|

ইতি তোমার নদী – অনিন্দিতা মিত্র

শেয়ার করুন

একটানা প্রবল বর্ষণে ঘুমহীন শঙ্কিত রাত কাটাও নদীতীরে,
বুকে তোমার কাঁপন জাগায় নদী,
খোঁজ নাও বারেবারে- ‘কতটা জল বাড়লো?’
পূর্বদক্ষতায় কষে নাও হিসেব-
আর ঠিক কতটা জল বাড়লে ছাড়াবে বিপদসীমা,
ঠিক কোন মূহুর্তে পালাবে বসতি ছেড়ে,
খুঁজে নেবে আবার কোন সাময়িক আশ্রয় বারংবার বিলাপে।

এতই যখন ডুবতে ভয় তোমার
তবে প্লাবিত হবে জেনেও কেন নদীপাড়েই ঘর বাঁধো?
নিরাপদ দূরত্বে থাকলেই তো পারো।
তুমিও ডুবতে চাও, কিন্তু স্বীকার করতে পারো না।
পুরুষ… তুমি কি কাপুরুষই থেকে যাবে?
সাহস করে একবারও দাঁড়াবেনা নদীজলে,
বলবে না– নাও, এবার ডোবাও আমায়,
মিশিয়ে নাও তোমাতে সম্পূর্ণরূপে!
আর তা যদি না পারো,
চিরতরে এই উপত্যকা ছেড়ে বাসা বাঁধো
কোন মরুগুহায়,
কোনদিন প্রেমের নাম মুখেও এনো না,
ওকথা তোমার মুখে সাজে না।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • মহুয়া বৈদ্য-র পাঁচটি কবিতা

    ফোকাস বৃষ্টি পড়ছে। রামধনুর সাতরং ছড়িয়ে পড়ছে ক্যামেরার কারিকুরিতে। মা, তুমি ভিজছ, আমি দেখতে পাচ্ছি। ক্যামেরার ডিটেলে ফুটে উঠছে তোমার স্বচ্ছ চোখ, নিটোল চিবুক। এক ঢাল চুল থেকে সাতরঙা জল টুপিয়ে পড়ছে, দেখতে পাচ্ছি তাও। তোমার পাশে অস্বচ্ছ ছায়ার মতো ও কি আমি?! আরেকটু শার্প করলাম ক্যামেরাকে। এবার তোমার মাথার কাছে গোলাপি রঙের উদ্ভাস বেশি,…

  • শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়-এর দশটি কবিতা

    সন্তান প্রতিটি লেখার পর প্রজন্ম জন্মায়প্রতিটা সন্তানপ্রবণ ভোরের তৃষ্ণা জলতৃষ্ণার্ত হত্যার পারিপার্শ্বিকগ্রন্থি পথ পায়ে হেঁটে জন্মান্তররোদের কুঁজ হতে লাফিয়ে নামা ঘুঘুশোক গাথা শুনিয়ে শুনিয়ে হৃদয় বেশেহাসির ঢেউ লুকিয়ে রাখে বালিশেবিষণ্ণ আলোড়ন রহস্যের ওই পিঠেএকটা শহর দাওএকটা শহরের মুখে পাখির ওঠানামাতামাটে কবিতা হয়ে যাক বাড়িঘরনিঃশব্দ গমের বীজ হয়ে থাক সন্তান। মিশ্ররাগ চা ফুলের আঘ্রাণ ভেজা প্রতি…

  • দয়াময় মাহান্তীর পাঁচটি কবিতা

    রাতের জামা অন্ধকার, তুমি কেমন আছো? জলের উপর কারা তাচ্ছিল্য ছুঁড়ে দিয়ে গেছেঢেউ তাকে ঠেলে সরিয়ে দিলে নির্লিপ্তির মুখভেসে উঠে, রাতের ফুলে সাদা চাহনিআনত হয় ভোরের স্পর্শে। আলোকে খুবলে কালো গর্ত করে ইঁদুরেরাঢুকে পড়েছে, তুমি কি শিকারি ঈগল, মনখারাপতোমার? তোমার প্রশ্নের অনেক ঊর্ধ্বেভোকাট্টা ঘুড়ি উড়ে… অন্ধকার, তোমার হৃদয়ে কার ছায়া পড়ে? ভয়ের সংবাদ বৃক্ষ জেনেছে…

  • নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা

    ভূমধ্যসাগর ও আইজাক নিউটনের পঞ্চম গতিসূত্র একটি বিষধর ভাইপার সুবর্ণ বালির ভেতরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির গাঁদা ফুলের পাতায় একেকটা ভূমধ্যসাগর আর বাবার সাদা চুলের মতো নির্জন দরজা শুয়ে আছেআমি শুধু বৃষ্টিকে অপেক্ষা করি যার কোনো আলাদা লম্ব উপাংশ থাকে না, নীল প্লাইয়ের দোকানে আইজ্যাক নিউটন পঞ্চম গতিসূত্র আবিষ্কার করবেনহরপ্পাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি প্রতিটি…

  • কাগজ সভ্যতা – সৌম্যজিৎ রজক

    ১ কাগজের মানচিত্রের ভেতর আমার কাগজের ঘর কাগজের শিশুগণ কাগজের স্কুলে যায় বড়োরাও কাগজের              কাগজেরই বসতি গড়েছে হাটে ও বাজারে পথে গিজগিজে ভিড় কেনাবেচা করে তারা, কাগজেরই বিনিময়ে করে জমিতে জমিতে কাগজের বেড়াও উঠেছে এমনকি কাগজের কাঁটাতারও সীমানা বরাবর উদ্বাস্তু কাগজেরা উদ্বাস্তু কলোনীতে থাকে মাতাল কাগজেরা মাতলামিই করে কাগজেরা…

  • ধুপ – কৌশিক বাজারী

    একটা অদ্ভুত মনখারাপ করা ধুপ, অন্ধকারে পুড়ে পুড়ে নিভে গেল! ধুপ উপহার দেয় কেউ? এ সেই গিফট অফ দ্য মেজাই! তার গন্ধ, যা রয়ে গেছে সারা ঘরময়! আর আমি তার চলে যাওয়া দেখছি। হালকা ধুপের গন্ধ নিয়ে সে যাচ্ছে। বলছে, রাত্রেবেলা ঘুমিয়ে পড়ার আগে জ্বেলে নিও। স্বপ্নে পারিজাতের গন্ধ হবে! আমি আসব। চৌকাঠে বসব এসে।…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *