|

অদ্ভুত আঁধার এক… – রেহান কৌশিক

শেয়ার করুন

পৃথিবীর জনতা তিন শ্রেণির। একদল ক্ষমতালোভী। যারা পৃথিবীর জল-মাটি-হাওয়ায় দখলদারি কায়েমের লক্ষ্যে বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়।
আরেক দল হল সাধারণ জনতা। গতানুগতিক সময় ও জীবনকে মেনে নিয়ে হেঁটে চলে। শোষিত হয়। কখনো অপেক্ষা করে পরিত্রাণের। কেউ যদি মুক্তির পথ দেখায়, তাকে সঙ্গ দেয়। নিজে থেকে পরিত্রাণের পথ আবিস্কার করতে পারে না।
তৃতীয় দল হল বিপ্লবী। সমাজের সংবেদনশীল অংশ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সশস্ত্র পথে বদলের স্বপ্ন দেখে। আবার কেউ কেউ শিল্পের ভিতর দিয়ে সময় ও জীবনের দখলদারির বিরুদ্ধে রংতুলি হাতে তুলে নেয়। হাতে নেয় কলমও।
জীবনানন্দের ক্ষোভ ঝরে পড়ে ছিল তাঁর সময়কালে। তিনি এক অদ্ভুত আঁধারের কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন যারা নাকি অন্ধ তারাই চোখে দেখছে বেশি। যাদের হৃদয়ে প্রেম-প্রীতি-করুণার আলোড়ন নেই তাদেরই সুপরামর্শ ছাড়া নাকি পৃথিবী আজ অচল! এই ক্ষোভ, এই অভিমান সঙ্গত। এ কোনো বিশেষ একটি সময়কালের কথা নয়। শাশ্বত, সত্য। আসলে জীবনই তো এক সংর্ঘষের চিরকালীন গল্প। একদল চায় দুনিয়া জুড়ে দখলদারি। আরেকদল চায় এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে পৃথিবীর মানচিত্রে সৌন্দর্য, শান্তি-শৃঙ্খলা, সহাবস্থান এবং সাম্যের সঙ্গীত রচনা করতে।
এই দখলদারি সত্য। সত্য এই দ্বন্দ্ব। সত্য এই প্রতিরোধও। দখলদারদের বিরুদ্ধে কবি-সাহিত্যিকদের প্রতিরোধ গড়ে সাম্যের সঙ্গীত রচনায় অংশগ্রহণ করা অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একে অগ্রাহ্য করে শিল্পের সাধক হওয়া যায় না। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন— প্রকৃত কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীমাত্রেই কি কেবল দ্রোহের কথা বলেন? ভালোবাসার উচ্চারণ কি করেন না? আমার পালটা প্রশ্ন থাকবে তাদের কাছে— ভালোবাসা কি দ্রোহ নয়? ভালোবাসার প্রকাশ, প্রেমের উচ্চারণ তো অসুন্দরের বিরুদ্ধে তীব্র এক দ্রোহেরই উচ্চারণ।
আসলে বিপ্লব বা দ্রোহের কথা ভাবলেই আমাদের চোখে জেগে ওঠে থ্রি নট থ্রি, কালাশনিকভ, গ্রেনেড অথবা বোমা-বারুদের শব্দ। চোখে জেগে ওঠে মিছিল ও স্লোগানের সগর্জন পথ। বস্তুত, সব সময় তা নয়। কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকদের কাজ সবসময়ই সৌন্দর্যের দিকে যাত্রা করে। আর এই যাত্রার উলটো দিকটাই হল— অসুন্দরের, অন্যায় দখলদারির। ফলে এঁরা কার্যত বিপ্লবের পক্ষেই সওয়াল করেন।
গদ্য-পদ্য অথবা ক্যানভাসে যে-প্রতিবাদ জেগে ওঠে, যে-প্রতিরোধের ধ্বনি সশব্দে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়— তা আসলে সৌন্দর্যের ভূমিতে, আলোর ভূখণ্ডে পৌঁছাতে চাওয়ার পথে যে সময়জাত অন্তরায়গুলো দেখা যায়— সেগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ। তাই বিপ্লবের উচ্চারণ আসলে ভালোবাসায় বাঁচতে চাওয়ারই সতৃষ্ণ ঘোষণা। এই সত্য অস্বীকার করে শিল্পের সাধনা সম্ভব নয়।
সংবেদনশীল মানুষের ‘নিরপেক্ষতা’ বলে কোনো অবস্থান হতে পারে না। বিশেষত কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা নিরপেক্ষ হতে পারেন না। তাদের সত্যের পক্ষে, মানবিকতার পক্ষে, শোষিত জনতার পক্ষে, ভালোবাসার পক্ষে, প্রেমের পক্ষে, সাম্যের পক্ষে, সঙ্গত অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতেই হয়। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে শোষণের বিপক্ষে, জাতিভেদের বিপক্ষে, অসাম্যের বিপক্ষে, অন্ধকারের বিপক্ষে, অমানবিকতার বিপক্ষে সওয়াল করতে হয়। এই ধর্ম চ্যুত হলে তিনি আর যাই হোন, কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক হিসাবে মান্যতা পেতে পারেন না।
‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ!’ অন্ধকারাচ্ছন্ন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে জীবনানন্দের এই অসহায় উচ্চারণ কি মিথ্যে হবে কোনোদিন? আলোর ভুবন গড়ে পৃথিবীর তাবৎ জনতা কি কোনোদিন পারবে কবির এই কথার পাশে উচ্চারণ করতে— অদ্ভুত আঁধার মুছে ভালোবাসা ছুঁয়ে আছে পৃথিবীতে আজ? যদি তা হয়, দার্শনিক কবিই খুশি হবেন সবচেয়ে বেশি। দেখা যাক, আগামী সময় কোন্ কক্ষপথে হাঁটতে আরম্ভ করে!

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • |

    পেটুক প্রেমিকা – বিদিশা মন্ডল

    কুনাল রেস্টুরেন্টে ঢুকেই দেখল শ্রেয়া মোটি মোমো ঠুসছে। ওকে দেখেই রে রে করে তেড়ে এলো কুনাল-” এই ঢেপসি, তুই আবার খাচ্ছিস ,আচ্ছা খাওয়া ছাড়া কি তোর আর কিছু মাথায় আসে না।” শ্রেয়া বিন্দুমাত্র ওরদিকে না তাকিয়েই বলল-” আমি খাচ্ছি তো তোর বাপের থুড়ি তোর কি? জানিস না আমি খাদ্যরসিক।” চাপা স্বরে কুনাল বলল-” ওটাকে খাদ্যরসিক…

  • সম্পাদকীয় : কাশফুল সংখ্যা

    শহর জুড়ে তখন প্রস্তুতি চলছিল উৎসবের। আয়োজন শুরু হয়েছিল অবশ্য অনেক আগে থেকেই। গেল বছর প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে মোক্ষকামী জনতার দিকে ফিচেল হাসির সাথে অঞ্জলি অঞ্জলি গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিয়ে ছেলেটা যেই বলে উঠেছিল ‘আসছে বছর আবার হবে’ অথবা ঢাকির পাওনা চুকিয়ে ক্লাব সেক্রেটারি যখন বললেন ‘সামনের বছর চলে এসো ভাই দলবল নিয়ে’ তখন থেকেই আয়োজন শুরু। তারপর সময় রথের চাকা ঘুরতে ঘুরতে সারা হয় খুঁটিপুজো; মাটি লেপা হয় কাঠামোয়; বায়না দেওয়া হয় কুমোরপাড়ায়; প্রতিমার সাজ নিয়ে সান্ধ্য জটলা বসে।

  • |

    রংমিলন্তি – সুতপা চ্যাটার্জি

    রাতের কলকাতা চিরমায়াবিনী। দিব্যি কেমন ন্যাকা সেজে গা এলিয়ে পড়েছিল একপাশে— যেন তাড়া নেই। জমাট অন্ধকার চিরে গাড়িগুলি উত্তর থেকে দক্ষিণে চলে গেল হেঁকে হেঁকে… একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল না অব্দি! হঠাৎ কী মনে হতে ধীর পায়ে হেঁটে হেঁটে  চলে এল এদিকে! কত অস্বাভাবিক সহজ সে চলা। কোত্থেকে কি গন্ধ- টন্ধ মেখে এসেছে,  ডুবিয়ে মারবে…

  • |

    ইরিনা – পৌষালী সেনগুপ্ত

    সময়টা নরম, মেদুর এক ঋতু। ঠিক শীতের শুরু আর হালকা – মাঝারি গ্রীষ্ম পেরোনো, মধ্য আমেরিকা। চারদিক কর্মব্যস্ত যথেষ্ট — তা সে কর্পোরেট অফিস জগৎ হোক কি অন্যান্য তিন, চার শিফটের কাজের দুনিয়া। বা, বাচ্চা কাচ্চাদের নিয়ে আরও ব্যস্ততম কোন মা এর পৃথিবী! এইসবের মধ্যে, একদমই রোমাঞ্চকর এক হলিউড মুভির মতোই —- হাহাহা!!, এইটুকু ভেবেই,…

  • চুপ কথা – অনিন্দিতা সেন

    চুপ কথা যত গল্প হয়ে ছড়াক কথার মেঘ, মেঘালয়া কথারা চলে দিনের পিছে পিছে, মোহ জড়ানো আবেশ দ্যাখে নির্ভার সে আবেগ আমার আমিকে হারাই যখন ধূপছায়ারই বাঁকে! মনে রাখা সেই রূপকথারই সম্মোহনের ডাক, সব ফেলে দিয়ে ছূট্টে আসা…… বাঁশিওয়ালার হাঁক, উপেক্ষিত আদর তখন জানালার ফাঁকে ফাঁকে হৃদয় যেভাবে বুক পেতে দেয়….. নিরলস ছবি আঁকে।

  • |

    পথিক বলছি – ব্রতশুদ্ধ

    স্বস্তিকারূপী ছাইরঙা রাস্তার কেন্দ্রে দাঁড়ালে জামরুল নীল হয়ে যায়। লাল হয় অনাকাঙ্ক্ষিত তাতানো বর্ষার একটা গাছের দেড়শো কদম ফুল। ডানে যাবো?  চলো যাওয়া যাক। এবার বামে?  ঠিক আছে।  চলো! বিদায় আহ্বান এমন হবে বুঝিনি। এর আগে কোনদিন বৃশ্চিক হেটে যায় নি আমার মরুভূমির মধ্যপথ ধরে। বল্গাহীন স্বপ্ন চুপটি করে বসেনি কোন সীমানাহীন মানচিত্রের চাতালে। আমি…

4 Comments

  1. Odia translation of Prominent Bengali Poet & Literary Person Rehan Koushik’s ‘অদ্ভুত আঁধার এক’। Translated by Lalatendu Samantaray

    অদ্ভুত আঁধার এক… – রেহান কৌশিক

    ଅଦ୍ଭୁତ ଏକ ଅନ୍ଧାର…. ରେହାନ୍ କୌଶିକ

    {ଅଦ୍ଭୁତ ଏକ ଅନ୍ଧାର ! ଏ ଅନ୍ଧାର , ଏଇ ଅନ୍ଧକାର ଚିରକାଳ ସତ୍ୟ । ଏଇ ଅନ୍ଧକାରର କାରଣ ଅସଲରେ ଦାରିଦ୍ର୍ୟ ନୁହେଁ, ଅର୍ଥାଭାବରୁ ମନୁଷ୍ୟର ଦାରିଦ୍ର୍ୟ ଆସେ ଠିକ୍ କଥା , ତେବେ ଏହି ଦାରିଦ୍ର୍ୟ ଅତ୍ୟନ୍ତ ଭୟଙ୍କର | ଏହା ହେଲା ମେଧାର ଦାରିଦ୍ର୍ୟ । ମେଧାର ଦାରିଦ୍ର୍ୟ ସମସ୍ତ ଅନ୍ଧକାରର ଉତ୍ସ ।} ……..

    ପୃଥିବୀର ଜନତା ତିନି ଶ୍ରେଣୀର , ଦଳେ କ୍ଷମତାଲୋଭୀ , ଯେଉଁମାନେ କି ପୃଥିବୀର ଜଳ ,ମାଟି , ପବନ କୁ ନିଜ ଦଖଲରେ ରଖିବା ଲକ୍ଷ୍ୟରେ ବିଶୃଙ୍ଖଳାର ଜନ୍ମ ଦିଅନ୍ତି ।

    ଆଉ ଦଳେ ହେଲେ, ଗତାନୁଗତିକ ସମୟ ଓ ଜୀବନକୁ ମାନି ନେଇ ଚାଲୁଥିବା ସାଧାରଣ ଜନତା । ସେମାନେ ଶୋଷିତ ହୁଅନ୍ତି , କେତେବେଳେ ଅପେକ୍ଷା କରନ୍ତି – ପରିତ୍ରାଣ ପାଇଁ । କିଏ ଯଦି ମୁକ୍ତିର ପଥ ଦେଖାଏ , ତା’ ସାଥୀରେ ରହନ୍ତି ,କିନ୍ତୁ ନିଜେ ପରିତ୍ରାଣର ପଥ ଆବିଷ୍କାର କରି ପାରନ୍ତି ନାହିଁ ।

    ତୃତୀୟ ଦଳଟି ହେଲେ ବିପ୍ଲବୀ , ସମାଜର ସମ୍ବେଦନଶୀଳ ଅଂଶ । ସେମାନଙ୍କ ମଧ୍ୟରୁ କିଏ କିଏ ସଶସ୍ତ୍ର ପଥରେ ପରିବର୍ତ୍ତନର ସ୍ୱପ୍ନ ଦେଖନ୍ତି , ତ ପୁଣି କିଏ କିଏ ଶିଳ୍ପ ମାଧ୍ୟମରେ ସମୟ ଓ ଜୀବନ ଉପରେ ଦଖାଲଦାରୀ ବିରୁଦ୍ଧରେ ଅସ୍ତ୍ର ବଦଳରେ ହାତରେ ଉଠାଇ ନିଅନ୍ତି ରଂଗ ତୁଳି , ହାତରେ କଲମ ମଧ୍ୟ ନିଅନ୍ତି ।

    ଜୀବନାନନ୍ଦଙ୍କ* କ୍ଷୋଭ ଝରି ପଡିଥିଲା ତାଙ୍କ ସମୟରେ, ସେ ଏକ ଅଦ୍ଭୁତ ଅନ୍ଧାରର କଥା କହିଥିଲେ । କହିଥିଲେ – ଯେଉଁମନେ ଅନ୍ଧ ସେମାନେ ନିଜ ଆଖିରେ ବେଶୀ ଦେଖୁଥିଲେ , ଯାହାର ହୃଦୟରେ ପ୍ରେମ-ପ୍ରୀତି-କରୁଣାର ଆଲୋଡନ ନାହିଁ ସେମାନଙ୍କ ସୁପରାମର୍ଶ ଛଡା ପୃଥିବୀ ଆଜି କୁଆଡେ ଅଚଳ ! ଏହି କ୍ଷୋଭ, ଏହି ଅଭିମାନ ସଙ୍ଗତ । ଏହା କୌଣସି ବିଶେଷ ଏକ ସମସାମୟିକ କଥା ନୁହେଁ, ଏହା ଶାଶ୍ୱତ, ଏହା ସତ୍ୟ । ଅସଲରେ ଜୀବନଟା ତ’ ଏକ ସଙ୍ଘର୍ଷର ଚିରକାଳୀନ ଗଳ୍ପ । ଦଳେ ଚାହାନ୍ତି ତମାମ୍ ଦୁନିଆର ଦଖଲଦାରୀ , ଆଉ ଏକ ଦଳ ଚାହେଁ – ଏହାର ବିରୁଦ୍ଧରେ ପ୍ରତିରୋଧ ଗଢ଼ିତୋଳି ପୃଥିବୀର ମାନଚିତ୍ରରେ ସୌନ୍ଦର୍ଯ୍ୟ, ଶାନ୍ତି-ଶୃଙ୍ଖଳା, ସହାବସ୍ଥାନ ଏବଂ ସାମ୍ୟର ସଙ୍ଗୀତ ରଚନା କରିବା ପାଇଁ ।

    ଏହି ଦଖଲଦାରୀ ସତ୍ୟ , ଏହି ଦ୍ୱନ୍ଦ ସତ୍ୟ, ସତ୍ୟ ଏହି ପ୍ରତିରୋଧ ମଧ୍ୟ । ଦଖାଲଦାରମାନଙ୍କ ବିରୁଦ୍ଧରେ କବି-ସାହିତ୍ୟିକମାନଙ୍କ ପ୍ରତିରୋଧ ଗଢ଼ିତୋଳି ସାମ୍ୟର ସଙ୍ଗୀତ ରଚନା କରିବାରେ ଅଂଶ ଗ୍ରହଣ କରିବା ଟା ସେମାନଙ୍କର ଅନ୍ୟତମ ବୈଶିଷ୍ଟ୍ୟ । ଏହାକୁ ଅଗ୍ରାହ୍ୟ କରି ଶିଳ୍ପର ସାଧକ ହେବା ସମ୍ଭବ ନୁହେଁ । କେହି କେହି ପ୍ରଶ୍ନ କରିପାରନ୍ତି – ପ୍ରକୃତ କବି- ସାହିତ୍ୟିକ-ଶିଳ୍ପୀ ମାତ୍ରେ କ’ଣ କେବଳ ବିଦ୍ରୋହର କଥା କହନ୍ତି ? “ସ୍ନେହ-ପ୍ରେମ-ଭଲପାଇବା” ଉଚ୍ଚାରଣ କରନ୍ତିନି ? ମୋର ସେମାନଙ୍କ ପ୍ରତି ପାଲଟା ପ୍ରଶ୍ନ -“ଭଲପାଇବା” ଟା କ’ଣ ବିଦ୍ରୋହ ନୁହେଁ? “ଭଲପାଇବା” ର ପ୍ରକାଶ, “ପ୍ରେମ” ର ଉଚ୍ଚାରଣ ତ’ ଅସୁନ୍ଦର ବିରୁଦ୍ଧରେ ଏକ ତୀବ୍ର ବିଦ୍ରୋହର ଉଚ୍ଚାରଣ ।

    ସାଧାରଣତଃ ବିପ୍ଲବ ବା ବିଦ୍ରୋହ କଥା ଭାବିଲାବେଳେ ଆମ ଆଖି ଆଗରେ ନାଚି ଉଠେ ଥ୍ରୀ ନଟ୍ ଥ୍ରୀ, ଏ କେ ୪୭, ଗ୍ରେନେଡ ଅଥବା ବୋମା -ବାରୁଦର ଶବ୍ଦ । ଆଖିରେ ଜାଗି ଉଠେ ଶୋଭାଯାତ୍ରା ଓ ସ୍ଲୋଗାନ୍ ର ସଗର୍ଜନ ପଥ । ବସ୍ତୁତଃ, ସବୁ ସମୟରେ ତାହା ଘଟେନି । କବି – ଶିଳ୍ପୀ – ସାହିତ୍ୟିକମାନଙ୍କ କାର୍ଯ୍ୟ ସବୁବେଳେ ସୌନ୍ଦର୍ଯ୍ୟ ଆଡକୁ ଯାତ୍ରା କରେ । ଏବଂ ଏହି ଯାତ୍ରାର ଓଲଟା ଦିଗଟା ହେଲା -ଅସୁନ୍ଦର ଆଡକୁ , ଅନ୍ୟାୟ-ଦଖାଲଦାରୀ ଆଡକୁ ଯାତ୍ରା । ଫଳସ୍ୱରୂପ, ଏମାନେ କାର୍ଯ୍ୟତଃ ବିପ୍ଲବର ସପକ୍ଷରେ ଯୁକ୍ତି କରନ୍ତି ।

    ଗଦ୍ୟ- ପଦ୍ୟ ଅଥବା କ୍ୟାନଭାସ୍ ରେ ଯେଉଁ ପ୍ରତିବାଦ ଜାଗି ଉଠେ , ଯେଉଁ ପ୍ରତିରୋଧର ଧ୍ୱନୀ ସଶବ୍ଦରେ ମଥା ଉନ୍ନତ କରି ଠିଆ ହୁଏ – ତାହା ପ୍ରକୃତରେ ସୌନ୍ଦର୍ଯ୍ୟର ଭୂମିରେ, ଆଲୋକର ଭୁଖଣ୍ତରେ ପହଞ୍ଚିବା ନିମନ୍ତେ ନିର୍ଦ୍ଧାର୍ଯ୍ୟ ପଥରେ ଯେଉଁ ଅନ୍ତରାୟଗୁଡିକ ଦେଖାଦିଏ- ସେଗୁଡିକ ବିରୁଦ୍ଧରେ କ୍ଷୋଭର ପରିପ୍ରକାଶ । ତେଣୁ ବିପ୍ଲବର ଉଚ୍ଚାରଣ ପ୍ରକୃତରେ ସ୍ନେହ- ଶ୍ରଦ୍ଧାପୁର୍ଣ୍ଣ ଭଲପାଇବା ମଧ୍ୟରେ ବଞ୍ଚିବାକୁ ଯେଉଁ ଇଚ୍ଛା, ତା’ର ସତୃଷ୍ଣ ଘୋଷଣା । ଏହି ସତ୍ୟକୁ ଅସ୍ୱୀକାର କରି ଶିଳ୍ପର ସାଧନା କରିବା ସମ୍ଭବ ନୁହେଁ ।

    ସମ୍ବେଦନଶୀଳ ମନୁଷ୍ୟର ‘ନିରପେକ୍ଷତା’ ବୋଲି କୌଣସି ଅବସ୍ଥାନ ନଥାଏ । ବିଶେଷତଃ କବି – ଶିଳ୍ପୀ – ସାହିତ୍ୟିକମାନେ ନିରପେକ୍ଷ ହୋଇ ପାରିବେ ନାହିଁ । ସେମାନଙ୍କୁ ସତ୍ୟର ପକ୍ଷରେ, ମାନବିକତାର ପକ୍ଷରେ, ଶୋଷିତ ଜନତାର ପକ୍ଷରେ, ‘ପ୍ରେମ-ଶ୍ରଦ୍ଧା-ଭଲପାଇବାର’ର ପକ୍ଷରେ,ସାମ୍ୟର ପକ୍ଷରେ, ସଙ୍ଗତ ଅଧିକାରର ପକ୍ଷରେ ଠିଆ ହେବାକୁ ପଡେ । କେବଳ ସେତିକି ନୁହେଁ, ଏହା ସହିତ ଶୋଷଣର ବିପକ୍ଷରେ, ଜତିଭେଦର ବିପକ୍ଷରେ, ଅସାମ୍ୟର ବିପକ୍ଷରେ, ଅନ୍ଧକାରର ବିପକ୍ଷରେ , ଅମାନବିକତାର ବିପକ୍ଷରେ ଯୁକ୍ତି କରିବାକୁ ପଡି ଥାଏ । ଏଥିରୁ ଧର୍ମ-ଚ୍ୟୁତ ହେଲେ, ସେ ଆଉ କିଛି ହୋଇ ପାରନ୍ତି ,କିନ୍ତୁ “କବି – ଶିଳ୍ପୀ – ସାହିତ୍ୟିକ”ର ମାନ୍ୟତା ପାଇ ପାରିବେ ନାହିଁ ।

    ‘ଅଦ୍ଭୁତ ଏକ ଅନ୍ଧାର ଆସିଛି ଏହି ପୃଥିବୀରେ ଆଜି’ ! ଅନ୍ଧକାରାଛନ ବସ୍ତବତାର ପରିପ୍ରେକ୍ଷିରେ ଜୀବନାନନ୍ଦଙ୍କ ଏହି ଅସହାୟ ଉଚ୍ଚାରଣ କ’ଣ ମିଥ୍ୟା ହେବ କୌଣସି ଦିନ । କୌଣସି ଦିନ ‘ଆଲୁଅର-ଭୁବନ’ ଗଢି ପୃଥିବୀର ସମସ୍ତ ଜନଗଣ କ’ଣ କବିର ଏହି କଥା ପାଖରେ ଉଚ୍ଚାରଣ କରି ପାରିବେ – ଅଦ୍ଭୁତ ଅନ୍ଧାର ଲିଭାଇଦେଇ “ପ୍ରେମ-ପ୍ରୀତି -ଶ୍ରଦ୍ଧା” ଆଜି ପୃଥିବୀକୁ ଛୁଇଁ ପାରିଛି? ଯଦି ତାହା ହୁଏ, ଦାର୍ଶନିକ କବି ହିଁ ସବୁଠାରୁ ବେଶୀ ଖୁସି ହେବେ । ଦେଖାଯାଉ , ଆଗାମୀ ଭବିଷ୍ୟତ କେଉଁ କକ୍ଷପଥରେ ଚାଲିବାକୁ ଆରମ୍ଭ କରୁଛି ।
    ——————————————————————-
    * ଜୀବନାନନ୍ଦ : ଜୀବନାନନ୍ଦ ଦାଶ୍ ବିଂଶ ଶତାବ୍ଦୀର ଅନ୍ୟତମ ପ୍ରାଧାନ ଆଧୁନିକ ବଂଗଲା କବି । ସେ ଥିଲେ ଜଣେ କାଳସଚେତନ ଓ ଇତିହାସ ସଚେତନ କବି ।
    …End…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *