/ / কাটমানি – একলব্য হেমব্রম

কাটমানি – একলব্য হেমব্রম

শেয়ার করুন

আষাঢ় মাস শেষ হলেও বর্ষা শুরু হল না, জ্যৈষ্ঠের তীব্র তপ্ততারও অবসান হওয়ার বিন্দুমাত্র লক্ষণ নেই। এখন

বৃষ্টিই ভরসা, চাষিরা প্রায় সকলেই আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন। কালু মুরমু প্রান্তিক চাষি। তিন বিঘে জমি ভাগে চাষ করে। এই জমি বর্গা রেকর্ড করার ইচ্ছা না থাকলেও নেতাদের চাপে বর্গা করতে বাধ্য হয়েছে, কারণ তখন “লাঙ্গল যার জমি তার” আন্দোলন চলছিল। জমির মালিক বোসবাবুরা আনন্দপুরেরই স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। চাকরিসূত্রে এখন কলকাতার থাকেন। তাঁরা বছরে একবারই পৌষ মাসে আসেন ভাগের ধান বিক্রির টাকা নিতে। কালু খুবই সৎ মানুষ, যা ধান হয় নিয়মমতো বিক্রি করে ঠিকঠাক হিসেব করে টাকাটা দিয়ে দেয়।

কালুর তিন মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে, মা মারা গেছেন, বাড়িতে অসুস্থ বাবা, বউ রিলামালা আর নাবালক ছেলে রিমিল। বাড়ির কাজ না থাকলে ওরা দিনমজুরি করে। যদিও সবসময় কাজ পাওয়া যায় না। এখন একশো দিনের কাজ চলছে, সেটা পাওয়া নির্ভর করে একশো দিনের কাজের সুপারভাইজারের ওপর।

কালু গরুগুলোকে নিয়ে মাঠ থেকে ফিরছে, পেট ভরা আছে বলে এখন সব ঘরমুখি। কালু হাঁটতে হাঁটতেই আপন মনে বলে, “ই বছর খরা হুলে আমরা খাবক কী! বাবুদের আর বাপি মিত্তিরকে–”। বাপি মিত্র রাজনৈতিক নেতা, আদিবাসী পাড়ার মানুষের কাছে বাপি মিত্তির।নামটা মুখে আসতেই কালুর ভাবনাটা এলোমেলো হয়ে গেল। ঠিক সেই সময় মোটরসাইকেলের ব্রেক কষার শব্দে চিন্তার অদৃশ্য সুতোটা ছিন্ন হয়ে গেল। গাড়ির মালিকের দিকে সাহস করে তাকাতে পারছে না। কালু ভালোভাবেই জানে গাড়ির মালিক কে। তার শ্বাসপ্রশ্বাসের গতিও বেড়ে গেছে, বেড়ে গেছে ঘামও। গাড়ির মালিক মোটরসাইকেলের দুপাশে দামি জুতো পরা পা দুটোয় ভর করে রোদ চশমাটাকে খানিকটা টেনে চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কীরে কালু চিনতে পারছিস?”

কালু গামছা দিয়ে মুখ মুছে বলে, “ই বাবু চিনবক নাই কেনে?”

বাপি—“বাড়ির ছাদ হয়ে গেছে এখন নাও চিনতে পারিস। মনে আছে? এ মাসেই বাকিটা–”

কালু—“ই বাবু মনে আছে বঠে, দিব যখন বুলেছি একদম দিব। মিত্তিরি গুলান দমে জোর করছিল, ছাদ ঢালাই করছিলক নাই, ই জন্যে ওদেরটা দিলম। একটুকুন দয়া কুরে সবুর করেন বাবু।”

বাপি গর্বের সাথে বলেন, “হৃদয় আমার খুব নরম, একটু না হয় সবুর করি। আছিস ছিটে বেড়া কাদা লেপা খড়ের ছাউনি ঘরে, এবার থাকবি পাকা দালানে, কার জন্যে মনে থাকবে তো?”

কালু—“ই বাবু মনে থাকবেক, ভুলবক CCT”

বাপি—“আমরা গরিব মানুষের কথা ভাবি। শোন্, উপকারীর উপকার করতে হয়, না হলে মহাপাপ হয়।”

বাপি সামনের দিকে হাত তুলে দেখায়, “ঞ দেখ কালু, কে যায় দামি স্লুটারে, চিনতে পারছিস?”

কালু ভাল করে তাকিয়ে বলে, “ই বাবু চিনতে পারছি, ওটা বিন্দোদাদা বঠে।”

বাপি—“হে ঠিক বলেছিস, ও হচ্ছে রায়পাড়ার বৃন্দাবন রায় মানে তোদের প্রিয় বিন্দোদাদা। আদিবাসী ছেলেদের ফুটবল খেলা শেখাবার জন্য পলাসডাঙ্গায় খেলার মাঠ তৈরি করিয়ে খেলা শুরু করলো। তোরাও বিন্দোদাদা বলতে পাগল ছিলি। কিছুদিন পর সরকার থেকে পশুপালনের জন্য অনুদান দেওয়া হবে বলে আদিবাসী পাড়ার মানুষকে বুঝিয়ে কোপারেটিভ সোসাইটিতে অ্যাকাউন্ট খোলানো হল। অনুদানের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকল। তখন তোদের পাড়ার প্রায় কেউই লিখতে পড়তে পারত না, ভরসা ছিল টিপছাপ। শেষ খেলা খেললেন তোদের এঁ বিন্দোদাদা। পধ্চাশ-একশো তোলার জন্য টিপছাপ করিয়ে মাত্র একটা শূন্য যুক্ত করে অনেকের  অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিলেন। আমি এ দলের লোকের মতো নই, পিছন থেকে ছুরি মারি না, যা নিই হাত পেতে নিই। বলতে পারিস এটা ভালোবাসার দান।

অনেকে তিরিশ-চল্লিশ নেয়, আমি সেটা পারিনি, আমার মনটা খুব নরম তাই কম নিচ্ছি। দু কিন্তিই পেয়ে গেছিস,

বাকিটা তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা কর।”


কালু গামছা দিয়ে ঘাম মুছে হাঁটা দেয়, হঠাৎ দেখতে পায় গনশা মান্ডি পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। বাপির গন্তীর কণ্ঠস্বর

শোনা গেল—“আরে এই সুপারভাইজার মানোতান (মাননীয়) গনেশ মান্ডি আমাকে না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিস নাকি!”

গনেশ হাসার চেষ্টা করে বলে, “না দাদা,পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি না। আপনি কাকার সাথে কথা বলছেন তাই–”

বাপি—“ঠিক আছে, এদিকে আয়, কথা আছে, একশো দিনের কাজ কেমন চলছে?”

গনেশ—“হে দাদা আপনার আশীর্বাদে ভালোই চলছে, এখন বড়ো হেদোটা পরিষ্কারের কাজ চলছে।”

বাপি—“কোথায় কী পরিষ্কার করছিস সেটা আমার দেখার দরকার নেই, একশো দিনের কাজ যারা করছে আর কাজ না করেও যাদের টাকা ঢুকছে তাদের এ সপ্তাহের ‘ওটা’ এখনো পেলাম না যে?”

গনেশ—“রমেশদাকে আজই দয়ে ছি, আপনাকে সন্ধেবেলায় বাজারে দয়ে দেবেন।”

বাপি—“ঠিক আছে। তবে আমার হাতেই দিবি অন্য কারও হাতে নয় আর যারা ঠিকঠাক দেবে না মানে কারুর উস্কানিতে যদি কেউ তেন্ডাই-মেন্ডাই করে, তাদেরকে কাজ দেবার ব্যাপারে শক্ত হবি। নিজের লোক হলেও ছাড়বি না। আমার কাছে সবাই সমান।”

গনেশ—“হে দাদা আপনার কথা মতই সব কিছু চলছে, একদম ভাববেন না।”

বাপি—“রবিবারে বর্ধমানে যে মিটিং হচ্ছে সেখানে কারা কারা নাচবে আর ধামসা মাদল বাজাবে তাদের নামগুলো

আমাকে কালকেই দিয়ে দিবি। তোদেরকে নিয়ে নাচতে নাচতে মিছিল করতে করতে সভায় যেতে হবে, এখন নজর জঙ্গলমহলের দিকে, তোদের লোক যত বেশি যাবে আর নাচবে ততই আমাদের লাভমনে থাকে CAT”


কথাটা শেষ হবার সাথে সাথেই বাপি বাজারের দিকে গাড়ি হাঁকিয়ে চলে গেলেন। ওদের সব কথাই কালুর কানে এসেছে। যা ভেবেছিল তাই, একশো দিনের কাজের বখরা। নিজের মনে বলে, “বাবুরা সুবাই সুমান বঠে।”

গনেশকে পাড়ায় গনশা বলে ডাকে। গনশা কালুরই পাড়াতুতো ভাইপো, দুজনই বোসপুকুর আদিবাসী পাড়ার

বাসিন্দা। গনশা উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর কোনো চাকরি না পাওয়ায় চাষের কাজ করত আর দিনমজুরি করত। এখন দলের একনিষ্ঠ কর্মী, এই কারণেই একশো দিনের কাজের সুপারভাইজার হয়েছে। আমদানি ভালোই।

কোথাও মিটিং মিছিল হলে আদিবাসী পাড়ার মানুষকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গনশার। কীভাবে এদেরকে মিটিং এ নিয়ে যেতে হয় সেটা গনশা ভালোই জানে। এটাও জানে, পশ্চিমবঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের বড়ো সভা হলে আদিবাসীদের বিশেষ করে সাঁওতালদের কোনো না কোনো ভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। আদিবাসী নারী-পুরুষ সভায় ধামসা-মাদল নিয়ে না নাচলে না বাজালে রাজনৈতিক নেতাদের বড়ো সভা নাকি সম্পূর্ণ হয় না। এটা আদিবাসীদের দলে টানার কৌশল মাত্র, সাথে থাকার চেয়ে ভোটে জেতার উদ্দেশ্যই বেশি। গনশা এও দেখছে, নেতাদের কথা না শুনে মিটিং মিছিলে না গেলে কোনো না কোনো ভাবে প্রতিহিংসা-পরায়ণ হয়ে ক্ষতিও করা হয়, তাই ওরা নিরুপায়।


কালু বাড়িতে এসে চান করে পান্তা খেয়ে খাটিয়ায় বসে।বারবার বাপির প্রচ্ছন্ন হুমকির কথাই মনে আসছে আর

ভাবছে। বউ রিলামালা চ্যাটা বুনছে আর পাশে রাখা রেডিওতে সান্ধ্যকালীন সাঁওতালি আখড়া শুনছে। গানের তালে সুর মিলিয়ে গলা মেলাচ্ছে। সাঁওতালি আখড়া শেষ হতেই রিলামালা বলে, “জানো ছাদটা হবার দিন থিকাই দমে ভালো লাগছেক, ছালিয়াটাও দমে খুশি, বুলছে, ‘মাগো, পাকাবাড়িতে থাকবক, দমে ভালো লাগবেক। ইখন থিকা আমি ভালো কুরে লিখাপড়া শিখব, না হুলে লোকে বুলবেক দালান বাড়িতে থাকে আর লিখাপড়া জানেক নাই, সিটা হবেক নাই।’ ছালিয়াটা লিখাপড়া শিখলে মানুষের মতন মানুষ হুবেক।” কথাটা বলেই রিলামালা আবার চ্যাটা বোনে আর গুনগুন করে গান করে। সেদিকে কালুর হুঁশ নেই।

কালুর মনে পড়ে দু’বছর আগেকার ঘটনা, একদিন সন্ধ্যায় গণেশকে নিয়ে বাপি এসে বললেন, “শোন্ কালু, তোদের পাড়ার পাঁচজনের পাকাবাড়ি করে দেবো, কাগজে সই করতে হবে, কালকে বাড়ির টেকসের রসিদটা নিয়ে সকালবেলা দেখা করবি।”

শুনে রিলামালা অবাক হয়ে বলে—“আমাদের পাকা বাড়ি হুবেক!”

বাপি—“হে হবে, তোরা পাকাবাড়িতে যাতে থাকতে পারিস তার ব্যবস্থাই করছি আমি।”

কালুও অবাক, প্রশ্ন করে, “সত্যি বলছেন বাবু!”

গনেশ বলে—“কাকা, সত্যিই বাবু তোমাদের পাকাবাড়ি করে দেবেন।”

কালু খুব খুশি হয়—“শুনে দমে ভাল লাগছেক, আপনি মানুষ লয় দেওতা আছেন বাবু।”

বাপি—“দেবতা নই। আমি তোদের মতই মানুষ, মানুষের কথা ভাবি। কালকে সকাল নটায় যাবি।”

রিলামালা আনন্দে আত্মহারা, কালুর হাত ধরে বলে—“ই খবর সুনায়ে দমে ভাল লাগছেক, দালান বাড়িতে থাকবক। তুমি আজই বড় লাল সাঁড়াটাকে মারে মাংস কুরে দাও। সাকরাতের (মকরসংক্রান্তির) জিল পিঠা (মাংসপিঠে) বানাবক, ছালিয়াটা অনেকদিন থিকাই মাংস খাবেক পিঠা খাবেক কুরছে, দমে খুশি হুবেক।”

সেদিন মাংসপিঠে হল, বাড়িতে যেন উৎসবের আনন্দ।পাশের বাড়িতেও আনন্দের ভাগ হিসাবে মাংসপিঠে পরিবেশিত হল।


পরের দিন বাপি সব কাগজপত্রে সই করিয়ে কালুকে আলাদাভাবে কাছে ডেকে আত্তে আত্তে বলেন—“শোন্ কালু, আমি যা বলছি সেটা কাউকে বলবি না এমনকি তোর বউও যেন জানতে না পারে। জানলে তোরই বড়ো ক্ষতি হবে। কথাটা হচ্ছে, আমি যেমন তোর উপকার করছি তেমনি তোকেও আমাকে মানে আমাদের দলকে সামান্য সাহায্য করতে হবে। বেশি নয় মাত্র পঁচিশ হাজার টাকা দিতে হবে। সেটা আমার হাতেই দিবি, অন্য কারও হাতে নয়। টাকা দু’বারে তোর একাউন্টে ঢুকবে, প্রথমে ঢোকার সাথে সাথে পনের দিবি পরে দশ, এটা তোর পকেট থেকে দিতে হচ্ছে না, যেটা পাবি সেটা থেকেই দিবি।”

কালু—“ই বাবু দিব, আপনি এত বড় উপকার কুরছেন, আমি দিবই দিব।”

বাপি—“একটা কথা, যে দোকান থেকে মালমশলা নিতে বলব সেখানেই নিবি। মনে থাকবে?”

কালু—“ই বাবু মনে থাকবেক।”

কালু কিছুদিন বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছিল বলেই সই করতে পারে। কাগজপত্রে সই করার চারমাসের মধ্যে অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকে। বাপির লোকই টাকা তুলতে সাহায্য করে। কথা মতো কালু পঁচিশ হাজারের মধ্যে পনের বাপিকে দিল, আর যে দোকান থেকে জিনিস-পত্র আনতে বলা হয়েছিল অন্যদের মতো সেই দোকান থেকেই নিয়ে আসে, কাজ শুরু হয়। সবাই খুব খুশি। কোথা থেকে ঘর করে দেওয়া হচ্ছে গনেশ ছাড়া অন্যরা জানে না। তবে সবারই ধারণা বাপি মিত্তিরই ঘর করার ব্যবস্থা করেছেন, সবাই বাপিকে খুবই মান্য করে। এরা শুনেছে যে একলাখ কুড়ি-ত্রিশ হাজারের মতো টাকা দু কিস্তিতে পাওয়া যাবে। পাকাঘর করার খরচ সম্পর্কে এদের কোনো ধারণা নেই।

দ্বিতীয় কিস্তি ঢোকার সময় বাপি গ্রামে না থাকায় কালুর বাকি দশহাজার টাকা তখন দেওয়া হয়নি। ছাদ ঢালাই এর সময় মিস্ত্রিদের টাকা দিতে গিয়ে সব টাকাই শেষ হয়ে গেল, ফলে বাপি ফেরার পরও কালু বাকিটা দিতে পারল না।

টাকার জন্য বাপি নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে।


কালুর অবস্থা অবসাদগ্রস্ত মানুষের মতো, ভেবে কুল পাচ্ছে না কী করবে। হঠাৎ মাথায় আসে ধানের বদলে ভানু ঘোষের থেকে টাকা নেওয়ার কথা, ভানুর ধানের খটি যেমন আছে তেমনি একজন মহাজনও। ভাবার সাথে সাথেই কালু গেল ভানুর খটিতে ভানু বৈঠকখানায় বসে একজনের সাথে হাসাহাসি করছিলেন। কালুকে দেখে জিজ্ঞেস করেন—“কে রে, সাঁওতাল পাড়ার কালু মুরমু না?”

ভানু বলেন—“বলে ফেল-”।

কালু আমতা আমতা করে একবার ভানুর দিকে আর পাশে বসা লোকটার দিকে তাকায়, বলে—“বলছেলম কি-“

কালুর ইতস্ততার কারণ বুঝতে পেরে ভানু বলেন—“এ আমার বিয়াই, ভয় নেই, যা বলার বলে ফেল। আমি তোদের জন্যেই আছি, কত দরকার?”

কালু—“একটুকুন বেশি লাগবেক, দশ হাজার।”

ভানু—“দশ হাজার! কী করবি? আবার বিয়ে করছিস নাকি?”

কালু—“না বাবু ঘরটার জুন্যে লাগবেক।”

ভানু—“তোর সোনাদানা, জমিজমা কিছুই নেই, সামান্য জমি ভাগে চাষ করিস, শোধ করবি কি করে?”

কালু—“পুস মাসে ধান দিয়া দিব।” 

ভানু—“পঁচিশ বস্তা ধান আর দুবিঘে জমি লাঙ্গল করে রুয়ে দিতে হবে, পুরো পঁচিশ বস্তা ধান না দিতে পারলে বলদ দুটো নিয়ে আসব, মনে থাকবে?”     

কালু—“হঁ বাবু তাই হবেক।”

কালুর মন একটু হালকা হয়েছে, বাপিকে টাকাটা যেমন দিয়েছে তেমনি কথা মতো ভানুর দু’বিঘে জমি রুয়েছে আর পঁচিশ বস্তা ধানও দিয়েছে। বাকি ধান আর গাইবাছুর বিক্রি করে কোনোভাবে বোসেদের ভাগের টাকাও দিল। পাড়ায় যাদের ঘর হচ্ছে আরও দু-এক জনের অবস্থা কালুর মতনই, ওরা কী খাবে সেটাই চিন্তার আর এদের বাড়ির কাজও বেশি এগোয়নি।

শীতের সকাল, কালু উঠানে বসে মাথায় হাত রেখে বসে ভাবছে সংসারটা কী করে চলবে। এমন সময় গাড়ির হর্ন শুনে রাস্তার দিকে তাকায়, দেখে বাপি বাড়ির সকলে হই-হই করতে করতে বড়ো গাড়ি করে ঘুরতে যাচ্ছেন। কালু তার করুণ অবস্থার কথাই ভাবছে, এমন সময় অনুভব করে রিলামালার আন্তরিক ও সমব্যথির কোমল স্পর্শ। ক্ষণিকের জন্য ভুলে যায় সব কিছু, গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু।

শেয়ার করুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.