Similar Posts
মধুচন্দ্রিমার বিছানা – সাইফুল ভূঁইয়া
মধুচন্দ্রিমার বিছানায় ঝরছে বৃষ্টি ঘুমন্ত মুখে উড়ছে তোমার চুল ঝরনার জল শরীর বেয়ে নামছে সুতাং নদী ঘা-ক্ষত গায়ে নিয়ে ভাবছি- আমি কোন্ মাছ মেঘালয় থেকে এসেছি শ্যাওলার ঘ্রাণে ভাটির দেশে আমি যাবো ফিরে। মধুচন্দ্রিমার বিছানায় একটা টিয়া পাখি ঠোঁটে এক মৃত চিঠি অশ্রুতে ধুয়ে গ্যাছে সব নীল অক্ষর জানালায় কাঁদছে লাল-ফ্রক একটা অন্যের-চাঁদ আমি…
স্বপ্নের কশেরুকা – অর্ণব সাহার গুচ্ছ কবিতা
১ব্যথার প্রদীপে জ্বলা আলোঅন্ধ ভূত-চতুর্দশী। রাতউড়ালপুলের নীচে থামে…নিঃসঙ্গ। একাকী সম্রাট ট্যাক্সির দরজা খুলে নামেঠোঁটে নীল চুম্বনের বিষ! যদি সে কখনও ফিরে আসেঅপমান ফেলে রেখে যায়তার দেখা মেলে না চৌকাঠেতালাবন্ধ প্রত্যেক দরজায়! সে আসে। রক্তের আলগা স্রোতেবারবার আগুন জ্বালাতে… ২ময়দানের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় প্রৌঢ় ও যুবতী।যে প্রেম আগেও ছিল, আজও একই গন্তব্যহীনঠিকানা খুঁজে পাবার আগে…
আমরা সক্রেটিস হব – স্বাগতা সিংহরায়
সক্রেটিস একদিন আলো হারিয়েছিলেন। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষটি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন বন্দী; আদতে তিনি উপভোগ করতে চাননি- দেশীয় বিদেশীয় প্রহসন। দ্বন্ধময় চলার পথে ছিলনা রাজনৈতিক সংশয়- ছিল শিক্ষালোভী আনন্দ, আগুন মেপে খাওয়া। সময়ের দিকপরিবর্তন জানিয়েছিল তাকে- ” গ্লোবাল ওয়ার্মিং” সুযোগ হারাননি তিনি; বেছে নিয়েছিলেন অন্ধকারময় আলোর পথ।
মহুয়া সেনগুপ্তর দশটি কবিতা
১শত জলকণায় নামগান বাজে।জন্ম-জন্মান্তর ঘুরে ঘুরে আসেসীমান্ত লঙ্ঘিত পায়ে। অতি দূরদেশে তাঁর পথিকসাজ,মালিনীর দীন কণ্ঠহার বুকে জাগে—লতা থেকে চ্যুত অশ্রুফুল,মেঘ থেকে চূর্ণ জলধারা। দুলে ওঠে অনন্ত পথ, ছুটন্ত অশ্বখুরধার, তোমার জন্যসখা, একটি তণ্ডুল আছেক্ষুধিতের শাকান্নে ধরা। ২একটি আলোকিত নদীর পাশে শুয়ে আছি, একবস্ত্রে।আমার প্রকৃতিজন্ম মাদুর করেবিছিয়ে দিয়েছি ধুলোয়। আকাশপথে সুরের পালকি বেয়েউৎসব ঘন হয়ে ওঠে।বুকের…
সীতা হেমব্রমের পাঁচটি কবিতা
আখা জ্বলছে, কয়লার বিরাম নেই লেখা আসার আগে, সন্তানজন্ম ফিরে আসে। স্বপ্ন তখন স্বরবর্ণে আসত, ফিরে যেত ভ্রূণ বিষাক্তকরে। মনে হত, মরা বাচ্চা বিয়োব আমি; নীল হয়ে যাওয়া, রক্তনাড়ী জড়ানো গলায় সে মাকেনা বলেই হয়ত ফিরে যাবে সম্পূর্ণ জীর্ণ । দলা পাকানো জরায়ু তছনছ করে গোটা বাড়িটাই ভেঙে পড়ল, সলতে পাকানোএক ফোঁটা জলও নিল না…
সমর রায়চৌধুরীর পাঁচটি কবিতা
ধ্বংস-ধ্বনি রাগ ‘হংস-ধ্বনি’ আমি আর শুনতে চাই নাআমি শুনি নিজের ধ্বংস-ধ্বনি কে কঁকিয়ে উঠলকে আর্তনাদ করলদুঃখে গুমরে উঠল কেকার হাহাকার শোনা গেলকার দীর্ঘশ্বাসকার অশ্রুকেবলই আমার গলার ভেতর দিয়ে নেমে যায়,নেমে যায়, নেমে যায়, শিশ্নের দিকে, পায়ের দিকেমিশে যেতে থাকে রক্তে আরভারী হয়ে ওঠে মাথা নিজের ধ্বংস-ধ্বনিই কেবল শুনি, শুনতে পাই—রাগ ‘হংস-ধ্বনি’র ভেতরেও তৃতীয় নয়ন আমার…

