মাদমোয়াজেল – অর্ণব সাহা

শেয়ার করুন

আমরাই কবীর, আমরা সুমনের বৈধ সন্তান
যেকোনো ধ্বংসের মুখে আমাদের সাবলীল গান

টেলিগ্রাফ তারে বসে ডেকে ওঠে অলৌকিক পাখি
আমরা তার ছেঁড়া ডানা যত্নে কুড়িয়ে তুলে রাখি

ফুটপাথশিশুকে পিষে ছুটে যায় হিংস্র স্করপিও
আমাদের গিটারের শরীরে বসেছে প্রজাপতি

চে আঁকা টি-শার্ট পরে প্রজন্মের শান্ত শ্লোগান
সদর দপ্তরের ঠুনকো কাচ ভেঙে দিতে পারে

দেবর্ষি নবরূপার হাত ধরে ফুটপাথ পেরোয়
নতজানু স্টেটবাস জেব্রা ক্রসিং-এ থমকে যায়
মনে পড়ে দেড়দশক আগে এক আবছা মিছিলে
পাশে হেঁটে-যাওয়া মেয়েটির মুখ, নাম মনে নেই

আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে আষাঢ়ের পরিযায়ী মেঘ
কীভাবে ঠোঁটের কোণে চেপে রাখো সবটুকু আবেগ ?

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • টস – রেহান কৌশিক

    জুলাই, ১৯৯৬’মিলেছে মিলেছে মিলেছে…’ সন্ধেবেলা বাড়ির ড্রয়িংরুমে পা দিয়েই শাম্মি কাপুরের চাহে মুঝে কোই জংলি কহের স্টাইলে একটা নাচ দিল মানস। দু’আঙুলের ফাঁকে ট্রান্সফার লেটারের কপি।’সত্যি!’ ইচ্ছাপূরণের বিস্ময় স্বস্তিকার গলায়।মানস বলল, ‘নিজের চোখে দ্যাখো।’স্বস্তিকা চোখ রাখল কাগজে। তাদের স্বপ্নের ছাড়পত্র। ট্রান্সফার হয়েছে ঘাটশিলাতেই। ওপরওয়ালার ভ্যানতাড়া দেখে মনে হচ্ছিল না শেষ অব্দি হবে। হল। অবশেষে হল।মানসের…

  • |

    প্রেম দাও প্রকৃতি – অনিন্দিতা মিত্র

    একটু রোদ আনো স্যাঁতস্যাঁতে চোখ আর মনের খাঁজে জমেছে দুঃখবিলাসী ফাংগাস জীবানুনাশক রোদে আহুতি দেবো প্রাগৈতিহাসিক বিরহের ফসিলস্ ডানা ঠিক খুঁজে নেবে আকাশ শুধু ওড়ার প্রত‍্যয়টুকু পৌঁছে দিও ওদের কানে বহুকাল স্থবিরতার সাথে করেছে যারা দাম্পত‍্যযাপন চোখে স্বপ্ন এঁকে দিতে হবেনা স্বপ্ন দেখার সাহসটা শুধু দিও রক্তজালিকারা সে সাহস পৌঁছে দেবে বুকের বামকুঠুরিতে আর হ‍্যাঁ,…

  • কালো দিনের সনেট – অয়ন চৌধুরী

    আমাদের ফ্রিজগুলো ভরে আছে বারুদে বাতাস ভরে আছে তীব্র ঝাঁঝালো সীসাগন্ধে আমাদের সমস্ত পকেট বুলেটে, পিস্তলে আর আমাদের মনের বাক্সগুলি দামি অন্ধকারে প্রতিটি রাতের চাদর ফুটো করে কে ওরা বাইকবাহিনী! ভাতের থালায় ছিটকে পড়ে জমাট জমাট রক্তকাহিনি প্রতিটি বাটিতে মাছের ঝোলের নীচে চাপ হয়ে আছে প্রতিশোধ আগুন প্রতিটি ক্ষতের মুখে কে ওরা ঠেসে দিল মুঠো…

  • থিমপুজো – হেমন্ত জানা

    এই শহরের ‘হংসমিথুন’ সর্বজনীনের এবারের থিম আদিবাসী গ্রাম। উল্টোরথে খুঁটি পুজোর দিন থেকে থিমের কাঠামো গড়া শুরু। শিল্পীর হাতের মায়ায় ধীরে ধীরে রূপ পায় পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির এক আদিবাসী গ্রাম। নকল শালতরু, খড়োচালের মেঠোঘর, তার চারধারের নানা নকশা, আদিবাসী রমণীদের নৃত্যরত মডেল, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আদিবাসী ঢঙের প্রতিমা। খুঁটি পুজোর দিন থেকেই এলাকায় পুজো-পুজো ভাব।…

  • শক্তিরূপেণ – শুভঙ্কর দেব

    ডিপ্রেশনের দিনগুলো সব হাওয়ায় ওড়াও, পেরেক খুলে যীশুর দেহ নামাও নীচে, হাসতে হাসতে এ জন্মটা মনকে বোঝাও, কাল থেকে আর ঘুরতে না-যাক আমার পিছে। বাহান্নটা মানুষ পেলে আমায় ছাড়াও, তাদের কেউই তোমার কোনো যজ্ঞে লাগে? নইলে আরও পাঁচশো কুড়ির ব্যবস্থা নাও, তোমায় আমি দেখতে চাইবো সবার আগে। যাজ্ঞসেনী, তোমার মতো আমার মা’ও সবার সাথে যুদ্ধে…

  • সীতা হেমব্রমের পাঁচটি কবিতা

    আখা জ্বলছে, কয়লার বিরাম নেই লেখা আসার আগে, সন্তানজন্ম ফিরে আসে। স্বপ্ন তখন স্বরবর্ণে আসত, ফিরে যেত ভ্রূণ বিষাক্তকরে। মনে হত, মরা বাচ্চা বিয়োব আমি; নীল হয়ে যাওয়া, রক্তনাড়ী জড়ানো গলায় সে মাকেনা বলেই হয়ত ফিরে যাবে সম্পূর্ণ জীর্ণ । দলা পাকানো জরায়ু তছনছ করে গোটা বাড়িটাই ভেঙে পড়ল, সলতে পাকানোএক ফোঁটা জলও নিল না…

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *