আনন্দে
তোমরা কেউ দেখ নাই–দেখ নাই
তোমাদের চক্ষু নাই চক্ষু নাই—
বুকের ভেতর জেগেই ছিলাম
হাছন লালন
কবীর রজব
তোমরা কেউ দেখ নাই–দেখ নাই
তোমাদের চক্ষু নাই চক্ষু নাই—
চোখের ভেতর বক্ষ নাই বক্ষ নাই।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

    বিধিনিষেধ ১৪৪ দৃশ্য শেষ। এইবার কান্না শুরু হবেকে কেমন করে কাঁদবে—তারই নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক। আমপাতা এসে গেছে, জামপাতা এসে গেছে, এমনকি বটপাতা–অশ্বত্থপাতাও এসে গেছে, যার ওপর যেমন নির্দেশ সে সেই পাতায় মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকুক। জীবনের সব কান্নাই শিল্প। মনে রাখবেন, সিগারেট খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর আগুন জ্বালানোও তেমন দেশের পক্ষে ক্ষতিকর— অনুগ্রহ করে—কেউ আগুন জ্বালাবেন না। কপাল ১৬ ঘণ্টা…

  • অমীমাংসিত – কোয়েল

    ১. প্রতিটা যুদ্ধের আগে যে দামামা বেজে ওঠে, তাকে আমি নির্লিপ্তভাবে অবহেলা করেছি। ২. পুড়ে যাবার আগে আমার যতো টুকরো-টাকরা ‘আমি’ ছিলো, তা’ আজ আরও টুকরো টুকরো হয়েছে ক্ষমতার হাত ধরে… ৩. যারা গোল করে ঘিরে ছিলো আমায় তারা আমার শাড়ি উড়িয়ে জানিয়েছে- এ তল্লাটে কোনো পাগল কুকুরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি… ৪. ছেড়ে যাওয়া প্রেমিক…

  • একলা নারী – সোহিনী সামন্ত

    ধ্রুবতারার জ্বলজ্বলে অনুভূতিতে লক্ষ্যভেদের ব্যাপক আশা, পথের মোড়ে একলা হেঁটে চলার বিশেষ অভিধান , উন্মুক্ত করে পাখির মতন স্বাধীন অভিব্যক্তির অক্লান্ত নেশা…… স্যাঁতস্যাঁতে চৌরাস্তায় , কাঁকড় বিস্মৃত লালমাটি………… শত্রুর দামামা বাজে বকুলের অসহায়তায় …… দুর্বহ পথে একলা নারীর গৌরবের জয়গান, মুগ্ধ পলাশ ছুঁয়ে যায় একান্ত স্বাধীনতায়……।।

  • শুভঙ্কর দাসের কবিতা

    সুড়ঙ্গস্থাপন ১আগুনের ভেতর থেকে ছাইমাখা গাছগুলোবেরিয়ে আসছে, নগ্ন সন্ন্যাসেরর মতোযা উড়ছে বেলুন, শিকড়ের দিন হয়েছে গত!২অথচ একদিন শিকড়ের শ্বাসে জেগে উঠত মাটিমাটিই তো দিত নারীর স্তনের আকার অথবাপুরুষের শরীরের ভেতর শরীরজন্মর জল্পনা অলৌকিক, বাসি খই-গুড়-ক্ষীর!৩ক্ষীরের পুতুল কবে আবার রক্তমাংসের হবেবদলে দেবে নিসর্গচিত্র, নদী-চাঁদ-পারিজাত বাগানপেটে তার রঙের পেনসিল বাঁধাচাই না প্রেমপ্রস্তাব যাকে দিই, সে হোক রাধা!৪দরজার…

  • |

    ফ্যাকাশে ক্যানভাস – শ্রীগুরু কারক

    সম্পর্কের নেশা কাটে সময় অভিযানে ধূসর ধোঁয়া; নীল লাল জল; ছবি আঁকে গিরিপথ গোষ্পদ তারপর যমুনার গভীর স্রোত, ধাপে ধাপে আলগা টানে তুলির আড়ষ্ট আস্বাদন, চিত্রগৃহে স্থানচ্যুত যোজনের আবরণ সব আবেগ চড়াই উতরাই শেষে পড়ে থাকে এককোনে তুলি মোছা ছিন্নবস্ত্রে! তখন ভিক্ষা চায় এলোচুল; কপালের টিপ; ঠোঁটের রং পুনর্বাসনের l স্রষ্টা তখন অস্তরাগের সব রং…

  • আছি বেঁচে বেশ – সমীরজিৎ রায়

    ভিড়ের মধ্যে আছি বেঁচে বেশ। আমার বারান্দায় মাতাল রোদ এক উন্মত্ততায় ক্রমাগত মানুষ আর দানবের ভিড় আমি আঙুলের কড় গুনে যাই দিনের ওপর দিন। দেওয়াল জুড়ে দেওয়াল ভাঙার ডাক কাজে আর কথায় অনেক ফাঁক লেগে আছে কত আঁচড় এলোমেলো আমি দিন গুনে যাই। আমার বারান্দায় ভাঙা বেড়া দেখে যাই – লাশের ওপর লাশ চলে গুনীজনের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *