প্রেমিকাদের বলছি না – সেলিম মণ্ডল

শেয়ার করুন

প্রেমিকা ছাড়া অনস্তিত্বের স্বর্গে কেটে যাচ্ছে ভালোই। তবুও যখন উঁকি মেরে দেখি প্রেমিকার মতো বান্ধবীরা একে একে শীতবস্ত্র জড়িয়ে নিচ্ছে। মনে হয়, এ জীবনে আমার আর ভ্রমণ হবে না।

 

যে শহরে শীতকাল নেই, সেই শহরে ছড়িয়ে আছে আমার প্রেমিকারা। নকশি-কাঁথার ভিতর উষ্ণতা বাড়াতে বাড়াতে ভুলেই গেছি মায়ের ছুঁচে ফোটা আঙুলের কথা। যে আঙুলে মা প্রেমিকার মতো আদর করত। মা এখন শীতের দেশে। আর প্রেমিকারা বরফ গিলতে গিলতে লীনতাপ খুঁজে নিচ্ছে পরিবেশের। আর আমি? হতভাগার মতো পদার্থবিদ্যায় মুখ থুবড়ে মুখস্থ করছি সেই সংজ্ঞা!

 

আঁচলের গিঁট খুলে যতটা উদার হতে পেরেছিল ভালোবাসা, সেখান থেকে অনেকটা দূরে প্রেমিকাদের বাড়ি। প্রেমিকাদের বাড়িগুলো একলাগোয়া। সব বাড়ির বাইরে সাদা চুনকাম করা। অথচ, ভিতরটা সিঁথির মতো লাল। প্রবেশ করতে পারি না। সামনে থেকেই ঘুরে আসি। এই ঘুরপথেই একসময় অনেক গলি ছিল। আমি ফিরতে পারতাম না। ঘুরে যেতাম প্রেমিকাদের বাড়ি। ফেরা নিয়ে সংশয়ে থাকতাম। সংকটে নয়।

 

প্রেমিকাদের লাল ফিতের সৌন্দর্য নেই। প্রেমিকাদের সরু আলপথ ধরে হেঁটে যাওয়া নেই। প্রেমিকারা ওড়নার সেফটিপিনে, আঙুলে ফুটিয়ে লিখে দিচ্ছে নাম। যে নাম ধরে ডাকলে প্রিয় ঘুঘু ডাকে, সেই নাম। কিন্তু নামের ভিতর এত ঐতিহ্যরহস্য, এত কারুকার্য ফুল ফোটে না। চটকানো পাপড়ির দলা পাকানো ফল তাকিয়ে থাকে অদূর ভবিষ্যতে। ভবিষ্যত একটা কালো পর্দার সামনে মাথা নোওয়ায়। প্রকাশ করে ‘শেষ ইচ্ছে’। প্রেমিক হেরে যায়, প্রেমিকারা মাতৃত্ব পায় না।

 

কোনো একরাতে সিগন্যালসহ বোরোলিনের ট্রেন আসবে। জেগে থাকি। জাগতে জাগতে যখন রাত্রির মেরুদণ্ড ভেঙে বেরিয়ে পড়ি, কোনো প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পাই না। দেখি প্ল্যাটফর্মের জায়গায় টেলার্স। সেখানে রাতজাগা মোটা চশমার এক দর্জি। সেলাই করে চলেছে বর্তমান ও অতীত। তাকে চিনি না। এই রাতে উচ্চস্বরে সে আমায় ডাকছে। আমার কি যাওয়া উচিত?  ভাবছি, ভাবছি আর ভাবছি…

দু’পা এগিয়ে যেতে দেখি- ছেঁড়াফাটা, রঙচটা, দোমড়ানো নানা প্রকার হৃৎপিন্ড মেঝেতে পড়ে। প্রত্যেকে আমাকে পেয়ে মহাখুশি। আমি চাইছি! আমি চাইছি না রিফ্যু করাতে। মোটা সূঁচের মুখে প্রক্সি দেওয়া সুন্দরী বান্ধবীদের মুখ- আমি যাদের প্রেমিকা ভেবেছি অথবা যারা আমায় প্রেমিক ভাবেনি।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়ের পাঁচটি কবিতা

    বসন্ত পূর্ণিমা রোজ সকালকে বলছি আকাশের নামান্তরআমার তোমার মাঝের এই এক তীব্র প্রত্যয়এভাবে আমি ও তুমির সাংসারিক মিঠাতানবলি মাতৃত্ব বুঝিয়ে দাওবলে যাই দাম্পত্য কেন-নাবলা যায় না নীরবতাহাক্লান্ত বসন্ত!পূর্ণিমা খাচ্ছি এখন মাঝরাতক্ষুধা, অশ্রুর অস্তরাগএ বিচলন সময়ের হতদ্যমমাংস রান্নার রংটা তিতকুটেমাংস রান্নার স্বাদটা এমারল্ডবদ্ধ উঠানে মঞ্চ আবির, দোলের যাত্রাএত সোচ্চার! যেন নাভির উচ্চারণহাঁটু ভাঁজ করে ক্ষমা চাইছি…

  • |

    অচেনা – অনিন্দিতা সেন

    গভীর জংগল দেখেছ কখনো? গাছেরাও একা নয়, ওরা কথা বলে নিজেদের ভেতর উজাড় করে সবটুকু, শনশন বাতাসে ভাসে ওদের অনুভূতি, মাছেরাও তীব্র রোমান্সে কাছে আসে নদীর জলে পাড়ে ভেসে ভেসে আসে শীৎকার। মানুষ কিন্তু একা, এক্কেবারে একা। কখনো পুরোন না হওয়া ইতিহাস বসন্ত পলাশের গন্ধ মাখে, উতলা শ্রাবণকে বুকে নিয়ে পাগল হাওয়া চেনায় পথটুকু ফিরে…

  • গুচ্ছ কবিতা – রাজদীপ রায়

    মারী ১ অথচ পৃথিবীতে শুরু থেকেই জীবাণু ছিলমৃত্যু-সম্ভাবনা নিয়ে গড়ে উঠেছিলপোকার জীবন এই তবু, তারই মধ্যে কোথাও কোথাওনক্ষত্রের সংকেতেমনে হয়েছিল বেঁচে থাকলে, পৃথিবীকে আরও সুন্দর দেখায়। ২ আরও একটু দূরে পড়ে আছে অজানা শরীর শীতকাল এখনও আসেনিতবুও বরফ পড়ে, হাড় জুড়ে যায় শকুন নেমেছে, ছিঁড়ে খাচ্ছেশরীরের অবশেষ পোশাকের অংশ দেখে মনে হয়চিনি, তবু আমি তাকে…

  • পেট – সেলিম মন্ডল

    এমনভাবে নখ খুঁটে খাচ্ছ মনে হচ্ছে, নেলকাটারের দোকানগুলো ধর্মঘট ডেকেছে তোমার ধর্মঘটে আপত্তি ছিল অথচ, আজ নখ চিবানো থামাচ্ছ না ডাক্তারবাবু বলেন, পেটের রোগের সঙ্গে নখের বিরাট সম্পর্ক তোমার কোনো ধরা ডাক্তার নেই কিন্তু পেটের জন্য চেরিনখ খোঁটো সরুগলির মাথায় গলিতে নীচুস্বরের মিছিল মিছিলে নখহীন নখমালিকদের অসামঞ্জস্য ভিড়

  • গুচ্ছকবিতা – সুদর্শন প্রতিহার

    (১) সূর্য ওঠা থেকে ডোবা অবধি তুমি উজ্জ্বলা হৃদমাঝারে … কালির দোয়াতের সেই হামাগুড়ি আজও পঁচিশ বছরের ছবি আঁকে । (২) যে প্রশ্ন গুলো উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আজও প্রশ্ন হয়েই বেঁচে রয়েছে সেখানেই তোমার অফিম মৃত্যু হয়েছিল । (৩) যাকিছু থেকে গিয়েছিল … অসম্পূর্ন সবই উড়িয়ে দিয়েছিলে নস্টালজিক হওয়াতে…নেশার ঘরে । (৪) যে মদিরা একটু…

  • সিন্টু প্রধানের পাঁচটি কবিতা

    পোশাক তোমার চাদরটার সাথে আজ দেখা হয়েছিল। এই শীতের সকালে ওই একটা চাদর কতজনের গায়ে ঘুরছে তা আমার জানা নেই। জানা নেই ঠিক এই মুহূর্তে কতজন রোদে শুকোতে দিয়েছে চাদরটা। কেবল দেখা হয়ে যায়… তোমার পাজামাটার সাথে, ওড়নাটার সাথে, চাদরটার সাথে, অন্য অন্য শরীরে। তোমার প্রতিটা চুড়িদার গোছানো আছে আমার মাথার ভিতর। তারা কখনো পুরনো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *