অতিকথা – গৌতম চৌধুরী

শেয়ার করুন

মনস্থির করিয়া একই দিকে যাঁহারা উড়াল দেন, তাঁহারাই সাধক

মনেপ্রাণে এই কথা বিশ্বাস করিয়া শূন্যে ডানা মেলিয়া দিয়াছিল

মানস দীঘির হাঁস

মাইলের পর মাইল উড়িয়া চলিয়া যে-পাহাড়ের ঝরনাজলে

তাহাদের দিনকয়েক বিশ্রাম লইবার কথা

সেইখানে পঁহুছিয়া প্রথম হোঁচট খাইল সে

পাহাড় কই, ঝরনা কই

পাদদেশ হইতে গলগল করিয়া পীতাভ ধোঁয়া বাহির হতেছে

আর বুম বুম শব্দে ধ্বসিয়া পড়তেছে চাঁই চাঁই পাথরখণ্ড

কী এক যজ্ঞ চলতেছে সেখানে, কে জানে

এইবার তাহা হইলে আরও দক্ষিণে যাওয়া যাক

পাহাড়তলির ঝিলের জলটি আসমানের মতোই নীল

মাইলের পর মাইল উড়িয়া, সেইখানে আসিয়া হাঁস দেখিল

সেই শান্ত পল্লী হইতে দলে দলে মানুষ পলাইতেছে

ঘোরতর এক যুদ্ধ বাধিয়াছে নাকি

তবে কি এ-জীবনে তাহার আর সাধক হইয়া উঠা হইল না

ভাবিতে ভাবিতে

এক জনবহুল নগরীর ক্লিন্ন একটি জলাশয়ে আসিয়া

অবশেষে শরীর ভাসাইল সে

দেখিল, দুরবীন-চোখে মানুষের দল

তাহার সাধনার গতি ও প্রকৃতি পরখ করতেছে

ধুত্তোর, বলিয়া সে একটি এদেশীয় হংসীর দিকে আগাইল

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • মরণলেখ ১ – গৌতম বসু

    আকাশের কাছে আমাদের সাহায্য প্রার্থনামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিমন, খরোস্বী লিপির চিরশয্যা, মন দাবানলদাবানলের পথে যারা হেঁটেছিদূরের দেশ, নিজেকে তুমি কোথায় ফেলে এসেছো ভাবোভাবো, রক্ষাকবচ ভেসে গেছে কোন কূলে থেকে অকূলেমনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিরক্ষাকবচ ভেসে গেছে যাদেরশতাব্দীর মতো একনিষ্ঠ যারাসৃষ্টির মতো, লয়ের মতো একামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছি বাতাস এখনো শোকগাথা, শোকগাথার বাতাসে এসে দাঁড়ালাম দেহকার্য এখনো…

  • অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

    বিধিনিষেধ ১৪৪ দৃশ্য শেষ। এইবার কান্না শুরু হবেকে কেমন করে কাঁদবে—তারই নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক। আমপাতা এসে গেছে, জামপাতা এসে গেছে, এমনকি বটপাতা–অশ্বত্থপাতাও এসে গেছে, যার ওপর যেমন নির্দেশ সে সেই পাতায় মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকুক। জীবনের সব কান্নাই শিল্প। মনে রাখবেন, সিগারেট খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর আগুন জ্বালানোও তেমন দেশের পক্ষে ক্ষতিকর— অনুগ্রহ করে—কেউ আগুন জ্বালাবেন না। কপাল ১৬ ঘণ্টা…

  • প্রিয়া সামন্ত-র পাঁচটি কবিতা

    ১ প্রেম ভেঙে গেলে মানুষ কী করে?গান শোনে, বাজার যায়?হুটহাট বেরিয়ে যায় ঠিকঠিকেনি সন্ধেবেলা?হেঁটে যায় অগস্ত্যের পথেফেরে না আর নদীপাড় ঘেঁষা ইটভাটার চুল্লি থেকে! মানুষ তবুও দেখি উৎসবে যায়ফিঙের উৎসাহের মতো বালিকার ইচ্ছের পাশেবসে থাকি অবিচল, তীর্থের স্থবির কাকভাঙা ভাঙা শব্দবন্ধ, অশ্রুত গোটাতিনেক বাক্যওঠে আর ঝরে যায়হিরের কুচির মতো জল, বিন্দু বিন্দু জলঝরে আর মিহিন…

  • |

    বসন্তের আগুন-পাখি – উত্তম দত্ত

    আর কিছু নেই হাতের মুঠোয় মিথ্যে কিছু প্রতিশ্রুতি একটি দিনের আদিখ্যেতায় গরীব মায়ের কী আর ক্ষতি ? কাল থেকে তো আবার সবাই যে যার মতো ছন্নছাড়া বুকের মধ্যে ভাষা-পুলিশ নিদ্রা যাবে লজ্জাহারা । সাতটি বাক্যে চোদ্দোটি ভুল বড্ড স্বাধীন বাংলাভাষা দেউলিয়া এক জীর্ণ জাতির মনের গরব প্রাণের আশা । ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে মূর্খেরা সব…

  • গুচ্ছ কবিতা : অনূদিত আমি – বেবী সাউ

    এক। আমাকে সামান্য জেনে, বের করে এনেছ তুমিওবিভক্ত ধাতুর মতো। বারবার অবকাশ দেখেএই বরফের দেশ, এই নুড়ি পাথরের দেশঅচেনা যেমন ছিল, পরিচিতহীন বোধে তাওকৌতুক বিশ্বাসী আর লেনদেন ছেড়ে ভাঙা পথ…সামান্য চকলেট লোভ প্রত্যাশী আমিও, পিপিলিকামুখে করে নিয়ে আসি মিথ্যে পরিচয়, হাতছানি অথচ, যেতেই হবে; এই পরিযায়ী বেশ ছেড়েদেশ ছেড়ে; সহজেই; নিপুণ খুনির মতো ভয়নেই, আশা…

  • তুমি আছো বলেই – অর্ণব চট্টোপাধ্যায়

    তুমি আছো বলেই ফেরা হয়ে ওঠে… ছায়ার আদর পায় ক্ষুধাতুর গাঁয়ের পাখিরা সমূহ ঘোরের শেষে আঁকাবাঁকা নদীপথ চিনে চিনে,জীবনের পাঠ.. ঢেউয়ে ঢেউয়ে নীল শিখে নেওয়া… যেটুকু নিবিড় দিয়ে জড়িয়েছো খুব, সেটুকুই আমার পৃথিবী হয়ে শ্বাস নেয়.. বেঁচে থাকে প্রবাহের মত.. আমি তো সামান্য বড়.. আমি তো সামান্য…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *