৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮:- একটি শোকগাথা – শোভন ভট্টাচার্য

শেয়ার করুন

(কবি গৌতম বসু স্মরণে)

অগ্নিকে ছুঁয়ে-থাকুক প্রকৃত শ্মশানবন্ধু… জল…
একদিন বন্ধুর সাথে গিয়ে ‘রাজেশ্বরীদের বাড়ি’
পেয়েছি প্রথম দেখা। সবে লেখা হচ্ছে ‘রসাতল’।
‘অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে’ ছিল কি আভাষ তারই!

দূরভাষে যোগাযোগ মোটেই ছিল না বলা ভালো;
মাঝেমধ্যে দেখা হলে হয়ে যেত, না-হলে হত না;
কিন্তু দেখা হলে সেই হাসিমুখ-উপচে-ওঠা আলো
মনে পড়ছে খুব। আপনি, বিশ্বাসে-সংশয়ে আনাগোনা

করতে করতে ইদানীং ডুব দিচ্ছিলেন কোন জলে,
শুনতাম খানিক আর খানিক নিঃশব্দে টের পেতাম।
গৌতম দা, এরকমই সবেগে আপনার যাওয়া চলে?
প্রস্তাব করলেন আজ আকস্মিক কে আপনার নাম?

পাতালে নিহিত ছায়া হাত বাড়িয়ে স্বয়ং ডাকলেন?
নাকি হালিশহরের কালীখেকো রামপ্রসাদ সেন?

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • পক্ষপাঠ – শান্তা কর রায়

    আয়না যেন অনন্ত এক শব্দ আকর মুখ দেখে নেয় নীলবিবরে মৌসুমিরাত দৌড়ে তুমি ছুঁয়ে দেখো কবির বাড়ি দৃপ্ত মুখে পাটাতনে চলছে মিছিল । স্বপ্ন নিয়ে কবি জানি একাই মিছিল একাই তিনি জাগিয়ে রাখেন নদীর টানে রমণীয় শিশির যেন জমা হীরে ভিতর থেকে বাইরে ওড়ে পানসি ঘুড়ি । জেগে ওঠা রক্ত তখন কোঁচকানো মেঘ খরার সময়…

  • দুটি কবিতা – সৌগত দত্ত

    কর্দমাক্ত বর্ষাকে বৈশাখের চিঠি চিঠিগুলো ছড়িয়ে আছে দক্ষিণের চিলেকোঠায়, তাতে ঠিকানা লেখা হয়নি এখনও। কি নামে ইতিহাস উৎসর্গ হয়? বন্ধু, নাকি প্রিয়তম! তোমার প্রতিবেশী জানালাটায় আজও আমার কবিতা লেগে আছে; তুমি ছেড়ে গেছো না পাওয়ার অভিমান আর লাঞ্চনার বিজয়ে। তবু, কাঁটাতার আর কাটাকুটি খেলায় সিঁদুর মুছে যায়, প্রেম নেমে আসে, কোনো এক নাম না জানা…

  • পল্লব গোস্বামীর গুচ্ছ কবিতা

    একদিন সারাদিন  ছোটো ছোটো বদ্রী পাখির মতো  দিনগুলি ভাবি  দিনভর ওরা কোঠাঘরে কিচমিচ করে  ঠান্ডা লাগে, জ্বর আসে  যেমনভাবে জ্বরে কাবু সারা শহর  দানাপানির জন্য  ভিক্ষাপাত্র নিয়ে ঘুরি  বাগড়াইচণ্ডীতলায় বিশাল হাট  সেখানে  ফ্রীঞ্চ, ককাটেল, জাভা,  লাভ বার্ডের আসর  তবুও ভিক্ষা মেলে না  মাথার ভেতর  বুড়ো কাছিমের মতো হাঁটে  একেকটা দিন  সমুদ্র ফেনায় শুশ্রূষা কেটে যায়–…

  • অকাল বোধন – কোয়েল ভড়

    ১.যে আলোদেশে আলাপ আমাদেরতার ঠিকানা পায়নি কোনো ষড়যন্ত্রী কীট, মুদ্রিত কোনো অক্ষরেধরা পড়েনি তার অবয়ব। ২.বয়ে যাওয়া নদী বা সময়ের আখ্যানেপ্রাপ্তি লেগে থাকে ভগ্নাংশের- তবু হাওয়ায় মিশে যাওয়া সুগন্ধেরব্যবচ্ছেদ করতে পারে না কাঁটাতার। ৩.ঊ-কারের তীর ধরে আসতে থাকা প্রেমবার্ধক্যের ভরসা রেখে দেয় রঙিন রুমালে, প্রিয় রঙ্গন, এবার বসন্ত নামাওকোনো শারদীয় বিকেলে…

  • অরূপরতন হালদারের পাঁচটি কবিতা

    ১ অবদমন বেড়ালের থাবার নীচে উদ্ভূত গানেরপ্রতিটা নিঃশব্দ এঁকেছে আমার দেওয়ালে,আয়নাটি স্বপ্নের শ্বাস মুছে নেয় প্রহরে প্রহরে,তার মকররেখায় ক্লান্ত সূর্য, তবু ভেঙে যাওয়াথেমে আছে লক্ষ্মণরেখায়। পর্দার বিভঙ্গ দেখেতুমি উন্মত্ত হয়েছিলে, ক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো শিসউড়ে গিয়েছিল তোমার গলাবন্ধ থেকে—সেসবদিন আজ ক্লিশিত পানপাত্রে পড়ে আছে, তুমিওনখের রং পাল্টে ফেলেছ কবেই। কমলা ঝরিয়ারসন্ধ্যা ফিরে গেল, এবার শনির থানে…

  • এ যুগের দাবী – তুলসীদাস ভট্টাচার্য

    আবারও আমরা হাঁটবো মিছিলে এবার আর দুমুঠো ভাতের জন্য নয় । এখন ঘরে ঘরে অন্ত্যোদয়,বি পি এল এখন পাড়ায় পাড়ায় সজলধারা , যুগের সাথে বদলে গেছে দাবীও । রাজনীতির ম্যানিফেস্টোয় মুছে দেবো মোটা হরফের লেখাগুলি ; একটা ধোঁয়াহীন পৃথিবী সবুজ পাতার নীচে জিরিয়ে নেবার একটু অবসর চাই । চাঁদের পাহাড়ে আর খোঁড়াখুঁড়ি নয় এসো,পৃথিবীটাকেই আরও…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *