অনিবার্য অক্ষমতার দূরাস্ত চোখ – উদয় শংকর দুর্জয়

শেয়ার করুন

অকারণে চূর্ণতা জমায় শরৎমেঘ। কলতান মুখর
সেইসব প্রিয় অবসর কখন যেন ফাঁকি দিয়ে
এক অনিবার্যকে মেনে নিয়েছে। নিয়তি বলে কিছু নেই
যে এতদিন মেনেছিল, সে এখন বেলান্তে বসে ভাবে
এই গ্রীলের ওপারে মাথাটা বের করতে পারলেই
আকাশজল ছোঁয়া যেত—মেঘলা—অঢেল।

বুকের কপাটগুলো অতিশয় উদ্বিগ্ন, পেরুবার অক্ষমতাকে
কিছুতেই পেরুনো যায় না। এর বাইরে এক বিশালতা
তবু দৃষ্টি স্থবির, ক্রোধ ভিড় করে আছে বিদগ্ধ নাবিকের মতো।
শুধু পালাবার পথটাই অমন নির্ভার চেয়ে থাকে; চোখগুলো চেনা
তবু বিশ্বাসের খোদাই নকশা দেখলেই ঝুম-নিশা পিছু দাঁড়ায়।

অবচেতন বলতে কিছু নেই এখানে, পুড়ে গেছে সব
পুড়ে গেছে যার আগমনধ্বনিতে লেখা হয়েছিল
একশ’টা রক্ত জবার নাম। এ এক ঠুনকো প্রতিরোধ!
টুকরো স্পর্শে গুঁড়িয়ে দেয়া যায় তবু আঙুলের অগ্রভাগে
সামর্থ্যের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।

সত্যিকার অবশিষ্ট বলে কিছু থাকে না
অবশিষ্টের নামেই নিজের সাথে নিজের প্রতারণা।

চিত্রঋণ মৌমিতা ভট্টাচার্য্য

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • ফুলের কাছে – বদরুদ্দোজা শেখু

        ফুলের কাছে যাও নিঃশব্দে দাঁড়াও দ্যাখো, অবলোকন করো অনুভব করো ওর সৌন্দর্যের প্রাচুর্য অনুধাবন করো ওর মুখরিত মধুরিমা অনুসরণ করো ওর অনুচ্চার প্রেমের মাহাত্ম্য ওকে স্পর্শ ক’রে দ্যাখো, কিন্তু তুলিও না তাহলে ও ঝ’রে যাবে, ম’রে যাবে সৌন্দর্য ম’রে যাবে সুগন্ধ ঝ’রে যাবে আনন্দ  ঝ’রে যাবে বাতাস বিবর্ণ হবে পরিবেশ নির্বান্ধব হবে ।…

  • নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা

    ভূমধ্যসাগর ও আইজাক নিউটনের পঞ্চম গতিসূত্র একটি বিষধর ভাইপার সুবর্ণ বালির ভেতরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির গাঁদা ফুলের পাতায় একেকটা ভূমধ্যসাগর আর বাবার সাদা চুলের মতো নির্জন দরজা শুয়ে আছেআমি শুধু বৃষ্টিকে অপেক্ষা করি যার কোনো আলাদা লম্ব উপাংশ থাকে না, নীল প্লাইয়ের দোকানে আইজ্যাক নিউটন পঞ্চম গতিসূত্র আবিষ্কার করবেনহরপ্পাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি প্রতিটি…

  • দুটি কবিতা – মহাদেবাশা

    বাতাসে লতিয়ে ওঠা ঢেউ বাতাসে ঝড় উঠেছে, তুমি কুড়িয়ে রেখেছো নদী,তোমার & চাওয়া পাওয়ার সিঁড়িগুলো ছোটো হতে হতে দূরবীণ হয়ে উঠেছে, রাস্তার ঘরে ঘাসফুলের মলাট, ঘ্রাণে ঘ্রাণে ভরে যাচ্ছে আঁচল, আয়না হয়ে উঠেছে টিপ, একেই সংস্কার বলি, আর চোখকে নদী, বারান্দায় অনায়াসে পৌঁছে যায় রোদ, রোদের পেয়ালায় চুমুক উঠে ঘোড়ার, এসময় অন্ধকারে মেঘ উঠে, গম্বুজ…

  • পাঁচটি কবিতা – প্রীতম বসাক

    একটি কাব্য ও তাহার খোসা ১. হে আলোচ্য জীবন! সঠিক শব্দটি আমি খুঁজিতেছি শূন্য পূরণের নিমিত্তে। এত নগণ্য শস্যের সূচি। এত আলোর অভাব। দূরত্ব হেতু আমি পৌঁছাইতে অপারগ তোমার ঔষধি অবধি। অথচ একটি দুটি গান পাইলে মাঠের ঘুম ভাঙিত। সহজ হইত মাটি। দেখো কী আবেগ করিয়া আসিতেছে দিগ্বলয় জুড়িয়া। কত করুণ ওই সজল। হে অপঠিত…

  • কুণাল বিশ্বাসের পাঁচটি কবিতা

    অনুষঙ্গ ছিন্ন হও প্রেম — আমাকে সুযোগ দাওএসো গান করিবাতাবিসকল, পটভূমি জুড়ে ভোরের প্রথম ফুলকপিআনাজ, বাসনজল, তামা — সকলেই খুঁজে নেয় আলো তোমাকে এককথায় প্রকাশ সম্ভব নয়জামরুল তলায়, প্রসূতিসদনের ছাদে মেঘ করে আসে, দ্যাখোঘামে ভেজা শরাফত আলির কবর… ফুটে আছে ঘুমআমরা সকলে আজ ধীবরচরিত পড়ি এই পথে আসে গাড়ি, পৌরাণিক চাকা, দেবতার ফল… ঈশপের গল্প…

  • মৃগশিরা আর কালপুরুষ – গৌতম চৌধুরী

    ১.যে-সর্বনামকে বিদায় দেওয়া হইয়াছিল ঘোর কোনও তমসাতীরে, ঘুড়িটি ভাসিতেছে, এতই উঁচুতে, যে কাটিয়া যাওয়া টের পাওয়া যায় না। মেঘ জমিলে চিলেরাও সেইখানে। তাহাদের চোখে নদী সামান্যই দূরে। জলই সম্পর্করেখা। বন্দর বলিলেই কেন বৃষ্টির কথা মনে হয়। তাহার কত লিপ্ততা, ঘাম ও মুদ্রা বিনিময়, তবু পথে পথে ভিজিবার আমন্ত্রণ। রংবেরঙের কাপড় কাচিয়া মেলিয়া দেওয়া হইয়াছে প্রান্তরে।…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *