চিঠি – অমিতাভ গুপ্ত
এই নাচিকেত অগ্নিকে চেনো, কমরেড
এই নাচিকেত অগ্নিকে চেনো, কমরেড
কবি পরিচিতি: সর্বেশ্বরদয়াল সাক্সেনার জন্ম ১৯২৭ সালে উত্তরপ্রদেশের এক সামান্য বস্তিতে। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে, জীবিকা অর্জনের জন্য তিনি ফেরিওয়ালা থেকে শিক্ষকতা, ক্লার্ক তথা পত্রিকার সম্পাদক রূপেও কাজ করেছেন। তাঁর কবিতা এক আশ্চর্য মানবচৈতন্যের কথা বলে যেখানে ‘অহং’ (আমি) ও ‘সোহহং’ (তুমি) একই সঙ্গে যুক্ত হয়, বিমুক্ত হয়, প্রবাহিত হয়। সর্বেশ্বরদয়াল সাক্সেনার কবিতা…
মায়া বয়েস তো কমে এল, নীল নীল আলোজ্বলে আছে যে জাহাজ ভাসিয়েছ তাতেশুধু পরের প্রভাতেমিশিও না জল আর, নোনাবালি, চরাঢেউরৌদ্র প্রতাপে এ মায়ার বিষ নেই, বিষ নেইনৈঋতে আর; সন্ধের মাঝখানে ট্রাফিকের মতোকারা যেন মিশিয়েছে ভৈরবী রাগ ভৈরবী রাগে গাই, এই রাতে চুরি গেছেকোনো এক বৈষ্ণবী চাঁদতবুও অবুঝ প্রবাদকারা যেন রটিয়েছে মায়া নেই আশা নেই বলে…
পথে পথে এত কথার ট্রাফিক জ্যামভদ্রলোকের প্রগলভতা স্তুতিবাক্য শোকসভাআমার ফিরতে দেরি হচ্ছে। মা, তোমার মনে আছে!বাড়ি ফিরবার পথে দক্ষিণের সেই পুরাতন সাঁকো,সাঁকোর নীচে শান্তজল – পূর্বপুরুষেরআজও রয়েছে কী অবিকল! মা, আমার বড্ড ইচ্ছেআজও একবার স্কুল ফাঁকি দেবপথে প্রান্তরে মুক্ত মাঠে সময় বিলিয়ে উদার হস্তে বাড়ি ফিরবআর বাবার কিনে দেয়া সেই প্রথম স্কুল ব্যাগটিতেতোমার জন্য ভরে…
একদিন সারাদিন ছোটো ছোটো বদ্রী পাখির মতো দিনগুলি ভাবি দিনভর ওরা কোঠাঘরে কিচমিচ করে ঠান্ডা লাগে, জ্বর আসে যেমনভাবে জ্বরে কাবু সারা শহর দানাপানির জন্য ভিক্ষাপাত্র নিয়ে ঘুরি বাগড়াইচণ্ডীতলায় বিশাল হাট সেখানে ফ্রীঞ্চ, ককাটেল, জাভা, লাভ বার্ডের আসর তবুও ভিক্ষা মেলে না মাথার ভেতর বুড়ো কাছিমের মতো হাঁটে একেকটা দিন সমুদ্র ফেনায় শুশ্রূষা কেটে যায়–…
অটোরিক্সার গোলাপি প্রাণ এরপর আর ফিরে তাকায়নি । আমি হাঁটছিলাম পিছু পিছু আমার মলিন কাঁধে -একটা আফসোসের বোঁচকা নিয়ে । দমবন্ধ হয়ে পড়ে থাকা অক্সিজেন সেবিদের নার্কটিক ডিপার্টমেন্ট খুঁজছে আজ বেশ কিছুদিন । আটক হবার আগে আমিও হাঁটবো । কাঁধে উত্তাপ অথবা ধারালো কোন ছুরি গেঁথে । আমি হাঁটবো সে অব্দি যেখানে পায়রা হয়ে ধরা…
মেয়েদের শরীরে আলাদা আলাদা গন্ধ থাকে, মুখের আর বুকের গন্ধ একরকম না। প্রতিটা মেয়ের ঘামের গন্ধ আলাদা, ভিন্ন তাদের আবেদন, ইশারা। প্রতিটা মেয়ের স্বপ্নের একটাই গন্ধ- “মাটির হোক, আমাকে একটা ছাদ দিও”