/ / শাল্যদানীর লেখা

শাল্যদানীর লেখা

শেয়ার করুন

সন্ধ্যেটা টুক করে নামছে। তোমার দেশেতো আবার সবসময় সন্ধ্যে। নন্দনকানন? তাও বুঝি আছে। তা যাই থাক আমার কাছে হেকেটি আছে, তোমার কাছে রবি নেই। কিরকম মজা!

ধূলো জমা ট্রাঙ্কে হাত দি না, পাছে দাগ থেকে যায়। ওই চিহ্নেরই যত দোষ। যেমন সিঁদুরের চিহ্ন, যে চিহ্নে নাকি তোমরা বন্ধু থেকে বউ হয়ে যাও আর অন্যের জন্য সাজাও অনিচ্ছার নৈবেদ্য থালা। কারুর অধিকার খাটে না, নাম হয় পরকীয়া। আর তার পর একটা সুইসাইড নোট। বাবামশাই ঠিকই বলতেন বাঙালী বদনামামৃত প্রিয়। সে যাইহোক তোমার নামের পেছনে এই পাগলটারও অবদান কম কিছু নেই, আফটার অল তুমি রবির বৌঠান। হা হা হা।

কেউ শুনতে চায় না তোমার কথা, তারা তোমায় নিয়ে বলতে ভালোবাসে। যেমন খুশী তেমন বল। তারা জানে না তুমি তখন কত পুতুল যখন প্রথম ছাদ দেখতে এলাম। হাত বাড়িয়ে বলেছিলাম এই আমার বন্ধু হবি? কে যেন ধমক দিয়ে বলেছিলো বৌদি হয়, তুই বলতে নেই। অবাক হয়েছিলাম বৌঠান নামক ভারী শব্দ ওই বাচ্চা মেয়েটাকে মানায় কিনা।
তারা জানতে চায়না সেই মেয়েটার কথা যে বলেছিলো, রবি তোমার ছেলে বন্ধু নেই কেন। পুরুষ হওয়ার কত আগে যে এই আমি কত নারী ছিলাম তা কেউ জানতে পারেনি, হয়তো চায়নি। নারী কাদম্বরী দেখেছে কিন্তু পুরুষ কাদম্বরী? এই বুকে যার ছোঁয়া সাহসে বলেছিলো, আমিতো এমনি এমনি বাজে বলি। হায় বৌঠান।

নিথর শরীরে তোমার চোখে অদ্ভুত আবদার দেখেছিলাম। রবি তুমি লিখবেতো? আমার জন্যে…
চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে। তুমি প্রেমিকা নও সহচরী। এইতো এখনো আছো। পড়ছ আর মিটিমিটি হাসছো। সেই সেদিন সন্ধেবেলা যখন পাগলের মত কাঁদছিলে, তুমি জানো না, আমি তোমায় লুকিয়ে দেখেছি। তুমি অমন করেও কাঁদতে পারো? মিথ্যেবাদী তুমি। আপেলের টুকরোটা মুখে গুঁজে দেবে বলেই বুঝি বানিয়ে বানিয়ে বলেছিলে, রবি আমি তোমার খোলা খাতা। কই কোনোদিনতো এমন ভাবে আমার কাছে কাঁদোনি।

লেখাগুলো আজে আছে যত্নে তোলা। তুমি ভাবলে কি করে তোমার রবি তা পুড়িয়ে দেবে। যা লিখেছো তা নিতান্তই আমার। সাধারণ মর্ত্যভূমি সে স্বাদের অধিকারী নয়। তাই তা আমি চুরি করেছি। তুমি জানতে আমিই তোমার ঘরে এসেছিলাম, আমার আতরওয়ালা রূপ তোমার চেনা। তাওতো চোর বললে না! আমি চোর। a thief for a victory.

একটু আগে লিখলুম তোমায় ভেবে। শোনো-

 

র হে যাহা

#চিঠিচাপাটি :

চিঠি লিখতে অনেক বারণ করেছি
লাভের ঘর খালিই রইলো এবারো

অস্তিত্ব কৌতুহল মাসিকপত্র
এ পানপাত্র নিদারুণ অমৃতবহ

একরাশ হাহাকার
ছলনা কোরোনা কবি
এ স্বতঃসিদ্ধ স্বতন্ত্র মায়া
তুমি তার কেউ নও

চিৎকার
কোলাহলময় তরঙ্গ
তুমি র হে কে কিছুই জানোনা
আন্দাজি বিকালের ফুল
সাঁঝেরবাতি প্যারাফিন

র ফর রবি
অনলি ফর রি-কল

হে ডাইনি শতাব্দী প্রাচীন
প্রেমের প্রতিজন হয়ে বাঁচো

পাঠক শুধু পড়ুক
আন্দাজে পোস্টমর্টেম নয়

চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার
এককাপ চিনিসহ চায়ে চাই

 

আজ এইটুকু থাক। ছুটি ডাকছে। তার পাখীর খাঁচার দিকে নাকি আমার লক্ষ্যই নেই। কি করে বলি একদিন আমরা কত পায়রা…

শেয়ার করুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.