ঘূর্ণি – মেঘালয়

শেয়ার করুন


কবিতাটা এইভাবে শুরু করা যাক।

ধরা যাক, বহুযুগ আগে এখানে একবার সন্ধ্যা হয়েছিল
ধরা যাক, বহুযুগ আগে এখানে একদল হাঁস ডানা মেলেছিল
ধরা যাক, বহুযুগ আগে এখানে মেঘের তলায় দাঁড়িয়ে
আমি এইসব দেখছিলাম–

কবিতাটা বোধহয় ঠিক পঞ্চায়েতের মতো হল না–
পঞ্চায়েত?
পঞ্চায়েত বলতে, ওই তো গো, কয়েকটা বৃক্ষরোপণ
মাটি চাপা দিয়ে বাড়ির ক্যাঁদালি পর্যন্ত ঢালাই রাস্তা
একশো দিনের কাজ
আর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাংক ব্যালেন্স।

এখনও অনেক মানুষ খাবারে পিঁপড়ে আটকানোর জন্য
লক্ষ্মণরেখা কিনতে পারেনি–
এখনও অনেক মানুষ শৃগাল দেখেছে
কিন্তু র-ফলা, ঋ-ফলা আলাদা করতে পারেনি।

এগুলো কবিতা?

এগুলো কবিতা নয় জানি
কিন্তু এসব ঘটনা মেঘের তলাতেই তো ঘটে।

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • |

    আমার এ লেখা – মন্দাক্রান্তা সেন

    সীমান্ত সেজে ওঠে অস্ত্রে ও শস্ত্রেযখন পড়েছে টান খাদ্যে ও বস্ত্রেসেসব সমস্যা কি? আমি-মানি-জানিনাশ্রমিক কৃষক মরে? অতসব মানি না আমি এক ভারতীয়, চাই শুধু যুদ্ধবাকি সব ভুলে গেছি আগামুড়োসুদ্ধদু’টো বোম ফেলে এলে ওপাশের দেশটায়দু’মুঠো জুটবে কিছু? খিদেতে ও তেষ্টায়? গোলি মারো প্রশ্নতে গোল্লায় যাও রেদুশমন মেরে ফুসমন্তর গাও রেএদেশের কোণে কোণে সীমাহীন দৈন্যসীমান্তে মরে যায়…

  • ইউনিক মেনিয়া – ফারজানা মণি

    সান্ত্বনা ছিলো রিবনের গোড়ায় ব্যাঙের ছাতা ছুঁয়ে এক ফোঁটা বরফগলা চোখ।ত্রিভুজ মেনিয়ায় কারো আত্মসমর্পণ সেতুর কাছে এক সারি নৌকা।আলোক পিদিমে পুড়ে যায় লাইফবোট গন্তব্য।কারো কম্বলের কোণায় বিবর্ণ ঘটনা – যেন কেউ ঘুমিয়ে আছে দোতলা সিঁড়িপথে জোড়াপুকুরের চাঁদ কেটে দেওয়া মধ্যরাত।রেখাবিন্দু আচ্ছন্নতার অবসর।গর্ভে বেড়ে উঠছে অণুজীব শূন্যতা।

  • মাদমোয়াজেল – অর্ণব সাহা

    আমরাই কবীর, আমরা সুমনের বৈধ সন্তানযেকোনো ধ্বংসের মুখে আমাদের সাবলীল গান টেলিগ্রাফ তারে বসে ডেকে ওঠে অলৌকিক পাখিআমরা তার ছেঁড়া ডানা যত্নে কুড়িয়ে তুলে রাখি ফুটপাথশিশুকে পিষে ছুটে যায় হিংস্র স্করপিওআমাদের গিটারের শরীরে বসেছে প্রজাপতি চে আঁকা টি-শার্ট পরে প্রজন্মের শান্ত শ্লোগানসদর দপ্তরের ঠুনকো কাচ ভেঙে দিতে পারে দেবর্ষি নবরূপার হাত ধরে ফুটপাথ পেরোয়নতজানু স্টেটবাস…

  • বদগন্ধ – রাজর্ষি বর্ধন

    গন্ধটা গত কয়েকদিন ধরেই গুঁতো দিচ্ছে রামহরিবাবুর নাকে। নস্যি নিলে, রুমালে সুগন্ধি মাখালেও যাচ্ছে না– ঠ্যাঁটা কুকুরের মতো এক জায়গায় পড়েই রয়েছে – হুড়ো দিলে যাওয়ার ইচ্ছে নেই! ভারি মুস্কিলে পড়েছেন রামহরিবাবু! বউমা নীতা ভারী শান্ত, সুশ্রী ও আধুনিকা মেয়ে, সেও রোজ এসে বলে, “ঘরে ধুপকাঠি জ্বালিয়ে রাখি বাবা, দেখবেন সব বদগন্ধ কেটে যাবে!” তাই…

  • |

    অচেনা – অনিন্দিতা সেন

    গভীর জংগল দেখেছ কখনো? গাছেরাও একা নয়, ওরা কথা বলে নিজেদের ভেতর উজাড় করে সবটুকু, শনশন বাতাসে ভাসে ওদের অনুভূতি, মাছেরাও তীব্র রোমান্সে কাছে আসে নদীর জলে পাড়ে ভেসে ভেসে আসে শীৎকার। মানুষ কিন্তু একা, এক্কেবারে একা। কখনো পুরোন না হওয়া ইতিহাস বসন্ত পলাশের গন্ধ মাখে, উতলা শ্রাবণকে বুকে নিয়ে পাগল হাওয়া চেনায় পথটুকু ফিরে…

  • |

    ইতি তোমার নদী – অনিন্দিতা মিত্র

    একটানা প্রবল বর্ষণে ঘুমহীন শঙ্কিত রাত কাটাও নদীতীরে, বুকে তোমার কাঁপন জাগায় নদী, খোঁজ নাও বারেবারে- ‘কতটা জল বাড়লো?’ পূর্বদক্ষতায় কষে নাও হিসেব- আর ঠিক কতটা জল বাড়লে ছাড়াবে বিপদসীমা, ঠিক কোন মূহুর্তে পালাবে বসতি ছেড়ে, খুঁজে নেবে আবার কোন সাময়িক আশ্রয় বারংবার বিলাপে। এতই যখন ডুবতে ভয় তোমার তবে প্লাবিত হবে জেনেও কেন নদীপাড়েই…

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *