শক্তিরূপেণ – শুভঙ্কর দেব

শেয়ার করুন

ডিপ্রেশনের দিনগুলো সব হাওয়ায় ওড়াও,
পেরেক খুলে যীশুর দেহ নামাও নীচে,
হাসতে হাসতে এ জন্মটা মনকে বোঝাও,
কাল থেকে আর ঘুরতে না-যাক আমার পিছে।

বাহান্নটা মানুষ পেলে আমায় ছাড়াও,
তাদের কেউই তোমার কোনো যজ্ঞে লাগে?
নইলে আরও পাঁচশো কুড়ির ব্যবস্থা নাও,
তোমায় আমি দেখতে চাইবো সবার আগে।

যাজ্ঞসেনী, তোমার মতো আমার মা’ও
সবার সাথে যুদ্ধে নামে, পরাস্ত হয়,
একটা করে মায়ের মতো আঙুল খোয়াও,
আয়না দেখে শপথ করো, পরেরটা নয়।

পরের যুদ্ধে আবার লড়াই, অস্ত্র শানাও,
খিদের নামে, আজ যে তোমায় ঘেন্না ধরায়,
আঙুল গুনে হিসেব রাখো, ভুলেই না যাও,
মানুষ মরে খুনে, শোকে, পরম্পরায়।

যাজ্ঞসেনী ,
এই পৃথিবীর সমস্ত দায় হাওয়ায় ওড়াও,
তোমার খুশি লটকে থাকা রুটিই তবে,
লাফাও, মারো, ঝগড়া করো, খুন করে খাও,
দিনের শেষে বাঁচতে পারলে, খবর হবে।

মানুষ হয়ে মরলে তবেই কবর হবে।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • |

    সুভাষিনী – পিনাকী

    সুভাষিনী, তোমাদের দেশে একেবারে মাটির গভীরে প্রবেশ করার মতন কোনো মাতৃভাষা নেই? চারপাশে এত এত শব্দের সমাহার- লক্ষ লক্ষ মানুষ কোটি কোটি শব্দ খরচ করছে, অথচ ভাষাকে যাপন করছে না। সুভাষিনী, তোমাদের দেশে এক্কেবারে নিরক্ষর মায়ের মতন করে বলার কোনো মাতৃভাষা নেই? ভাষা থেকে ভাষান্তরে চলেছে সকলে অক্লেশে, অবলীলায়,অসম্ভব তৎপরতায়, অথচ ভাষার শিকড় জানে না।…

  • মহুয়া সেনগুপ্তর দশটি কবিতা

    ১শত জলকণায় নামগান বাজে।জন্ম-জন্মান্তর ঘুরে ঘুরে আসেসীমান্ত লঙ্ঘিত পায়ে। অতি দূরদেশে তাঁর পথিকসাজ,মালিনীর দীন কণ্ঠহার বুকে জাগে—লতা থেকে চ্যুত অশ্রুফুল,মেঘ থেকে চূর্ণ জলধারা। দুলে ওঠে অনন্ত পথ, ছুটন্ত অশ্বখুরধার, তোমার জন্যসখা, একটি তণ্ডুল আছেক্ষুধিতের শাকান্নে ধরা। ২একটি আলোকিত নদীর পাশে শুয়ে আছি, একবস্ত্রে।আমার প্রকৃতিজন্ম মাদুর করেবিছিয়ে দিয়েছি ধুলোয়। আকাশপথে সুরের পালকি বেয়েউৎসব ঘন হয়ে ওঠে।বুকের…

  • নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা

    ভূমধ্যসাগর ও আইজাক নিউটনের পঞ্চম গতিসূত্র একটি বিষধর ভাইপার সুবর্ণ বালির ভেতরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির গাঁদা ফুলের পাতায় একেকটা ভূমধ্যসাগর আর বাবার সাদা চুলের মতো নির্জন দরজা শুয়ে আছেআমি শুধু বৃষ্টিকে অপেক্ষা করি যার কোনো আলাদা লম্ব উপাংশ থাকে না, নীল প্লাইয়ের দোকানে আইজ্যাক নিউটন পঞ্চম গতিসূত্র আবিষ্কার করবেনহরপ্পাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি প্রতিটি…

  • ধুপ – কৌশিক বাজারী

    একটা অদ্ভুত মনখারাপ করা ধুপ, অন্ধকারে পুড়ে পুড়ে নিভে গেল! ধুপ উপহার দেয় কেউ? এ সেই গিফট অফ দ্য মেজাই! তার গন্ধ, যা রয়ে গেছে সারা ঘরময়! আর আমি তার চলে যাওয়া দেখছি। হালকা ধুপের গন্ধ নিয়ে সে যাচ্ছে। বলছে, রাত্রেবেলা ঘুমিয়ে পড়ার আগে জ্বেলে নিও। স্বপ্নে পারিজাতের গন্ধ হবে! আমি আসব। চৌকাঠে বসব এসে।…

  • রাঁধুনি – সংস্কৃতি ব্যানার্জী

    আলো থেকে অসুখের দিকে যেতে আস্ত এক সরাইখানা, আঁশটে, স্যাঁতস্যাঁতে পাকানো তেলছোপ। লেগে যেতে যেতে সম্পর্কের তলায় আরো মোচড়, ওপর থেকে নিচ। ধিমে আঁচে স্মৃতি রেঁধে যাই রোজ পাত পেড়ে বসে থাকে অভুক্ত সংসার।

  • পুজোর একাল সেকাল – অন্তরা ঘোষ

    ছোটবেলা থেকেই দিল্লিতে বড়ো হওয়া সদ্য আঠারোতে পা দেওয়া মৌপিয়া আজ খুব খুশি। প্রায় দশ বছর পর গ্রামের বাড়িতে পুজো দেখতে এসেছে। বাবা যেহেতু এয়ারফোর্সে চাকরি করে তাই ছুটি পাওয়ার বিশাল সমস্যা। সেজন্য এতবছর ইচ্ছে থাকলেও গ্রামে আসতে পারেনি মৌপিয়ারা। বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে ওদের আদি বাড়ি। বিশাল বনেদি বাড়ি। মৌপিয়ার দাদুরা পাঁচ ভাই ছিলেন। মৌপিয়ার…

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *