ছায়ার বিস্তৃতি – সৈয়দ কওসর জামাল

শেয়ার করুন

মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে ঘৃণা, নেত্ররোষ অপলক, স্থির
আর্ত দিন, ক্লিষ্ট রাত, আমাকে দণ্ডিত ভেবে করেছিল ভিড়
টলোমলো এই ভূমে, আসলে তো সাক্ষী আমি – উন্মত্ত দম্ভের
এই হত্যা-হত্যা খেলা, কষ্ট পাই, যেন গান – ব্যাহত সুরের,
গুমরে গুমরে ঘোরে বিক্ষুব্ধ বাতাসে, তবুও যুদ্ধের কথা
কান পেতে শোনে কেউ, রোমাঞ্চ খুঁজেছে কেউ, জানেনা – ব্যর্থতা
প্রতিটি বিরুদ্ধ তীরে ঢেউ হয়ে ভেঙে পড়ে দিক্‌বিদিকহারা
পায়ের নীচের থেকে বালি কেড়ে নেয় স্রোত, তবু পরম্পরা
বীরত্বের, রাজত্বের – আধিপত্যকামী যত বিলাসী ঈশ্বর
দর্পনে দ্যাখে না মুখ, পাছে দুর্বলতা জাগে – প্রমানে তৎপর
এসব প্রস্তুতি শুধু শান্তির, হিংসার নয়, হৃদয়শকুন
আড়ালে বাড়ায় তার ছোঁয়ের তীব্রতা, হাওয়ায় মৃত্যুর ধুন
কখনও যাইনি কাছে, তবু টের পাই বেড়েওঠা পূর্বাপর
ছায়ায় বিস্তৃতি তার নেভাতে চেয়েছি ফুঁয়ে, ভাষা পরিসর
হয়েছে বিপদাকীর্ন, তাতে সমাদৃত করি প্রশান্ত প্রতিমা
যে-ভাষা বিবাদময়, ভেঙে দিই, এসো, তার সংকীর্ন সীমা।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • অয়ন ঘোষের পাঁচটি কবিতা

    যুদ্ধ পুকুরে ডুব দিয়ে তুলে আনেশামুক-গুগলি, চুনো-পুঁটিজলের সংসার টালমাটালমাছরাঙার শ্যেন দৃষ্টিতে আগামী যুদ্ধের নিশান উড়ছে। কিস্তিমাত দুঃখকে পোষ মানিয়েআড়াই চালে মাতচৌষট্টি খোপ সাজানো আছেঈশ্বর আমি মুখোমুখি। শীত দু’হাতে তাড়াচ্ছি শীতআগুন কৌশলেঅরণি শেখাল, ভিতরের কাঁপন থামলেশীত আপনা থেকেই বসন্তকে পথ করে দেয়। নিস্তার একটা কৌণিক বিন্দু থেকেমেপে নিয়ে যাত্রাপথতির্যক আলোর সাথে সুরবুকের বাঁ’দিকে এসে সংসার পাতলঘুম…

  • কাল্পনিক চরিত্র – রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

    পৃথিবীর প্রকোষ্ঠে ক্লেশ ছড়ায় ৷ মানুষের অকাতর ঘুম বিবেকের পাশ ফিরে শুয়ে থাকা ৷ যে গাছটা আভূমি বিস্তৃত শুধু তোমাকে ঘিরে ৷ যার পাতায় পাতায় তোমার যাতায়াত, যার ডাল শিকর তোমার নৈবেদ্য সাজায় , তাকে তুমি ছারখার কর ৷ মরিচ ঢেলে দাও দু’চোখের পরিখায় ৷ অন্ধত্বের দায় নিয়ে তবু বারবার ফিরে যাই তোমার ভুল ঠিকানায়…

  • অমীমাংসিত – কোয়েল

    ১. প্রতিটা যুদ্ধের আগে যে দামামা বেজে ওঠে, তাকে আমি নির্লিপ্তভাবে অবহেলা করেছি। ২. পুড়ে যাবার আগে আমার যতো টুকরো-টাকরা ‘আমি’ ছিলো, তা’ আজ আরও টুকরো টুকরো হয়েছে ক্ষমতার হাত ধরে… ৩. যারা গোল করে ঘিরে ছিলো আমায় তারা আমার শাড়ি উড়িয়ে জানিয়েছে- এ তল্লাটে কোনো পাগল কুকুরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি… ৪. ছেড়ে যাওয়া প্রেমিক…

  • প্রেমিকাদের বলছি না – সেলিম মণ্ডল

    ১ প্রেমিকা ছাড়া অনস্তিত্বের স্বর্গে কেটে যাচ্ছে ভালোই। তবুও যখন উঁকি মেরে দেখি প্রেমিকার মতো বান্ধবীরা একে একে শীতবস্ত্র জড়িয়ে নিচ্ছে। মনে হয়, এ জীবনে আমার আর ভ্রমণ হবে না।   ২ যে শহরে শীতকাল নেই, সেই শহরে ছড়িয়ে আছে আমার প্রেমিকারা। নকশি-কাঁথার ভিতর উষ্ণতা বাড়াতে বাড়াতে ভুলেই গেছি মায়ের ছুঁচে ফোটা আঙুলের কথা। যে আঙুলে মা প্রেমিকার…

  • মরণলেখ ১ – গৌতম বসু

    আকাশের কাছে আমাদের সাহায্য প্রার্থনামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিমন, খরোস্বী লিপির চিরশয্যা, মন দাবানলদাবানলের পথে যারা হেঁটেছিদূরের দেশ, নিজেকে তুমি কোথায় ফেলে এসেছো ভাবোভাবো, রক্ষাকবচ ভেসে গেছে কোন কূলে থেকে অকূলেমনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিরক্ষাকবচ ভেসে গেছে যাদেরশতাব্দীর মতো একনিষ্ঠ যারাসৃষ্টির মতো, লয়ের মতো একামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছি বাতাস এখনো শোকগাথা, শোকগাথার বাতাসে এসে দাঁড়ালাম দেহকার্য এখনো…

  • এ যুগের দাবী – তুলসীদাস ভট্টাচার্য

    আবারও আমরা হাঁটবো মিছিলে এবার আর দুমুঠো ভাতের জন্য নয় । এখন ঘরে ঘরে অন্ত্যোদয়,বি পি এল এখন পাড়ায় পাড়ায় সজলধারা , যুগের সাথে বদলে গেছে দাবীও । রাজনীতির ম্যানিফেস্টোয় মুছে দেবো মোটা হরফের লেখাগুলি ; একটা ধোঁয়াহীন পৃথিবী সবুজ পাতার নীচে জিরিয়ে নেবার একটু অবসর চাই । চাঁদের পাহাড়ে আর খোঁড়াখুঁড়ি নয় এসো,পৃথিবীটাকেই আরও…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *