অপারগ – সিদ্ধার্থ সিংহ

শেয়ার করুন

বন্যায় সব ভেসে গেছে ক’টা জামাপ্যান্ট ছাড়া কিছুই আনতে পারিনি… ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে কথাটা বলেছিল সে।

হঠাৎ করে ঘরে আগুন লেগে গেলেকিংবা আচমকা ভূমিকম্প হলেমানুষ কী নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে! কী নিয়ে!

ও রকম কোনও দিন যদি আমার জীবনে আসেতা হলে কী কী নেব? কী কী?তার একটা তালিকা তৈরি করে রেখেছিলাম আমি।

সেই তালিকার প্রথমেই ছিলআমার কবিতার খাতা,দ্বিতীয় স্থানে ছিলআমার পোষা বেড়ালছানা,আর তৃতীয় স্থানেছেলেবেলায় পাওয়া আমার প্রথম প্রেমপত্র।চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তমে আর কী কী ছিলএখন আর মনে নেই।

যে দিন সত্যি সত্যিই ওই ভাবে আমাকে বেরিয়ে আসতে হল সে দিন কিচ্ছু নিতে পারলাম না না সেই প্রেমপত্র, না সেই ছোট্ট বেড়ালছানা না সেই কবিতার খাতা কিচ্ছু না। কিচ্ছু না। কিচ্ছু না।

এমনকী, নিজেকেও সঙ্গে করে আনতে পারলাম না।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • |

    উৎসব – সন্দীপ ভট্টাচার্য্য

    অন্যান্য দিনের মতই অশান্ত কম্পমান বুকে, ছেলেটি ভীত সন্ত্রস্ত চোখ রাখল জানালায়। সূর্য উঠেছে আজও প্রতিদিনের মতই, শুধু পুঞ্জীকৃত কালো ধোঁয়ার আস্তরণটা নেই আজ। “আজ কি তবে কোন উৎসব?” ভালো খারাপের পার্থক্য না বোঝা বারুদের প্রাণঘাতী পোড়া গন্ধ নেই আজ। নেই বোমারু বিমানের আগ্রাসী হুংকার। নির্দয় ট্যাংকারের তালে তালে, ভারী জুতোর শব্দগুলোও কোথাও হারিয়ে গেছে…

  • জিয়া হকের পাঁচটি কবিতা

    ক. বোধগম্য নও, তবু হেসে ওঠা ধর্ম আমারমেরুদাঁড়া ভেঙে যায় রোজ রাত্রিবেলামানুষের ভাষা যেন বুঝতে পারি নাকাউকে পাই না বলে ঈশ্বরাদি ডাকিঈশ্বরকে ডাকি বলে কাউকে পাই নাক্ষমাশীল তিনি—এমনই শুনেছিমায়েদের চেয়ে মাতৃময়মাতৃময়ী না লিখে তাকে আমি পুরুষে রাখলাম‘করুণা করুণা’ বলে ডাকি সেই উঁচু নীরবতাআমার কথারা ঘোরে মনের জঙ্গলে আমারপশুমাংস চাই না আর চাই একটা গাভীর শাবকবিশ্বাস…

  • ফুলের কাছে – বদরুদ্দোজা শেখু

        ফুলের কাছে যাও নিঃশব্দে দাঁড়াও দ্যাখো, অবলোকন করো অনুভব করো ওর সৌন্দর্যের প্রাচুর্য অনুধাবন করো ওর মুখরিত মধুরিমা অনুসরণ করো ওর অনুচ্চার প্রেমের মাহাত্ম্য ওকে স্পর্শ ক’রে দ্যাখো, কিন্তু তুলিও না তাহলে ও ঝ’রে যাবে, ম’রে যাবে সৌন্দর্য ম’রে যাবে সুগন্ধ ঝ’রে যাবে আনন্দ  ঝ’রে যাবে বাতাস বিবর্ণ হবে পরিবেশ নির্বান্ধব হবে ।…

  • মরণলেখ ১ – গৌতম বসু

    আকাশের কাছে আমাদের সাহায্য প্রার্থনামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিমন, খরোস্বী লিপির চিরশয্যা, মন দাবানলদাবানলের পথে যারা হেঁটেছিদূরের দেশ, নিজেকে তুমি কোথায় ফেলে এসেছো ভাবোভাবো, রক্ষাকবচ ভেসে গেছে কোন কূলে থেকে অকূলেমনের পথে-পথে যারা হেঁটেছিরক্ষাকবচ ভেসে গেছে যাদেরশতাব্দীর মতো একনিষ্ঠ যারাসৃষ্টির মতো, লয়ের মতো একামনের পথে-পথে যারা হেঁটেছি বাতাস এখনো শোকগাথা, শোকগাথার বাতাসে এসে দাঁড়ালাম দেহকার্য এখনো…

  • আহত বাস্তব – তনুজা চক্রবর্তী

    যতবার পুরুষ কে মানুষ ভাবতে চেয়েছি ততবার গোল খেয়েছি! প্রতিপক্ষ বড়ো কমজোরি , শব্দের খেলায়ও নারীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে, অতর্কিতে আক্রমণ জারি রাখার চেষ্টা চলতে থাকে ! জন্মদাতা ও পরাজয়ে আনন্দ পায়, নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানায় ! জন্মদাত্রী আনন্দ পায় শুধুমাত্র , সইতে জানে বলে।

  • |

    নবীর আগমনবার্তা – কাজী জহিরুল ইসলাম

    দূরত্বের চিৎকার শুনেছিলো ক্রাচের কিশোর তখনি অন্ধকারের সাহস দুপায়ে বেঁধে নেয় সূর্য লাল হয় চন্দ্র গোল হয় বালুর নিচ থেকে উঠে আসে উটপাখিদের ডিম, ডানা ঝাপটায় নিস্ফলা পৃথিবীতে আলো-প্রান্তরের রেখার ওপর দাঁড়িয়ে শেখায় মরুদৌড় হতাশ উটপাখিদের। গাধার কাফেলাকে বলে, মশক খুলে চুমুক দাও মনিবের রক্তে, কেননা এই অরণ্য শুধু স্টালিওনের নয়। সন্ধ্যাকে থামিয়ে দেয় সমুদ্রের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *