চিঠি – অমিতাভ গুপ্ত
এই নাচিকেত অগ্নিকে চেনো, কমরেড
এই নাচিকেত অগ্নিকে চেনো, কমরেড
যারা অপমান করেছিল, তাদের ভুলে গেছিযারা ভালোবেসেছিল, তাদের ভুলে গেছি কে আমায় ঠেলে দিয়েছিল খাদের কিনারে?কে বলেছিল, যাও, ভোগ করো ন্যায়-অন্যায় ভুলে??সে আমি, আমারই ক্ষমতা! আজ এই নির্বাসন, আজ এই চামড়ার দাগ সারাটা দুপুর আর সারাটা রাত্রি শুধুঅলিগলি দৌড়ে বেড়ানো যাদের অপমান করেছি, তাদের কোথায় পাবো?ভালোবেসেছিল…
ঈশ্বরী নক্ষত্র দহনে অনুশোচনা উল্লাস হয়ে ওঠে যে দেবীর কাছে হাত পাতলে রাত পাওয়া যায় সে কোনো মানবীদেহ জুড়ে যার গোলাপি আয়োজন মিহি সন্ধের গায়ে জং ধরেছেধ্বংসের ভেতরেও শোনা যায় শঙ্খের সুর পেরোনো আলপথেযদি শুশ্রূষার বিষ ঢেলে যায় কেউ… কোনো দেবী ক্ষয়িত চেতনার পঙ্ক্তি পথ হারিয়ে জন্মের প্রলাপ যাপনে এ গলি সে গলি থেকে ভেসে…
অন্যান্য দিনের মতই অশান্ত কম্পমান বুকে, ছেলেটি ভীত সন্ত্রস্ত চোখ রাখল জানালায়। সূর্য উঠেছে আজও প্রতিদিনের মতই, শুধু পুঞ্জীকৃত কালো ধোঁয়ার আস্তরণটা নেই আজ। “আজ কি তবে কোন উৎসব?” ভালো খারাপের পার্থক্য না বোঝা বারুদের প্রাণঘাতী পোড়া গন্ধ নেই আজ। নেই বোমারু বিমানের আগ্রাসী হুংকার। নির্দয় ট্যাংকারের তালে তালে, ভারী জুতোর শব্দগুলোও কোথাও হারিয়ে গেছে…
তুমি চাইলেই পায়ের শিকল ছিঁড়তে পারো নির্দ্বিধায় যেমন ছেঁড়-সেলাই সুতার। তুমি চাইলেই প্রদীপ জ্বেলে মুছে নিতে পার অবলীলায় তোমার যাবতীয় অন্ধকার। কে দেয় তোমাকে বাঁধা? কে রোখে তোমার পথ? তুমি তো আমার জীবন সত্ত্বার জ্যোতির্ময় অহংকার। সাহসিনী হও, কেটে যাবে মেঘ, বাতাসে মিলাবে অনাহুত দীর্ঘশ্বাস, দিগন্তে আসবে আলোর বাণ। তুমি জাগলেই তোমার সীমান্ত জুড়ে বসন্ত…
তারপর সবটুকু নীরবতা পালনের অনুষ্ঠানে শেষ হয়, একজন ব্যস্ত হয়ে, আকাশ ছোঁয়ার অছিলায় অন্য কারোর স্বপ্ন ছোঁয়! স্বপ্ন ওড়ে,ছেঁড়া তুলোর মতো, যত্ন করে মন বন্দী থাকে ভালোবাসা; দুটো মানুষ শুধু অধিকারবোধে দুঃখ যাপন করে, একটা ভোরেও একসাথে সূর্যোদয় দেখা হয় না আর, কথার পরে কথা জমে,আর কিছু কবিতার জন্ম হয়…
এ কেমন যুদ্ধ ‘পরিতোষ’? অসম আহবে তুমি কি দেশভক্তি, দেশপ্রেম দেখাতে পারনি- পাণ্ডব কারা ? কারাই বা শত্রু কৌরবে সঙ্গ দিলো , এ কোন যুদ্ধের ছায়া কাহিনী? নক্ষত্রের দেশে , জোৎস্না মিশেল সুগন্ধি চাঁদে উঁকি দিচ্ছে তোমার আমার বপন ক্ষেত্রভূমি নিভন্ত আগুন আবার জ্বললো নিশীথ রাতে ক্ষেত্রভূমি , বধ্যভূমিতে রক্ত মেশালে তুমি । এ যুদ্ধ…