কালবেলা – আশিস ভৌমিক

শেয়ার করুন

প্রণয়হীন সভ্যতার বুকে হাতড়ে বেড়াই
মিষ্টি প্রেমের কবিতা !
রাতের আঁধারে হাইড্রেনের নোংরা জলে
খুঁজি শাপলা ফুল !
রাত-পরীরা ড্রেন ছাপিয়ে উঠে আসে রাজপথে
নিয়নের আলোয় যোজনগন্ধা হয়ে ওঠে ।
পরাশরেরা সস্তায় ভালবাসা কেনে !
গভীর রাতের আলোরা ম্লান
বাসি ফুলের গন্ধে ।
ফ্ল্যাট বাড়ির জানলা চুঁইয়ে
তখন ভেসে আসে
সিরিয়ালের বিষাক্ত নিশ্বাস ।
রাতে কান ভার হয়
অচেনা প্রতিবেশীর প্রাচুর্যে ।
তবুও দেহের মিলন নিয়ম মেনে।
অপ্রাপ্তির ভাঁড়ার উগরে দি গোপন গহ্বরে ।
কখনও বা নেটের দরজা হাতড়ে
খুঁটে নিই নীল প্রেম ।
অভিজাত পল্লীতে প্রচ্ছন্ন ভ্রমরের গুঞ্জন
কেউ বা আটকা পড়ে
সম্মোহনী নিষিদ্ধ প্রেমে ।
তবুও এখানে কৃষ্ণচূড়া সেজে ওঠে রাধাচূড়ার সাথে
পলাশের বুকে জ্বলে আগুন
সংক্ষিপ্ত কৈশোর ছাড়িয়ে দ্রুত পা মেলাই
অকাল যৌবনে ।
এখানে প্রেম খেলে বারমাস।

[চিত্রঋণ: মৌমিতা ভট্টাচার্য্য ]

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • আঁধার-প্রবাসী – সাগর সূত্রধর

    হেথা হতে যাও, পুরাতন। হেথায় নূতন খেলা আরম্ভ হয়েছে। আবার বাজিছে বাঁশি, আবার উঠিছে হাসি, বসন্তের বাতাস বয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলে গেছি আমি, দূরে, বহুদূরে, শত-অভিমান ভরে ফিরবো না জেনো কোনোদিন, বিদায় চিরোতরে। শুভ্র মেঘ য্যামন অস্পৃর্ষনীয় সুন্দর সুদূর আকাশে তারা-ফুল শুধুই দেখা যায় নক্ষত্র প্রকাশে। শ্রান্ত দিঘিতে ফোটে যেমন ক্ষণিকের আলো-ছায়ার খেলা তোমার জীবনে…

  • নিদাঘবেলা – শিবানী

    (১) শোকের ওপর রোদ এসে পড়ে, ঝিকমিকিয়ে ওঠে অশ্রু-ঘাম… ধাঁধা লাগা চোখ তখন অলঙ্কারভ্রমে ঈর্ষিত হতে দেখি… দেখি, তপ্ত গ্রীষ্মদুপুর কীভাবে খরতাপে নীরবে পুড়িয়ে চলেছে অ-সুখ, সম্পর্ক… (২) ক্লান্ত দুপুর বেয়ে ভাঙাচোরা সংসারের টুকরো ভরা গাড়ি টেনে নিয়ে চলেছে কপাল থেকে ঘামের ফোঁটা ঝরে পড়ছে খই-এর মতো আর ওর সাথে পিচগলা পথের পিছুটান কাটিয়ে ধ্বংস…

  • |

    সুবর্ণ ঘুমাও – বাসুদেব মণ্ডল

    ঘুমাও প্রিয় মেঘ অ, আ আমি তোমার ব্যথার পাশে বসে আছি দেখো। মণিপুরী নৃত্যের মতো আমার মন-ময়ূরটা মেঘের কিনারে নেচে যাচ্ছে, সুবর্ণ ভাবনাগুলো তোমাকে ঘিরে নেচে ওঠে ঘুঙুরের মতো সুবর্ণ; তুমি আমার হৃৎপিণ্ডের বারান্দা জুড়ে বসে আছ। কেয়ারি ফুলের ডালা হাতে ঘুমাও সুবর্ণ ক, খ আমি পাশে ব’সে বেহালায় বো বোলাচ্ছি!

  • পার্থজিৎ চন্দর পাঁচটি কবিতা

    হাসি আমি তো তেমন পথিক নই, শুধু বনের ভিতর বিস্ময়বাঁচিয়ে রেখেছি এ বনের মধ্যে কেউ সারাদিনস্তন খুলে গান গেয়ে নেচে নেচে ঘুরে বেড়িয়েছে গাছটি জড়িয়ে শুনি তার পায়ের শব্দকালো পাথরের গায়ে কান পেতে শুনিপায়ের পাতায় ফুটে যাওয়া কাঁটাজলের ভেতর টুপ করে ডুবে গেল তার নূপুরের ধ্বনি একটি হলুদ প্রজাপতি উড়তে উড়তে কাঁটাবনেপ্রবেশ করেছে। সে আসলে…

  • |

    সুভাষিনী – পিনাকী

    সুভাষিনী, তোমাদের দেশে একেবারে মাটির গভীরে প্রবেশ করার মতন কোনো মাতৃভাষা নেই? চারপাশে এত এত শব্দের সমাহার- লক্ষ লক্ষ মানুষ কোটি কোটি শব্দ খরচ করছে, অথচ ভাষাকে যাপন করছে না। সুভাষিনী, তোমাদের দেশে এক্কেবারে নিরক্ষর মায়ের মতন করে বলার কোনো মাতৃভাষা নেই? ভাষা থেকে ভাষান্তরে চলেছে সকলে অক্লেশে, অবলীলায়,অসম্ভব তৎপরতায়, অথচ ভাষার শিকড় জানে না।…

  • যুদ্ধাগ্নি – মৌ দাশগুপ্ত

    আমি কখনও যুদ্ধের বা যুদ্ধবাজ মানুষদের চোখে চোখ রাখিনি, তবু দু হাতে মুখ ঢাকার ছলে দশ আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে দেখে নিয়েছি ধ্বংসের সাথে সর্বনাশের সহবাস, চোখের জলের সাথে আপাত বৈরিতার অভিনব গমণদৃশ্য, লোভ আর আর হিংসার সর্বগ্রাসী ব্যভিচার, আর আগ্রাসী ক্ষমতার সাথে রাজনৈতিক আগুনের অবাধ কামলীলা। যুদ্ধের আগুন নিভে গেলে স্তিমিত ভস্মের কাছে আঁজলা পেতেছি,…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *